মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ছেলেধরা ও গণপিটুনি আতঙ্ক

* পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জে একই দিন কয়েকটি ঘটনায় ছেলেধরা ও গণপিটুনি আতংক বিরাজ করছে। গতকাল ১২ ঘন্টার ব্যবধানে তিনজন গণপিটুনির শিকার হয়ে একজন নিহত এবং নারীসহ দুইজন আহত হওয়ার ঘটনায় বিভ্রান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তবে জেলা পুলিশ সুপার বিষয়টি গুজব হিসেবে উল্লেখ করে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, একটি কুচক্রী মহল এ ধরণের গুজব ছড়িয়ে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা করছে। তাদেরকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। গত শনিবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হয় বাক প্রতিবন্ধী যুবক সিরাজ। দুই ঘন্টার ব্যবধানে সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদি এলাকায় একই অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন মানসিক প্রতিবন্ধী নারী শারমিন বেগম। তিনি রাজধানীর কেরাণীগঞ্জের বাসিন্দা। একই দিন রাত নয়টার দিকে ফতুল্লা থানার লালখাঁ এলাকায় আবারো গণপিটুনির শিকার হয় রাজধানীর জুরাইন দরগা মোড় এলাকার বাসিন্দা ফুল বিক্রেতা রাসেল মিয়া। এক দিনে পর পর তিনটি ঘটনায় আতংকিত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তবে পুলিশের তদন্তে প্রমাণ হয়েছে তিনজনের একজনও ছেলেধরা ছিলেন না। ঘটনাগুলি একবারেই ছিল। প্রথমে অজ্ঞাত হলেও পরে পরিচয় পাওয়া যায়। নিহত সিরাজ মিয়া বধির (বাকপ্রতিবন্ধী) সিদ্ধিরগঞ্জের কলাবাগ সাইলোরোড এলাকার মোহর চানের বাড়ির ভাড়াটিয়া আব্দুর রশিদ মন্ডলের ছেলে। ময়না তদন্ত শেষে নিহত সিরাজের মরদেহ রবিবার দুপুরে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি করে। নিহত পরিবারের অভিযোগ পরকিয়া প্রেমিকের হাত ধরে তার ছেলের স্ত্রী সামসুন্নাহার সাত মাস আগে চলে গেছে। মেয়েকে খুঁজতে সেদিন ওই স্কুলে গিয়েছিল। তার স্ত্রী ছেলে ধরা বলে চিৎকার দেয়ায় স্থানীয়রা তাকে মারধর করে হত্যা করে।
অনাকাঙ্খিতভাবে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় উদ্বিগ্ন নারায়ণগঞ্জের অভিভাবক মহল। নিজের সন্তানকে নিয়ে বাইরে বের হওয়া ও স্কুলে আনা নেয়ার ব্যাপারেও আতংকিত তারা। গুজবে যে ভাবে পিটিয়ে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে আইনের চোখে সেটি অপরাধ। তবে মানুষকে সচেতন করতে যে প্রচারনা চালানো হচ্ছে তা জনবসতির তুলনায় খুবই কম। মানুষের সচেতনতা বাড়াতে মহল্লায় মাইকিং, মসজিদে মসজিদে এবং জুমার দিন খুতবাই প্রচারনা চালানোর দাবি স্থানীয়দের। এ ঘটনার জন্য তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি করেন। তাদের মতে পিটিয়ে হত্যা করা নিহত সিরাজ কেবল বাকপ্রতিবন্ধীই নয় সে নিরিহ ধরনের লোক ছিল। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিত অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে জনগণকে সচেতন করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সকাল থেকে ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। ছেলেধরা গুজবে কান না দিয়ে কোন তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর জন্য বলা হচ্ছে। প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে জানান, তিনটি ঘটনার পৃথক মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে জড়িত ১৪ জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তিনি সমাজের সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান।
কালিহাতী (টাঙ্গাইল): টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ছেলে ধরা সন্দেহে অজ্ঞাত এক যুবককে (৩২) গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। রোববার (২১ জুলাই) উপজেলার সয়া বাজারে দুপুর ২টায় সিএনজিতে ২ শিশুকে নিয়ে যেতে দেখে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা ওই যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। কালিহাতী থানার এসআই এস এম ফারুকুল ইসলাম জানান, রোববার (২১ জুলাই) উপজেলার সয়া বাজারে দুপুর ২টায় সিএনজিতে ২ শিশুকে নিয়ে যেতে দেখে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা ওই যুবককে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় অজ্ঞাত এক যুবককে (৩২) উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে।
ঠাকুরগাঁও: ছেলেধরা সন্দেহে সারাদেশে অভিভাবকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার (২১ জুলাই) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন করতে এবং এ ধরনের কোন কর্মকান্ডের খবর পেলে নিকটস্থ থানায় জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি আরো বলেন, গুজব ছরিয়ে একটি মহল জনগণের মধ্যে ভীতি সন্চার ও আইন শৃঙ্খলার অবনতি  ঘটানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। এতে ভবঘুরে ,নিরীহ ও অপরিচিত ব্যক্তি মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে । ছেলেধরা বিষয়টি নিছকই গুজব। এধরনের গুজবে কান না দেয়ার জন্য সকলকে বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানানো হলো । তাছাড়া এভাবে গুজব ছড়িয়ে নিরীহ ব্যাক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা ফৌজদারি অপরাধ। এই ধরনের ফৌজদারি  অপরাধ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদেরকে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। এই ধরনের গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসন যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ ধরনের কোন কর্মকান্ডের খবর পেলে নিকটস্থ থানায় জানানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে । এই বিষয়ে গনমাধ্যমকর্মীসহ  সকলের  সহযোগিতা  কামনা  করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ