শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

দুধ সংগ্রহ বন্ধ হওয়ায় বিপাকে খামারীরা

বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : “সামনে কোরবানির ঈদ। বাড়ির চারপাশেই থৈ থৈ করছে বন্যার পানি। প্রতিবছরই বন্যায়ই ঘাস ডুবে যাওয়ায় গবাদিপশু নিয়ে খুবই অসুবিধা হয়। নিজেরা দু’বেলা ঠিকমতো খেতে না পেলেও গরু-বাছুরের খাবারের অভাব দেই না কখনও। গরমে নিজেদের শোবার ঘরে ফ্যান না থাকলেও গরু-বাছুরের গোয়ালে ফ্যান ও মশারির ঘাটতি রাখি না। আশা ছিল দুধ বিক্রির টাকা হাতে পেলে সবাইকে নিয়ে কোরবানি করবো,” হতাশ কণ্ঠে এমনটাই জানালেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ি মিল্কভিটা নিয়ন্ত্রিত রাউতারা প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সাধারণ সদস্য পান্নু শেখ। একই কথা জানালেন ওই এলাকার অন্য দুগ্ধ খামারীরাও।
চলতি মৌসুমে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না উঠতেই মিল্ক ভিটার দুগ্ধ সংগ্রহ বন্ধের ঘোষণা যেন এখানকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারীদের ওপর ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’। কিন্তু সাধারণ খামারীদের অনেকেই জানেন না উচ্চ আদালতের নির্দেশনাটির নেপথ্যের ঘটনা। তারা জানেন না দুধ বিক্রি ও দুধ সংগ্রহের ক্ষেত্রে ৫ সপ্তাহের সাময়িক স্থগিতাদেশের কারণ।
সোমবার (২৯ জুলাই) সরেজমিনে শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ি এলাকায় গেলে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
শাহজাদপুরের পোতাজিয়া প্রাইমারী দুগ্ধ উৎপাদন সমবায় সমিতির সভাপতি ওয়াজ আলী বলেন, “আমাদের সমিতির সদস্য সংখ্যা সাড়ে তিনশ। গাভীর সংখ্যা প্রায় ২১ শ’।প্রতিদিন সাড়ে ৭ থেকে ৮ হাজার লিটার দুধ উৎপন্ন হয় এখানে। মিল্কভিটা হঠাৎ করে দুধ সংগ্রহ বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা বিপদে পড়েছি। রবিবার রাতে মিল্কভিটার চিঠি পেয়ে বিষয়টি অন্য খামারীদের জানিয়েছি। আমরা এখন দুধ কিনতেও পারছি না, বিক্রিও করতেও পারছি না। কিন্তু উৎপাদন তো আর থামিয়ে রাখা যায় না। দুধ পচনশীল। আমাদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেল।”
তিনি আরও বলেন,  সোমবার সকাল পর্যন্ত কোনোভাবে চললেও মঙ্গলবার থেকে দুধ ফেলে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। গরুর চিকিৎসায় এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে আমরা চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত দুধ উৎপাদন ও বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করি। যেসব ক্যাটেল ফিড খাওয়ানো হয় সেগুলোতে সীসা বা অন্য কোনো ক্ষতিকর বস্তু আছে কি না, তা সরকারের মনিটরিং করা উচিৎ।
এই খামারী জানালেন, সারা বছর ৩৫-৪০ টাকা দরে দুধ বিক্রি করলেও ঈদের সময় সাধারনত প্রতি লিটার দুধ ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি করা হয়। বাড়তি এ উপার্জন দিয়েই ঈদের খরচ যোগান এ এলাকার খামারীরা। কিন্তু হঠাৎ দুধ বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবার ঈদের আগেই তাদের ঈদ আনন্দ মাটি হয়ে গেছে।
এবিষয়ে বাঘাবাড়ি মিল্কভিটা সোস্যাইটির ব্যাবস্থাক অমীয় কুমার পাল ঢাকা বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরাও বিভ্রান্তিতে আছি।”
দুধ উৎপাদন ইউনিটের ব্যবস্থাপক ইদ্রিস আলী বলেন, আদালতের রায়ের বিষয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। রবিবারও সকাল ও বিকেল মিলিয়ে ৯২ হাজার লিটার দুধ খামারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এদিকে, পাস্তুরিত দুধ সংগ্রহ, ক্রয়-বিক্রয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাঘাবাড়িতে মিল্কভিটাসহ কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সোমবার বাঘাবাড়িতে দুধ কিনতে আসেননি। বিষয়টি নিয়ে খামারীরা ক্ষুব্ধ।”
উল্লেখ্য, প্রসঙ্গত, দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ও ক্ষতিকর উপাদান থাকায় রবিবার বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) এর লাইসেন্সপ্রাপ্ত ১৪ কোম্পানির দুধ উৎপাদন, বিক্রি, সরবরাহ, মজুদ ও ক্রয় পাঁচ সপ্তাহ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ