মঙ্গলবার ০৩ আগস্ট ২০২১
Online Edition

পুলিশের টিআরসি (পুরুষ/নারী) পদে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা : চট্টগ্রাম জেলায় ১০৮৬ জন প্রার্থী প্রাথমিকভাবে মনোনীত

গত ৭ জুলাই বিকাল ৫টায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্স সিভিক সেন্টারে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার জনাব নুরেআলম মিনা ও বোর্ড সদস্যবৃন্দ।
প্রাথমিকভাবে চাকরির জন্য মনোনীত হয়েছেন ১০৮৬ জন। এরমধ্যে ৯২৮ জন পুরুষ ও ১৫৮ জন নারী সদস্য। চাকরির জন্য প্রত্যেক প্রার্থীকে খরচ করতে হয়েছে ট্রেজারী চালান বাবদ মাত্র ১০০ টাকা। এছাড়া আবেদন ফরম ফি বাবদ প্রদেয় তিন টাকা প্রার্থীদের পক্ষে নিজেই প্রদান করবেন মর্মে ঘোষণা দেন পুলিশ সুপার  নুরেআলম মিনা। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থীদেরই মনোনীত করা হয়। এমন দৃষ্টান্তমূলক স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও দূর্নীতিমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম জনাব নুরেআলম মিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়।
প্রকাশিত ফলাফলে সাধারণ কোটায় পুরুষ ৮২১ জন ও নারী ১৪৯ জন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পুরুষ ৭৯ জন ও নারী ০৫ জন, পোষ্য কোটায় পুরুষ ১০ জন ও নারী ০২ জন, আনসার কোটায় পুরুষ ১০ জন ও নারী ০১ জন, এতিম পুরুষ ০৩ জন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির পুরুষ-০৫ জন ও নারী ০১ জনকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে। অপেক্ষমান রাখা হয়েছে ১০ জনকে।
মনোনীতদের অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার বলেন- জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ইন্সপেক্টর জেনারেল বাংলাদেশ পুলিশ ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী এর নির্দেশনায় সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার মানদ-ে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। শুধুমাত্র মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই মনোনীত হয়েছেন।
আমরা ঘোষণা করেছিলাম, চাকরির জন্য সরকারি ফি’র অতিরিক্ত কোন ব্যয় করতে হবে না। কোন দালাল, প্রতারকের খপ্পরে না পড়তে বা বিশেষ কোন ব্যক্তির প্ররোচনায় বিভ্রান্ত হয়ে অর্থ লেনদেন না করতে আমরা প্রত্যন্ত এলাকায়ও মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও সচেতনতা সভা করেছি, আপনাদের অনুরোধ করেছি, সতর্ক করেছি এবং বারবার শপথ করিয়েছি। আমরা কথা রেখেছি, চাকরির জন্য কাউকে অর্থ দিতে হয়নি, তাই যারা চাকরি পাচ্ছেন, সততার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রাথমিকভাবে মনোনীতদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। দরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছেলে-মেয়েদের চাকরী দিতে পেরে আমি গর্ববোধ করছি।
উল্লেখ্য, প্রাথমিকভাবে মনোনীতদের মধ্যে কৃষকের সন্তান ৩০১ জন, গার্মেন্টস কর্মী/ রাজমিস্ত্রী /কাঠমিস্ত্রি/ জেলে/ কামার/ হকার/শ্রমিক/প্রহরীর সন্তান ১১২ জন, পিতৃহীন/পিতা অসুস্থ ১৬৭ জনের, রিক্সা/সিএনজি/ভ্যান চালকের সন্তান ৫৬ জন, দোকানদার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সন্তান ১৫৯ জন, প্রবাসী শ্রমিকের সন্তান ১০৩ জন, সরকারী-বেসরকারী চাকরীজীবীর সন্তান ১০৭ জন, শিক্ষকের সন্তান ১৯ জন, চাকরীরত ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশের সন্তান ৩৩ জন, মেকানিক/ গ্যারেজ কর্মী/ দর্জি/ নরসুন্দর/দোকান কর্মীর সন্তান ৩০ জন, পল্লী চিকিৎসকের সন্তান ০৭ জন ও গ্রাম পুলিশের সন্তান ০২ জন।
গত ০১ জুলাই ২০১৯খ্রি. তারিখে অনুষ্ঠিত শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষায় রেকর্ড সংখ্যক ৭,৫১৪ প্রার্থী অংশগ্রহণ করে। শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২৪২২ জন প্রার্থী ২ জুলাই লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। ০৬ জুলাই ২০১৯খ্রি. মৌখিক পরীক্ষা শেষে ১০৮৬ জন প্রাথমিকভাবে চাকরির জন্য মনোনীত হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ