শনিবার ২৩ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

অনলাইনে এমপিও আবেদন হলেও মাউশিতে শিক্ষকদের তদবির

খুলনা অফিস : বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ পাওয়ার জন্য হতে হয় এমপিওভুক্ত। বর্তমানে সবকিছু অনলাইনের মাধ্যমে করা হলেও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ে বেড়েছে শিক্ষকদের ভিড়। এমপিও’র জন্য শিক্ষকদের এমন ভিড় বলে স্বীকার করলেও উপ-পরিচালক শিক্ষকরা আসে কেন বলে উল্টে প্রশ্ন রেখেছেন। তবে তিনি এমপিও’র কাজে ব্যস্ত থাকেন বলে স্বীকার করেছেন।
জানা গেছে, শিক্ষকদের এমপিও বিষয়ে শিক্ষকদের ভোগান্তি কমাতে অনলাইনে করা হয়। আবেদন থেকে শুরু করে সবকিছুই করা হয় অনলাইনে। নিয়ম অনুযায়ী স্কুল-কলেজ থেকে উপজেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা থেকে জেলা শিক্ষা অফিস, জেলা থেকে আঞ্চলিক শিক্ষা অফিস, আঞ্চলিক শিক্ষা অফিস থেকে মাউশিতে ফাইল অনুমোদন করাতে হয়। অনলাইনের পাশাপাশি হার্ডকপিও জমা দিতে হয়। কিন্তু তাতে কী আবেদন দিয়েও যেন পার পাচ্ছেন না শিক্ষকরা। নিয়মিতই ধর্ণা দিতে হচ্ছে মাউশি উপ-পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের কাছে। এদিকে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী স্কুল সময়ে শিক্ষা অফিসে শিক্ষকদের না আসার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাও মানা হচ্ছে না খুলনার মাউশি আঞ্চলিক অফিসে।
সরেজমিন নগরীর নূরনগরস্থ মাউশি আঞ্চলিক কার্যালয়ে দুপুরে শিক্ষকদের ভিড় দেখা যায়। দপ্তরের উপ-পরিচালক নিভা রাণী পাঠকের আশপাশে বেশ কিছু শিক্ষক এমপিওভুক্তির জন্য ঘিরে বসে থাকতে দেখা যায়। এ সময় দপ্তরের প্রোগ্রামার সাইফুল ইসলামও এমপিও’র বিষয় নিয়ে উপ-পরিচালকের পাশে ছিলেন। এমপিও কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এমন কর্মকর্তাদের কক্ষ ছিলনা শিক্ষকবিহীন।
শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়া ও অনুমোদনহীন বিষয়ের শিক্ষক ও অন্যান্য ত্রুটি থাকলেও শিক্ষকরা এমপিও পেয়ে যান। আবার কাগজপত্র সঠিক থাকলেও পাওয়া যায় না এমপিও। এ জন্যই তদবির করতে হয় কর্মকর্তাদের। এমপিওর আবেদনে যা ত্রুটি নয়, তাও ত্রুটি হিসেবে ধরা হয়। পরে লেনদেনের মাধ্যমে আবেদনকারী এমপিও পেয়ে যান। ভুক্তভোগীরা ভয়ে অভিযোগ করেন না।
মাউশি’র প্রোগ্রামার সাইফুল ইসলাম বলেন, এমপিও’র সময় আসলে ভিড় বাড়ে অফিসে। আর আপনারাতো মনে করেন এমপিও’র জন্য ব্যবসা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নিভা রাণী পাঠকের কাছে জানতে চাইলে তিনি উল্টো প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন এই প্রতিবেদককে এমপিও’র আবেদন অনলাইনে হলেও শিক্ষকরা অফিসে আসেন কেন এটা তাদের কাছে শোনেন। স্কুল সময়ে শিক্ষকদের শিক্ষা অফিসে আসার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, হ্যাঁ, রয়েছে। বিষয়টি বাস্তবায়ন কতটুকু হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাস্তবায়ন পুরোপুরি হচ্ছে। আর এখন এমপিও’র কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি। আর কথা বলা যাবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ