বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

উপমহাদেশে বন্যায় নিহত শতাধিক

১৬ জুলাই, রয়টার্স : ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশজুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাতে দেখা দেওয়া বন্যায় প্রায় ৪৫ লাখ লোক বাস্তুচ্যুত ও শতাধিক লোক নিহত হয়েছে। 

এ অঞ্চলগুলোর মধ্যে ভারতের আসাম ও বিহার রাজ্যে বন্যা সবচেয়ে ভয়াবহ আকার নিয়েছে বলে গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে বার্তা সংস্থা।

গত ১০ দিন ধরে টানা পানি বাড়তে থাকায় আসামে প্রায় ৪৩ লাখ লোক ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। বিহারে রাস্তা ও রেললাইন পানিতে তলিয়ে গেছে। লোকজন সহায়-সম্বল মাথায় নিয়ে বুক সমান পানি ভেঙে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে যাচ্ছে, টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এমন দৃশ্য দেখিয়েছে।  

প্রতি বছর দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যার কারণে বহু লোককে ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়, অনেক লোকও মারা যায়। চলতি বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে নিহত ও উদ্বাস্তু লোকজনের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

সোমবার রাতে আসামে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি আরও বেড়েছে। হিমালয় থেকে নেমে আসা এ নদী ভারতের আসাম হয়ে বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে সাগরমুখি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদীগুলোর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে।  

বন্যায় বিরল এক শৃঙ্গী গন্ডারের আবাসস্থল আসামে কাজিরাঙ্গা ন্যাশনাল পার্কের অধিকাংশ ডুবে গেছে। সোমবার ওই এলাকায় চার জন ডুবে মারা গেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

এক সংবাদ সম্মেলনে আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানান্দ সানোয়াল রাজ্যর ৩৩টি জেলার মধ্যে ৩১ থেকে ৩২টি বন্যাক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন। পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত সঙ্কটজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।

ঘরবাড়ি ছেড়ে যারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আসছেন তাদের জন্য অস্থায়ীভিত্তিতে ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কাজ চালাতে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

যে কোনো সময় ব্যবহারের জন্য বিমান বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে রাজ্যটির পানি সম্পদমন্ত্রী কেশব মোহন্ত জানিয়েছেন।   

আগামী দুই দিন আসাম ও বিহারে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবাহওয়া দপ্তর।

প্রতিবেশী নেপালের অধিকাংশ জেলায় ভারি বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ৬৪ জন নিহত ও ৩১ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।  

দেশটির দক্ষিণপূর্ব অংশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কোসি নদীর পানি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে বলে স্থানীয় এক জেলা কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এই নদীটি নেপাল থেকে নেমে বিহার হয়ে গঙ্গায় গিয়ে পড়েছে।

সুনসারি জেলার সহকারী প্রশাসক চিরঞ্জিবী গিরি রয়টার্সকে বলেছেন, “আমাদের বিশ্লেষণ বলছে, এখন বিপদ কেটে গেছে, নদীর পানি কমে আসছে।”

বাংলাদেশে বন্যার কারণে এক লাখ ৯০ হাজার লোককে ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়েছে বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কক্সবাজার জেলায় এক লাখেরও বেশি লোক ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। এই জেলাতে প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়ে আছে।  

জুলাই থেকে বন্যা ও ভূমিধসে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে কয়েক হাজার আশ্রয়স্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত সপ্তাহে ভূমিধসে এখানে দুটি শিশু মারা গেছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ