সোমবার ৩০ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

সলঙ্গা-তাড়াশ সড়কের বেহালদশা সড়ক দুর্ঘটনায় জনভোগান্তি বাড়ছে

আব্দুস ছামাদ খান, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) থেকে : সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা-তাড়াশ সড়কটি দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার না করায় চলাচলের জন্য প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অত্যন্ত জনগুরুত্বপুর্ণ এসড়কটির অধিকাংশ স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। সামান্য বৃষ্টিতেই ওই সকল স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। প্রতিদিন ঝুকিপূর্ণ ভাবে চলছে যানবাহন। মাঝে মধ্যেই সড়কটিতে যাত্রী ও মালামাল বহনকারী যানবাহন উল্টে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। আর ভোগান্তিতে পড়ছেন ওই সড়কটি দিয়ে চলাচলকারি নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিনত হয়েছে। জানাযায়,হাজারো ইতিহাসের স্বাক্ষী ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সুঁতিকাগার গারুদহ নদীর তীরে অবস্থিত সলঙ্গা ছিলো এক সময়ের বৃহৎ নদীবন্দর। সলঙ্গা থানা সদরের হাটটি উত্তরবঙ্গের বৃহৎ হাট। এ বছর হাটটি ১ কোটি ১৭ লাখ টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছে। বহুলাংশে ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে সলঙ্গার। ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি বিলেতীপণ্য বর্জনে এই সলঙ্গাতেই সংঘটিত হয়েছিল মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক রক্তাক্ত সলঙ্গা বিদ্রোহ।সলঙ্গা থানা সদরে রয়েছে একটি অনার্স কলেজ, মহিলা কলেজ,ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসা,মহিলা মাদ্রাসা, সলঙ্গা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,সলঙ্গা ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়,সাব-রেজিষ্ট্রী অফিস,জনতা, অগ্রণী,গ্রামীণ,ইসলামী ব্যাংক,ভুমি অফিস,বিভিন্ন এনজিও অফিস, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ব্যবসা কেন্দ্র, সোম-বৃহস্পতি অবস্থিত হাটবারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সকল দিক থেকে অনেক জনগুরুত্বপুর্ণ ও সলঙ্গা থানা সদর ও জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার প্রধান হচ্ছে এই  সড়কটি। এ সড়ক দিয়ে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ রক্ষা করতে প্রতিদিন পার্শ্ববর্তী এলাকার শত শত মানুষ চলাচল করে থাকেন। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও সংস্কার করা হয়নি সলঙ্গা-তাড়াশ আঞ্চলিক এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি। সড়ক খারাপ হলেও প্রয়োজনের তাগিদে বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছেন শত শত মানুষ। ক্ষোভ প্রকাশ করে সলঙ্গা থানার সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান সরকার বলেন,সলঙ্গা ইউনিয়নের ভিতর দিয়ে অতিবাহিত জেলার মধ্যে অত্যন্ত জনগুরুত্বপুর্ণ সলঙ্গা-তাড়াশ সড়কের ঝুঁরঝুঁরি পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন যাবৎ সংস্কার না করায় একেবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সমস্ত সড়ক জুড়ে খানা-খন্দের কারণে প্রতিদিনই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনা এড়াতে তিনি সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান। সলঙ্গা অনার্স কলেজের ছাত্রী হেলেনা খাতুন জেরিন বলেন, গত ৫ বছর ধরে রাস্তাটির বেহাল দশা। আমরা প্রতিদিন নানা দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে কলেজে যাতায়াত করে থাকি। বৃষ্টির দিনে দুর্ভোগ পোহাতে হয় বেশী। ফলে আমাদের অনেকেরই কলেজে যাওয়া হয়ে ওঠে না। অথচ সড়কটি সংস্কারের জন্য নেই কোন উদ্যোগ । সলঙ্গার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফজলার রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,জনপ্রতিনিধিরা ভোটের সময় আসলেই জনগণের কাছে আসেন। কিন্তু গত ৫ বছর ধরে সড়কটির বেহালদশা। চলাচল করা যায় না। বৃষ্টি নামলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায় কিন্ত কেউ খবর নেয় না সড়কটির। সিএনজি চালক আতিকুল  ইসলাম বলেন, মহাসড়কে সিএনজি চলাচলে বিধি নিষেধ রয়েছে। আমাদের ভরসা এই সড়কটি,  কিন্ত দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতায় সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ভাঙ্গা সড়কে চলতে গিয়ে সময় বেশী লাগছে,  দুর্ঘটনা বাড়ছে এবং গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে।
বিশেষ করে সড়কের কুঠিপাড়া, বনবাড়ীয়া, চারাবটতলা, নলুয়াদিঘী, রৌহাদহ ও আমশড়া এলাকার একাধিক জায়গায় সড়ক ভেঙ্গে বড় বড় গর্তে পরিনত হয়েছে। সড়কের এ সকল জায়গায় এঅবস্থা দেখে মনে হয় এ যেন মরণফাঁদ। সর্বোপরি সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে প্রায়ই ঘটছে একটা না একটা দুর্ঘটনা। কাজেই ছোট-বড় দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে সড়ক যোগাযোগে বিপর্যয়ের আশংকা করছেন  পরিবহনের চালক আর যাত্রীরা। তাদের দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন সড়কটি সংস্কারের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ