সোমবার ৩০ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন

আবছার উদ্দিন অলি : বর্ষাকালে পাহাড় ধসে প্রতি বছর বহু লোকের প্রাণহানি ঘটে এটি এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানব বন্ধন, বিবৃতি, তদন্ত কমিটি, শোক-সভা নানা কর্মসূচীতে এ সমস্যা সীমাবদ্ধ হয়ে আছে। নেই কোন বাস্তবসম্মত উদ্যোগ, এভাবে প্রতিবছর লাশের মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। কিন্তু আর কত প্রাণ যাবে। ইতিমধ্যে অস্থায়ী ভাবে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের তাবুতে আনার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তাতে তেমন সাড়া মিলছে না। ছিন্নমূল দরিদ্র পরিবারদের আবাসন সংকট ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে, সরকারের খাস ভূমিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অথবা দাতা সংস্থার মাধ্যমে সরকারী উদ্যোগে বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে সহজ ও সহনীয় কিস্তিতে ছিন্নমূল বাস্তহারা ভূমিহীন স্বল্প আয়ের পরিবারদের স্থায়ী পূর্ণবাসন করলে এই জাতীয় সমস্যার সমাধান সম্ভব। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকার ছিন্নমূল বাস্তহারা নিম্ন আয়ের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্থায়ী পূর্ণবাসনের জন্য সু-নির্দিষ্ট কোন প্রস্তাবনা গ্রহণ না করায় বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারী পরিবারদের জানমালের রক্ষার্থে কোন উদ্যোগ স্থায়ী হয় না। বর্ষাকাল চলে গেলে এ বিষয়ে প্রশাসনের স্থায়ী সমাধানের কার্যক্রম থাকে না। বর্ষা এলে তোড়জোড় শুরু হয় কিন্তু পরক্ষনেই ভূলে যায় সব ঘটনা। বর্তমান সরকার পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের জীবন রক্ষায় যে ভূমিকা গ্রহণ করেছেন, তা প্রশংসার যোগ্য।
নগরীতে এই ছিন্নমূল পরিবারদের পরিবেশসম্মতভাবে বসবাস করার সুযোগ না পাওয়ার কারণে প্রতি নিয়ত বেড়ে চলেছে সামাজিক অবক্ষয় আইন শৃঙ্খলার অবনতি, অপরাধ প্রবণতা সহ নানান অনৈতিক কার্যকলাপ। এর ধারাবাহিকতার অগ্রসর হচ্ছে আগামী প্রজন্ম। ফলে নগরায়নে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টির পাশাপাশি হুমকির সম্মুখিন হচ্ছে পরিবেশ।  প্রভাবশালী একটি চক্র সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার ভূ-সম্পদ জবর-দখল করে তাদের অপতৎপরতা চালিয়ে অপরাধ প্রবণতায় উৎসাহ দিচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা উন্নতির জন্য এই গোষ্ঠীর পূর্ণবাসন প্রয়োজন। ভূমি দস্যুদের হাতে চলে যাওয়া সরকারের ভূমি উদ্ধার, বৃহৎ জনগোষ্ঠীর আবাসন সমস্যা সমাধান এতে রাষ্ট্রের রাজস্ব আদায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ধসে জানমাল ক্ষয়-ক্ষতি থেকে রক্ষা সহ সার্বিক উন্নতি ঘটবে।
স্বল্প আয়ের কর্ম ও শ্রমজীবি পরিবারদের জনসংখ্যা এবং তাদের প্রতিদিনের যে আয়, সেই আয় দিয়ে পরিবারের বরণ পোষন দেওয়ার পর সিটি কর্পোরেশনের স্থায়ী বাড়ীর যে হারে ভাড়া তা দিতে অপারগ। তাই তারা সরকারী ভূমিতে দখল করা ভূমিদস্যুদের ঘরে কম ভাড়ায় ভাড়াটিয়া। এতে এক শ্রেণীর বেআইনী ভূমিদস্যু বছরকে বছর সরকারী ভূমিতে জমিদারি ভূমি দখল বেচা কেনা করে। আর রাষ্ট্রের ভূমি বেদখল হচ্ছে। রাষ্ট্র রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তরিকভাবে চাইলে চট্টগ্রাম পাহাড়ের পাশে যে পরিবার গুলো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে তাদের সহ চট্টগ্রামের প্রায় লক্ষাধিক পরিবার পূর্ণবাসন করা সম্ভব। আমাদের দেশে আবাসনের যে সংকট এবং ভূমির আয়তন এতে কোন শ্রেণী বা ব্যক্তির নামে ভূমি বণ্টন করে সমস্যা সমাধান করা যাবে না। ভূমিহীন ছিন্নমূল বাস্তহারাদের নামে ভূমি বণ্টন করে সারাদেশে বরাদ্দ দিয়েও শেষ করা যাবে না। সরকারী উদ্যোগে বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে সহজ ও সহনীয় কিস্তিতে এই সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। উল্লেখ্য ইতিমধ্যে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় চট্টগ্রামে কিছু প্রকল্প করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকার প্লট বরাদ্দ দিলেও তা তারা রাখে নাই। একত্রে নগদ টাকার আশায় বিত্তশালীদের কাছে বিক্রি করে এরা আবার পূর্বের অবস্থানে চলে আসে। এ জন্য এই প্রকল্প করার সাথে ক্রয়-বিক্রি করলে উভয়ের বিরুদ্ধে সাজার বিধান রেখে আইন প্রণয়ন করা। এই ভূমিগুলো সুবিধাবাদী লোভী মহলের হাত হওয়ার পূর্বে জরুরীভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ