শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

৪ দিনের ব্যবধানে ৬০ টাকা থেকে ২০০ টাকা কেজি 

নরসিংদী সংবাদদাতা: নরসিংদী সহ দেশের বিভিন্ন বাজারে কাঁচা মরিচের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র ৪ দিনের ব্যবধানে কেজি প্রতি কাঁচা মরিচের মূল্য বেড়েছে ১৪০ টাকা। বাজারে ৬০ টাকা কেজি দরের কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২শ' টাকা কেজি দরে। ৪ দিন আগে যারা কাঁচা মরিচ কিনেছেন কেজি ৬০ টাকায়, এখন সেই কাঁচামরিচ এখন কিনতে হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি। হঠাৎ কাঁচা মরিচের মূল্য এত বৃদ্ধির কারণ জিজ্ঞাসা করলে খুচরা বিক্রেতারা বলছে আড়তেই কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে। তারা আড়ত থেকে বাড়তি ধরে কিনে এনে স্বল্প লাভে বিক্রি করছে। পাইকারি বিক্রেতারা বলছে বৃষ্টির কারণে মরিচ ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে কাঁচা মরিচ আমদানি কমে গেছে। সেজন্য মরিচের দাম এতটাই বেড়েছে। সচেতন ক্রেতারা বলছে, বৃষ্টির কারণে মরিচ উৎপাদন কমে গেছে কথা সত্য কিন্তু সেই অজুহাতে মাত্র ৪ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ১৪০ টাকা মূল্য বৃদ্ধির কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। নিশ্চয়ই এর পেছনে রয়েছে মুনাফাখোরদের কালো হাত। দেশের সবচেয়ে কাঁচা মরিচ বেশি উৎপাদিত হয় বরিশাল ও ময়মনসিংহ এলাকায়। সেখানে এখনো বন্যা হয়নি কিংবা এতটা বেশি বৃষ্টি হয়নি। যশোর অঞ্চলেও প্রচুর পরিমাণে কাঁচামরিচ উৎপাদিত হয়। বৃষ্টির অজুহাতে মুনাফাখোর চক্র কাঁচা মরিচের মূল্য বাড়িয়ে সাধারন মানুষের পকেট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বেসরকারি হিসাব মতে দেশে ৩ কোটি ২৮ লাখ পরিবারে বছরে কমবেশি ৫ লাখ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচের চাহিদা রয়েছে। ৯০ দশকের উৎপাদনে রেকর্ড অনুযায়ী দেশের উৎপাদিত হয় ২ লক্ষাধিক মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ। ঘাটতি থাকে ৩ লাখ মেট্রিক টন। এই তিন লাখ মেট্রিকটন ঘাটতির কমবেশি এক ভাগ পূরণ করা হয় বাড়ির ছাদ বাগান ও পারিবারিক বাগানে বিভিন্ন জাতের মরিচ চাষ আবাদের মাধ্যমে। বাকি কাঁচা মরিচের ঘাটতি পূরণ হয় ভারত থেকে বৈধ অবৈধ পথে আমদানির মাধ্যমে। দেশের উৎপাদন ঘাটতি সুযোগে এক শ্রেণীর আমদানিকারক এবং মুনাফাখোর চক্র প্রতিবছরই নানা অজুহাতে কাঁচা মরিচের মূল্য বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। একইভাবে এ বছরও কিছু কিছু স্থানে বন্যা ও বৃষ্টিপাতের অজুহাতে হঠাৎ করে কেজি প্রতি কাঁচা মরিচের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে ১৪০ টাকা। একইভাবে অত্যাবশ্যকীয় মসলা, পেঁয়াজ রসুন, শুকনা মরিচ, এলাচ গোলমরিচ, আদাসহ বিভিন্ন মসলার দাম অস্বাভাবিক ভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।

যা কোনক্রমেই স্বাভাবিক হতে পারে না। কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন মসলাদীর এই অস্বাভাবিক মূল্য সাধারণ মানুষের পক্ষে কোনোক্রমে মেনে নেয়ার সুযোগ নেই। তাদের দাবি স্থানীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বিভাগ বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রকৃত সত্য বের করে মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ