রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সাজাপ্রাপ্তদের পরিবারের সাথে বিএনপির ছয় সংসদ সদস্যের মতবিনিময়

* রায় নিয়ে সংসদে আলোচনা করার আশ্বাস
পাবনা থেকে সংবাদদাতা : বিএনপি দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্যরা (এমপি) পাবনার ঈশ্বরদীতে শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে বোমা হামলা ও গুলীবর্ষণের ঘটনায় ফাঁসি, যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পাওয়া নেতাকর্মীদের পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে দেখা করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের নেতৃত্বে জাতীয় সংসদের ছয়জন এমপি ঈশ্বরদীর সাহাপুরে বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের বাড়িতে দ-প্রাপ্তদের স্বজনদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন ও মতবিনিময় করেন।
এ সময় তাঁরা দ-িতদের পরিবার ও স্বজনদের উচ্চ আদালতে আইনি সহায়তা প্রদান ও ফরমায়েশি  রায় নিয়ে সংসদে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধিদের দলের সদস্য ছিলেন আমিনুল ইসলাম, (চাঁপাইনবাবগঞ্জ- ২), হারুনুর রশিদ  (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩), গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (বগুড়া-৬), মোশাররফ হোসেন (বগুড়া-৪), জাহিদুর রহমান (ঠাকুরগাঁও-৩) ও সংরক্ষিত নারী আসনের (ব্রাক্ষণবাড়িয়া-৫০) বারিষ্টার রুমিন ফারহানা। এছাড়া পাবনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান, প্রাক্তণ সংসদ সদস্য আব্দুল বারী সরদার, কেএম আনোয়ার হোসেন, বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান মাষ্টার, আসামী পক্ষের আইনজীবী মাসুদ খন্দকারসহ জেলা, উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের বিএনপি অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় বিএনপির সহআন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় এমপি রুমিন ফারহানা তাঁর বক্তব্যে বলেন, আওয়ামী লীগ জনবিচ্ছিন্ন ও সুবিধাভোগী দল। তাদের সঙ্গে এখন আর জনগণ নেই। শুধু পুলিশ ও প্রশাসন আছে। আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ এখন পুরো বাংলাদেশ। তিনি বলেন, তিনি নিজে একজন আইনজীবী। ঈশ্বরদীতে যে ঘটনার মামলায় ফাঁসি, যাবজ্জীবনসহ সাজা হয়েছে তা হওয়ার কথা নয়। কারণ ওই ঘটনায় কেউ আহত, খুন বা জখম হয়নি। অথচ এভাবে মামলা-হামলা ও সাজা দিয়ে শেখ হাসিনার সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে। তিনি বলেন, শুধু বিএনপি নয়, বহু সাধারণ মানুষ আজ গুম হয়ে যাচ্ছে। এসব করে এ সরকার আর বেশিদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন হাবিবুর রহমান হাবিব।   
হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে দলীয় ছয় এমপি ঈশ্বরদীতে এসেছেন সাজাপ্রাপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সহযোগিতা করার জন্য। তারেক রহমান লন্ডন থেকে প্রতিনিয়ত এ বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন ও নির্দেশনা দিচ্ছেন। অবশ্যই আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তাদের জেল থেকে মুক্ত করা হবে। 
১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈশ্বরদী সফরে  গেলে তাঁর ট্রেনবহরে গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনা ঘটে। প্রায় ২৫ বছর পর গত ৩ জুলাই পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ৯ জনের ফাঁসি, ২৫ জনের যাবজ্জীন ও ১৩ জনের দশ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড ও অর্থদ-ের রায় দেয়। সাজাপ্রাপ্ত সবাই ঈশ্বরদী বিএনপির নেতাকর্মী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ