বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরে রামহরি দাশ ২২ হাজার গাছের চারা রোপণ করার পরেও তার মূল্যায়ন হয়নি

মহেশখালী, কক্সবাজার সংবাদদাতা : সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এশিয়া বিখ্যাত মহেশখালীর ঐতিহাসিক আদিনাথ মন্দিরের মৈনাক পর্বতে ও মন্দিরের পূর্ব পাশে চরাঞ্চলে হাজার হাজার গাছ রোপন করে সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি সাগরের ভাঙ্গন থেকে মন্দির রক্ষায় অনন্য ভূমিকা রেখেছেন একজন সামান্য সরকারি কর্মচারী রামহরি দাশ। এরকম একটি অসাধারণ কাজ করেও আজো সরকারি ভাবে মূল্যায়ন সম্পর্কিত কোন স্বীকৃতি পায়নি রামহরি দাশ। অথচ তার জন্ম মহেশখালী নয়। চাকরির সুবাদে তিনি মহেশখালী এসেছিলেন। তার বাড়ী কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের আমজাখালী গ্রামে। স্বর্গীয় যুগল হরি দাশের পুত্র রামহরি দাশ। তিনি চাকরির সুবাধে মহেশখালীতে এসেই পূজো দিতে যান মহেশখালী আদিনাথ মন্দিরে। পূজো দিতে গিয়ে দেখেন যে, মন্দিরটি যে কোন মুহূর্তে সাগরের ভাঙ্গনের কবলে পড়তে পারে। তাই তিনি চিন্তা করলেন যে, মন্দিরটিকে সাগরের ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করতে হলে অবশ্যই গাছ লাগানোর মধ্যে দিয়ে প্যারাবন সৃষ্টি করতে হবে। চিন্তানুযায়ী রামহরি দাশ তার স্বল্প বেতন, আয়ের সকল অর্থ এবং স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রির টাকা খরচ করে আদিনাথ মন্দিরের পাশে চরাঞ্চলে সৃষ্টি করেন উপকূলীয় প্যারাবন। মহেশখালী আদিনাথ মন্দির সংলগ্ন আদিনাথ জেটির উত্তর পাশে যে প্যারাবনটি দেখা যায় তা রামহরি দাশের অবদান বলে জনশ্রুতি আছে। এছাড়াও রামহরি দাশ আদিনাথ মন্দিরের উন্নয়নেও জিপি ফান্ড থেকে ঋণ নিয়ে প্রচুর টাকা খরচ করেছেন বলে জানা গেছে। রামহরি দাশের মাধ্যমে প্যারাবন সৃষ্টির ফলে উপকূলীয় চরাঞ্চলে জেগে উঠেছে নদী প্রায় ৫ শত একর জমি। ৪১.৮৫ একর সরকারী খাস খতিয়ান, ৫০০ একর ভরাট জমি। এছাড়াও জেগে ওঠা জমি হতে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত ৬০ একর জমি। জনসাধারণের রক্ষা হয়েছে ৬০ একর এবং আদিনাথ মন্দিরের ৮০ একর জমি। রামহরি দাশের এ অনন্য অবদান আজো সরকারি ভাবে কোন স্বীকৃতি পায়নি। উল্লেখ্য যে, তিনি আদিনাথ মন্দিরের ন্যাড়া পাহাড়ে ১৯৯২ সালে বাগান তৈরি করার পাশাপাশি মন্দির সংলগ্ন পূর্ব পাশে চরাঞ্চলে ২২ হাজার বাইন গাছের চারা রোপন করেন। তিনি এগুলো রেক্ষণা বেক্ষণও করেন। ফলে আজ আদিনাথ জেটির পাশে শোভা পাচ্ছে অনন্য সৌন্দর্য্য। তার কারণেই এখানে জেগে উঠেছে নদী সিকস্তির প্রায় ৫ শত একর জমি। রামহরি দাশ আক্ষেপ করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতি বছর সরকারিভাবে বনানয়নের জন্য বাছাইকৃতদের পুরস্কার প্রদান করে থাকেন। এছাড়াও জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও পুরস্কার প্রদান করা হয়ে থাকে। 

অথচ এশিয়া মহাদেশ বিখ্যাত ঐতিহাসিক আদিনাথ মন্দির রক্ষায় এবং পরিবেশ রক্ষায় একক ভাবে নিজের চাকরি জিবনের সব টাকা, জিপি ফান্ডের টাকা ও স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রির টাকা খরচ করে ২২ হাজার বাইন গাছের চারা রোপন করলেও পুরস্কার তো দুরের কথা আজও কোন স্বীকৃতি পায়নি বলে জানান রামহরি দাশ। তিনি এব্যাপারে মহেশখালী কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, মহেশখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য আলহাজ্ব আনোয়ার পাশা চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ শরীফ বাদশা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জামিরুল ইসলাম সহ জেলা ও উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ