বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুলনায় আবাসিক হোটেলগুলোতে কৌশল পাল্টে দেহ ব্যবসা

খুলনা অফিস : খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)’র গোয়েন্দা বিভাগ দেহ ব্যবসার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণার পর নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সম্প্রতি অভিযানে নগরীর ৭টি আবাসিক হোটেল থেকে খদ্দের ও যৌনকর্মীসহ ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমন অভিযান থাকায় আবাসিক হোটেলগুলো কৌশল পরিবর্তন করে অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন।
কেএমপি গোয়েন্দা সূত্র মতে, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)’র গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার বিএম নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি টিম নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে। গত কয়েকদিনে অভিযানে হোটেল টাইটান থেকে খদ্দের ও যৌনকর্মীসহ ১৪ জন গ্রেফতার হয়। এছাড়া হোটেল জেএইচ ইন্টারন্যাশনালে ৩ জন, হোটেল মৌসুমীতে ৩ জন, হোটেল খুলনা গার্ডেন ইন ৩, হোটেল নুরাইয়ান ৩, হোটেল স্বপ্নপুরি ৩ ও হোটেল সঙ্গীতায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে পুরুষ ও যৌনকর্মীরা রয়েছে। এর মধ্যে হোটেল ম্যানেজারও রয়েছে। গোয়েন্দার বিভাগের তালিকা অনুযায়ী নগরীতে ৫০-৬০টি আবাসিক হোটেল দেহ ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)’র গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার বি এম নুরুজ্জামান আবাসিক হোটেলে দেহ ব্যবসার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। অভিযানের পরেও আবাসিক হোটেলগুলোতে অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ না হলে হোটেলের মালিকদেরকে আইনের আওতায় আনারও ঘোষণা দেন। দেহ ব্যবসার বিরুদ্ধে তাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূলসহ খুলনায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। জানা গেছে, কেএমপি গোয়েন্দা বিভাগ দেহ ব্যবসার বিরুদ্ধে নগরীর আবাসিক হোটেলগুলোতে অভিযান পরিচালনা করায় হোটেল মালিকরা কৌশল পরিবর্তন করেছেন। পুলিশ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য ভুয়া কাবিননামা ও বিয়ের কাগজপত্র তৈরি করে এই দেহ ব্যবসা পরিচালনা করছেন। খদ্দের আর যৌনকর্মীকে স্বামী-স্ত্রী বানিয়ে রাতে হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। এছাড়া যৌনকর্মীকে আয়া ও বাবুর্চি সাজিয়ে এ ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে গেলে পুলিশকে হোটেল মালিকরা ভুয়া বিয়ের কাবিননামা দেখিয়ে দিচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে দেহ ব্যবসা পরিচালনার জন্য হোটেল ব্যবসায়ীদের এমন কৌশল বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়। এ সব হোটেলে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার ছাত্রীদেরকে নিয়ে দেহ ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। অনেক নারীকে ফাঁদে ফেলে এই পেশায় আসতে বাধ্য করা হচ্ছে। অনিরাপদ এ সব যৌনচার সামাজিকভাবে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ