বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মীরসরাইয়ের কচুয়া গ্রামের কৃষকদের কচু চাষে সাফল্য

মীরসরাই: মীরসরাই উপজেলার মলিয়াইশের পথে পোদ্দার তালুক গ্রামে কচু বিক্রয়ের জন্য কচু ক্ষেতে ব্যস্ত কৃষকরা।

মোঃ ছায়াফ উল্লাহ, মীরসরাই থেকে: কচুর সুখ্যাতির জন্যই মীরসরাই উপজেলার দুই ইউনিয়নে ‘কচুয়া’ নামে দুটি ভিন্ন গ্রাম রয়েছে। ১১ নং মঘাদিয়া ও ১৪ নং হাইতকান্দি ইউনিয়নের এই দুটি গ্রামে এবারো লতিরাজ কচুসহ বিভিন্ন জাতের কচুর ফলনে সাফল্যে হাসি ফুটে উঠেছে কৃষকদের মুখে। আর এই কচু চাষ করে অনেক গ্রামে কচু আবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন শত শত কৃষক। উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের একটি ও হাইতকান্দি ইউনিয়নের একটি গ্রামের নামই কচুয়া। এই কচুয়া গ্রামের কয়েক শত পরিবার এই শ্রাবণ ভাদ্র মাসের বর্ষার দিনে ব্যস্ত থাকে শুধু বড় বড় বিশালাকার কচু ক্ষেত নিয়ে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একেক কচু চাষির ক্ষেত থেকে হাজার হাজার কচু তুলে নিচ্ছে কৃষকেরা। কোথাও কোমর পানি, কোথাও হাটুর উপরের পানিতে দাঁড়িয়ে জমি থেকে বড় বড় কচুগুলো কেটে, উপরের কিছু পাতা ছেটে বিশালাকার কচু পাকারে থেকে চলে যাচ্ছে ৫০-১০০টির আঁটিতে। সেখান থেকে সিএনজি বা ভ্যানে করে মহাসড়কের হাটে। সেখান থেকে পাইকারদের ট্রাকে চড়ে ঢাকা চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণীর হোটেল ও রেস্তোরায়। কচুয়া গ্রামের পাশাপাশি উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার প্রায় অনেক গ্রামে এখন কচু চাষ করছেন কৃষকরা। মীরসরাইয়ের আবাদকৃত কচুর যথেষ্ট সুনাম আছে। তাই এখানকার কচু বাজারে সমাদৃগ বেশ। মীরসরাই- মলিয়াইশ রুটের সড়করে পাশে নাজিরপাড়ায় পোদ্দার তালুক গ্রামের আবুল হোসেন ৩০ শতক জমিতে ৯ হাজার কচুর একাংশের উত্তোলন করছিল শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলম ও চান মিয়া সহ অনেকে। বৃদ্ধ চান মিয়া বলেন, প্রতিটি কচু পাইকারি ৩০-৪০ টাকা করে বিক্রয় হচ্ছে। মোট কচু বিক্রয় হবে এবার প্রায় দুই-তিন লাখ টাকার মত। তবে অর্ধেক চলে যাবে চাষাবাদ, শ্রমিক ও যাতায়াত ব্যয়ে। কচু পরিস্কারে ব্যস্ত হোসাইন মিয়া বলেন, ‘এখন শুধু এই গ্রামে না আসে পাশের সব গ্রামেই অনেক জাগয়া কচুর চাষ হচ্ছে। প্রতিদিন দিনভর কচু পরিস্কার করে বেঁধে নিয়ে সবাই পরদিন সকালে হাটে নিয়ে যায় পাইকারদের কাছে। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সুপারভাইজার কাজী নুর আলম জানান, মীরসরাইয়ের অনেক এলাকায় বর্ষাকালীন সময়ে কচু চাষের যথেষ্ট উপযোগী। এভার মীরসরাইতে প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে কচু আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে দেশী কচুর পাশাপাশি আমরা লতিরাজ নামের একটি কচু কৃষকদের ফলনের পরামর্শ দিয়েছি। যার সুফল এখন সংযোজন হচ্ছে। তবে উপজেলার মঘাদিয়া কচুয়া গ্রামে বেশি কচু আবাদ হয়ে থাকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ