বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : অবিশ্বাস্য! অদ্ভুত! অকল্পনীয়! সবই বলা যায় এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালটা। যারা খেলাটি দেখেছে তাদের অদিকাংশেরই পশম দাঁড়িয়ে গেছে। এমন ফাইনাল হবে কেউই ভাবেনি। এর আগে কেউ এমন ফাইনাল দেখেওনি। এ যেন রূপকথা। মূল লড়াই ‘টাই’। সুপার ওভারেও ‘টাই’। শেষে কোন দল বেশি বাউন্ডারি মেরেছে তা দেখে নিষ্পত্তি হলো শিরোপার। এতে জয় পেলো ইংল্যান্ড। এতে হারেনি নিউজিল্যান্ডও। ফাইনাল আসলে হয়েছেও ফাইনালের মতোই। তবে সব কিছু ম্লান করে দিয়েছে বিজয়ীর নিষ্পত্তির বিষয়টি।
আলাদা করা যায়নি ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডকে। এমনকি সুপার ওভারেও ছিল সমানে সমান। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করা হলো বাউন্ডারির সংখ্যা দিয়ে। এমন অদ্ভুত নিয়ম বেশ সমালোচিত হচ্ছে। রানার্স আপ নিউজিল্যান্ড কোচ গ্যারি স্টিড ও ব্যাটিং কোচ ক্রেইগ ম্যাকমিলানের মতে, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করাই হতো উপযুক্ত সিদ্ধান্ত। বিশ্বকাপে প্রথমবার ফাইনাল গড়ায় সুপার ওভারে, সেটাও ছিল রোমাঞ্চে ভরা। ইংল্যান্ড আগে ব্যাট করে ১৫ রান তোলে। নিউজিল্যান্ডও করে সমান রান। কিন্তু ৫০ ওভারের ইনিংসে সর্বাধিক ২৪টি বাউন্ডারি মারায় নিউজিল্যান্ডকে (১৬টি) হটিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের এমন নিয়মকে লজ্জাজনক বলেছেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। তবে স্টিড ও ম্যাকমিলানের কণ্ঠে একই সুর-ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডকে বিশ্বকাপ ভাগ করে দেওয়া হতো উপযুক্ত ফল। টিম হোটেলে মিডিয়ার সঙ্গে মত বিনিময়ের সময় কিউই কোচকে প্রশ্ন করা হয়, নিউজিল্যান্ডকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন করা হলে তিনি মানতেন কিনা? স্টিড বলেছেন, ‘সম্ভবত যখন আপনি সাত সপ্তাহের বেশি সময় ধরে খেলার পর ফাইনালের দিনও দুই দলকে পার্থক্য করা যায় না, তখন এটা (যৌথ চ্যাম্পিয়ন) করলে ভালো হতো।’ বিশ্বকাপের পরই চুক্তি শেষ হওয়া ম্যাকমিলান এ ব্যাপারে আরও অকপটে কথা বললেন।
সুপার ওভারও টাইব্রেক হওয়ায় ট্রফি ভাগাভাগি করা হতো সঠিক সিদ্ধান্ত। তিনি বলেছেন, ১৪ জুলাইয়ের ফল তো পাল্টানো যাবে না। কিন্তু এ ধরনের বড় টুর্নামেন্টে সাত সপ্তাহ পরও যদি ৫০ ওভারের ম্যাচ দিয়ে দুই দলকে পার্থক্য করা না যায় এবং সুপার ওভার দিয়েও, তখন আসলে কোনও দলই পরাজিত নয়। ট্রফি ভাগাভাগি করাই হতে পারতো সঠিক ফল। কিন্তু এটাই খেলা এবং এগুলোই নিয়ম।’ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে এমন ফাইনাল আগে দেখা যায়নি। দুই দলের নির্ধারিত ১০০ ওভারে ম্যাচ টাই হওয়ার পর সুপার ওভারেও টাই! বাউন্ডারিসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়েছে বিজয়ী দল। তবে এ নিয়মে আপত্তি তুলেছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। সে দলে যোগ দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের কোচ গ্যারি স্টেড ও ব্যাটিং কোচ ক্রেইগ ম্যাকমিলান। এভাবে চ্যাম্পিয়ন নির্বাচন করার চেয়ে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করলেই পারত আইসিসি, বলেছেন তারা। দুই দলের জন্য নির্ধারিত মোট ১০০ ওভার শেষে ম্যাচ টাই। খেলা তাই গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানেও শেষ বলটির পর ম্যাচ টাই! কিন্তু টাই হলেও জয়ের আনন্দ নিয়ে ছুটেছেন জস বাটলার। বেয়ারস্টো আর জো রুট মেতেছেন জয়োল্লাসে। লর্ডসের গ্যালারিতে ইংলিশ সমর্থকেরাও নিজেদের ঐতিহ্য গাম্ভীর্য ভুলে ভেসেছেন বিশ্বকাপজয়ের আনন্দে।
আসলে সুপার ওভারেও দুই দলের স্কোর সমান হলেও খুব অদ্ভুত একটি নিয়মের মারপ্যাঁচে পড়ে হার নিশ্চিত হয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের। সেটি সুপার ওভারের নিয়মের জন্য। সুপার ওভারে যদি দুই দল সমান রান করে, তখন বাউন্ডারির হিসাব চলে আসে। মূল ম্যাচ ও সুপার ওভার মিলিয়ে যে দল সবচেয়ে বেশি বাউন্ডারি মারবে, তারাই জিতবে সুপার ওভার। আর এ হিসাবে ইংল্যান্ড মেরেছে ২৪ বাউন্ডারি, নিউজিল্যান্ড ১৬টি। অর্থাৎ ইংল্যান্ডই জয়ী। অনেকেই বলছেন, এমন ম্যাচে আসলে কেউ হারেনি। অদ্ভুত বাউন্ডারি নিয়মে শিরোপা নির্দিষ্ট কোনো দলের হাতে তুলে না দিয়ে দুই দলকে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা উচিত ছিল।
কিউই কোচ গ্যারি স্টেডও আছেন এই দলে। আইসিসির উচিত ছিল দুই দলকেই যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা, বলেছেন তিনি, ‘যখন সাত সপ্তাহ ধরে দুই দল প্রচ- চ্যালেঞ্জিং একটা টুর্নামেন্ট খেলে এবং ফাইনাল ম্যাচের একশ’ ওভার ও সুপার ওভারের পরেও যখন দুই দলকে আলাদা করা না যায়, তখন এই বিষয়টা (ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড উভয়কে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা) আইসিসি চাইলে মাথায় রাখতে পারত।’ শ্বাসরুদ্ধকর এমন ম্যাচের পর স্টিড মনে করেন, যারা নিয়ম তৈরি করেছেন তারা হয়তো ভাবতে পারেননি ম্যাচটা এমন হবে, ‘পুরো টুর্নামেন্টের দিকে তাকালে অনেক কিছুই নতুন করে ভাবতে হবে। আমি নিশ্চিত ওরা যখন নিয়ম বানিয়েছে তখন ভাবতে পারেনি এমন একটা ফাইনাল হবে শেষ পর্যন্ত।’ তাই স্টিড আশা করছেন নিয়মটা পুনর্বিবেচনা করা হবে নতুন করে, ‘আমার মনে হয় এই নিয়ম নতুন করে ভেবে দেখা হবে।
তখন হয়তো আরও কৌশল সামনে চলে আসবে।’ ওভার থ্রোতে একটি রান বেশি দেওয়া হয়েছে ইংল্যান্ডকে- এমন বিতর্ক যখন তুঙ্গে কিউই কোচ বললেন, ‘আমি আসলে এ বিষয়টি ভালো করে জানি না। কিন্তু দিন শেষে আম্পায়াররাই কর্তৃত্ব করেন। তারাও মানুষ, ভুল হতে পারে কিন্তু তা ক্রীড়া ক্ষেত্রের মনুষ্য ঘটিত দিক হিসেবেই দেখা উচিত।’ প্রধান কোচের সঙ্গে একমত হয়েছেন ব্যাটিং কোচ ক্রেইগ ম্যাকমিলানও, ‘আমি বললেই তো আর খেলার ফলাফল পরিবর্তন হবে না। তবে সাত সপ্তাহব্যাপী এত বড় একটা টুর্নামেন্টের পর ফাইনালেও যখন দুটো দলকে আলাদা করা না যায়, তখন দুই দলকেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা যেত। এটাই হতো উপযুক্ত ফলাফল। এবার হয়নি সেটা। কিন্তু এটাই খেলা আর খেলার নিয়মগুলো আমাদের মানতে হবে।’
মার্টিন গাপটিল।  গত বিশ্বকাপে রেকর্ড গড়েছিলেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সেরা ব্যক্তিগত ইনিংস ২৩৭ রান উপহার দিয়েছিলেন। সবমিলিয়ে ৫৪৭ রান করে প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলেছিলেন নিউজিল্যান্ডকে। এক আসরে কিউইদের পক্ষে সর্বাধিক রান করা সেই ওপেনার মার্টিন গাপটিল নায়ক হয়ে গিয়েছিলেন। চার বছরের ব্যবধানে তিনিই এখন খলনায়কে পরিণত হয়েছেন। ফাইনালের শেষ ওভারে তার ওভার থ্রো থেকেই বাড়তি চার রান পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। দৌড়ে আরও দুই রান নিয়েছিলেন বেন স্টোকস ও আদীল রশিদ। ১ বল থেকে আসা সেই ৬ রানেই দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা হাত ফসকে গেছে কিউইদের। এই ৬ রান নিয়ে শুরু হয়েছে ধু¤্রজাল।
সাবেক বর্ষসেরা আম্পায়ার ও এমসিসির সাবকমিটি সদস্য সাইমন টফেলই প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, নিয়ম অনুসারে ৫ রান হওয়া প্রয়োজন ছিল। ১ রান বেশিই পেয়েছে ইংল্যান্ড। আর অনফিল্ড আম্পায়ারদের সেই ভুলটি না হলে হয়তো ১ রানের জয়ে ইংলিশদের পরিবর্তে শিরোপা ঘরে তুলতো নিউজিল্যান্ড।
সেমিতে গাপটিলের একটি দুর্দান্ত থ্রো তার সব ব্যর্থতাই ঢেকে দিয়েছিল। সেই থ্রোতে সরাসরি উইকেট ভেঙ্গে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে রানআউট করে দিয়েছিলেন। ফলে দ্বিতীয়বারের মতো সেমির লড়াইটা জিতে ফাইনালে উঠেছিল নিউজিল্যান্ড। গাপটিল কিন্তু সেই ম্যাচেও ব্যাট হাতে ব্যর্থ ছিলেন। কিন্তু দুর্দান্ত সেই থ্রো করা গাপটিল ফাইনালে এসে করলেন সবচেয়ে বাজে থ্রো। যেই থ্রো নির্ধারণ করে দিল জয়-পরাজয়। শেষ ওভারে ৬ বলে ১৫ রান দরকার ছিল ইংল্যান্ডের জেতার জন্য। ৩ বলে ৯ রান যখন দরকার পরে সেই সময় স্টোকস-রশিদ দুই রানের জন্য দৌড়েছেন, গাপটিল ভাল থ্রো করে উইকেটরক্ষকের কাছে দিতে পারেননি। রানআউট থেকে বাঁচতে ঝাঁপিয়ে পড়া স্টোকসের ব্যাটে লেগে বলটি চার হয়ে যায়। দৌড়ে ২ রান সম্পন্ন করেন স্টোকস-রশিদ। ফিল্ড আম্পায়ার কুমারা ধর্মসেনাই ৬ রানের সঙ্কেত দেন। কিন্তু সেই ওভার থ্রো থেকে হওয়া ৬ রান নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। সাবেক বিশ্বসেরা অস্ট্রেলিয়ান আম্পায়ার টফেল বলছেন ৫ রান হওয়া উচিত ছিল। ৪ রান বাউন্ডারি থেকে হয়েছে যা নিয়ে কোন সংশয় নেই। আর ব্যাটসম্যানরা দৌড়ে নেন ২ রান। আর এই ২ রান নিয়ে দানা বেঁধেছে বিতর্ক। কারণ আইন বলছে ওভার থ্রো অথবা ফিল্ডারের ইচ্ছাকৃত ঘটনায় বাউন্ডারি হলে রান যুক্ত হতে পারে পেনাল্টি থেকে, বাউন্ডারি থেকে এবং দুই ব্যাটসম্যান দৌড়ে যত রান নিয়েছেন সেখান থেকে। আর এই দৌড়ে রান নেয়ার প্রসঙ্গ নিয়েই বিতর্কটা জমে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আইন বলছে ঠিক থ্রোয়ের সময় যদি দুই ব্যাটসম্যান পরস্পরকে পার হয়ে যান তখনই কেবল সেই রানটি যুক্ত হবে স্কোরবোর্ডে। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে দ্বিতীয় রানের সময় গাপটিলের থ্রোয়ের মুহূর্তে দুই ব্যাটসম্যান পরস্পরকে অতিক্রম করেননি!
আবার স্টোকসের বেলায় যা ঘটেছে তার লিখিত কোন ব্যাখ্যাও নেই এই আইনে। কারণ ওভার থ্রোতে বাউন্ডারি স্টোকসের ব্যাটে লেগেই হয়েছে। আবার ব্যাটে না লাগলে তা হয়তো আঘাত করতে পারতো স্টাম্পেই! তখনও পুরোপুরি ক্রিজে পৌঁছাননি স্টোকস। তাই বিতর্ক থাকলেও আইনে একরকম অস্পষ্টতা রয়েই গেছে। বর্তমানে ক্রিকেট নীতি নির্ধারক প্রতিষ্ঠান এমসিসি সাব কমিটির সদস্য টফেল তাই বলছেন, ‘হিট অব দ্য মোমেন্টে তারা হয়তো ভেবেছে ব্যাটসম্যান পৌঁছে গেছে।
কিন্তু রিপ্লেতে কিন্তু আমরা দেখেছি বিষয়টা ভিন্ন।’ টফেলের কথায় মুহূর্তটি যথেষ্টভাবে ধরা গেলে সেখানে ৬ রান হতো না, হতো ৫টি রান। তাহলে শেষ বলে নন স্ট্রাইকে থাকতেন আদিল রশিদ! তাছাড়া ওই ১ রান কম হলে তো ম্যাচটি সুপার ওভারে গড়াতোই না, জিতে চ্যাম্পিয়ন হতো কিউইরা। গাপটিলও হয়তো এতটা খলনায়ক হতেন না, এত কষ্ট নিয়ে ঘরে ফিরতেন না। এ বিষয়ে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকেও প্রশ্ন করা হলে তিনি অস্পষ্ট ব্যাখ্যায় বলেন, ‘আপনি কিন্তু শুধু একটি বিষয়েই নজর দিতে পারেন না। যাতে মনে হচ্ছে এটাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছে। এখানে আরও অনেক  বিষয় আছে, যা ছিল অতি গুরুত্বপূর্ণ।’
উইলিয়ামসন তার দলের ওপেনারকে ‘শুলে’ না চড়াতেই হয়তো বিষয়টা এড়িয়ে গেছেন। কিন্তু গাপটিল নিজে ঠিকই তার দোষটা বুঝেছেন এবং ম্যাচ শেষে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন। বিভীষিকাময় একটি বিশ্বকাপ কাটিয়েছেন তিনি। পুরো আসরেই ব্যাট হাতে ব্যর্থ ছিলেন গাপটিল। ২০১৫ বিশ্বকাপে তার ৫৪৭ রান সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছিল কিউইদের প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার পেছনে। এমনকি ওয়েলিংটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অপরাজিত ২৩৭ রানের যে ইনিংসটি খেলেছিলেন তা ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড। আর বিশ্বকাপের এক আসরে দেশের পক্ষে তিনিই সর্বাধিক রানের রেকর্ডটাও গড়েন ৫৪৭ করে। সেই গাপটিল এবার অনেক অভিজ্ঞ ও পরিণত ক্রিকেটার হিসেবেই বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ছিলেন অন্যতম ভরসা হিসেবে। কিন্তু প্রথম থেকেই তিনি চরমভাবে ব্যর্থ। সব ম্যাচে তার ওপর আস্থা রেখেছিল নিউজিল্যান্ড দল। কারণ, যেকোন দিন দুর্দান্ত কোন একটা ইনিংস উপহার দেবেন গাপটিল। কিন্তু একটি ম্যাচে ফিফটি হাঁকাতে পেরেছেন শুধু। বাকি ম্যাচগুলোয় আগেভাগে সাজঘরে ফিরে দলকে বিপদে ফেলেছেন গোড়াতেই। ১০ ম্যাচে মাত্র ২০.৬৬ গড়ে ১৮৬ রান করতে পেরেছেন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ফাইনালের সেই নাটকীয় ‘ওভার থ্রোয়ের’ ঘটনা।
এদিকে সেই বিতর্কিত থ্রোয়ের ব্যাপারে মুখ খুলল আইসিসি।  ম্যাচের পর ওই ঘটনা প্রসঙ্গে একটি টুইট করেন পাঁচবারের বর্ষসেরা আম্পায়ার সায়মন টফেল। স্টোকসের দ্বিতীয় রান নেওয়ার আগেই গাপটিলের থ্রো করে ফেলায় ওই বলে ইংল্যান্ডের পাওয়ার কথা ছিলো পাঁচ রান, স্টোকসেরও তাহলে থাকতে হতো ননস্ট্রাইকে। টফেলের এই মন্তব্যের পর থেকেই ওই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনায়। এবার এ নিয়ে মুখ খুলল ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ওই ঘটনা নিয়ে আইসিসির এক মুখপাত্র বলেন, ‘আম্পায়াররা মাঠে নিয়ম সম্পর্কে তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন এবং আমরা নীতিগতভাবেই কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করতে পারি না।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ