বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

নিরুৎসাহিত করে সিন্ডিকেটের হাতে নেয়ার পাঁয়তারা 

মাদারীপুর সংবাদদাতা :  মাদারীপুর জেলার ৪ উপজেলায় দ্বিতীয় পর্যায়ে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি বোরো ধান ক্রয়ে ধীরগতি ও নিরুৎসাহিত করে সিন্ডিকেটের হাতে নেওয়ার পায়তারা চলছে। ফলে ধান উৎপাদনকারী প্রকৃত কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের জন্য সরকারের দেওয়া প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হবে তারা।এতে লাভবান হবে মধ্যসত্বভোগী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় পর্যায়ে মাদারীপুর সদর গুদামে ২২০ মেট্রিক টন, চরমুগরিয়া গুদামে ১৯৯ মে.টন, রাজৈর গুদামে ৫৪২ মে.টন, কালকিনি গুদামে ৪৭৫ মে.টন ও শিবচর গুদামে ২৭৭ মে.টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এসব ধান সরাসরি কার্ডধারী কৃষকের কাছ থেকে প্রতিকেজি ২৬ টাকা দরে প্রতিজনের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৩ মে.টন এবং সর্বনি¤œ ১২০ কেজি ধান সংগ্রহ করা যাবে। জেলায় দ্বিতীয় পর্যায়ে বরাদ্দ আসলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন উপজেলার খাদ্য গুদামে উপরোল্লিখিত বরাদ্দ প্রদান করেন। গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) পর্যন্ত সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মাদারীপুর সদর ও চরমুগরিয়া গুদামে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি বোরো ধান ক্রয় করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন পরিবহনে ধান নিয়ে কৃষকরা লাইন দিয়ে অপেক্ষা করছেন।  মাদারীপুর সদর গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান খান জানান, তার গুদামে প্রথম পর্যায়ে লক্ষমাত্রা পুরণের পর দ্বিতীয় পর্যায়ে গত ৪.জুলাই ২২০ মে.টন ধান ক্রয়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তিনি ৭ জুলাই থেকে সংগ্রহ শুরু করে মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় ১৫০ মে.টন ধান সংগ্রহ করেছেন। অপরদিকে চরমুগুরিয়া গুদামে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে বরাদ্দ প্রদান করা হয় ৩১২ মে.টন যার মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত ক্রয় করা হয়েছে ২৩০ মে.টন। এদিকে শিবচর গুদামে দ্বিতীয় পর্যায়ে বরাদ্দ প্রদান করা হয় ২৭৭ মে.টন যার মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ৫ মে.টন। রাজৈর গুদামে দ্বিতীয় পর্যায়ে বরাদ্দ ৫৪২ মে.টন। মঙ্গলবার পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে ৮১ মে.টন এবং কালকিনি গুদামের দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪৭৫ মে.টন বরাদ্দের বিপরিতে মঙ্গলবার পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে ১৬৬ মে.টন।  খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কালকিনি রাজৈর ও শিবচর গুদামে কৃষকদের নিকট থেকে সরাসরি বোরো ধান সংগ্রহে কৃষকদের বিভিন্নভাবে নিরুৎসাহিত করে পরবর্তীতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পাইকার বা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে টার্গেট পুরণ করা হবে। এতে ধান উৎপাদনকারী কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সরকারের কৃষকদের জন্য দেয়া প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হবে প্রকৃত কৃষক আর লাভবান হবে মধ্যসত্বভোগী। সিন্ডিকেটের কথা অস্বীকার করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: শেফাউর রহমান বলেন, ‘কিছু অনঅভিপ্রেত ঘটনার কারণে কোন কোন গুদামে সংগ্রহ অভিযানে দেরি হচ্ছে। তবে যেহেতু আগস্ট মাস পর্যন্ত সময় আছে এর মধ্যে সবার টার্গেট পুরণ হবে আশা করছি। সমস্যা হচ্ছে কৃষকদের তালিকা করার দায়িত্ব কৃষি বিভাগের। তাদের তালিকা যথাযথ না হলে সিন্ডিকেট করতে পারে মধ্যস্বত্বভোগী এক শ্রেণী। তালিকা যথাযথ না হলে কৃষক তাদের কার্ড সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যবহার করে কিছু নগদ সুবিধা নিতে পারে কাজেই কৃষি বিভাগ যদি প্রকৃত ধান উৎপাদনকারীদের তালিকা করে তাহলে কিন্তু সিন্ডিকেট করেও কোন লাভ হবে না।’ 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ