সোমবার ৩০ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

পাঠ্যসূচি প্রসঙ্গ

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ১২ জুলাই এক বিবৃতিতে বলেছেন, ২০১৩ সালে শিক্ষার আধুনিকায়নের নামে নবম-দশম শ্রেণি থেকে শুরু করে মাস্টার্স শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ে ডারউইনের ‘বিবর্তনবাদ’ শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি আমাদের গোচরে এসেছে। আমরা দেখেছি, এর আগে ২০১২ সাল পর্যন্ত একই বইগুলোতে এই ‘বিবর্তনবাদ’ পাঠ্য ছিল না। এই শিক্ষার মাধ্যমে ৯২ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত দেশের কোমলমতি লাখ লাখ মুসলিম শিক্ষার্থীর মননে মহান আল্লাহর প্রতি গভীর বিশ্বাসকে ঘোরতর সন্দিহান ও ভঙ্গুর করে নাস্তিক্যবাদে তাদের উদ্বুদ্ধ করার শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। বিবৃতিতে পাঠ্যবইয়ে ‘বিবর্তনবাদ’ অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদ জানিয়ে জুনায়েদ বাবুনগরী ইসলামী আকিদা-বিশ্বাস ও জাতিবিনাশী এই শিক্ষা অবিলম্বে বাতিল ও নিষিদ্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।
শুধু ধর্মীয় কারণে নয়, বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ হিসেবেও আমরা পাঠ্যবই থেকে ‘বিবর্তনবাদ’ বাদ দেয়ার দাবিকে সমর্থন করছি। ‘বিবর্তনবাদ’ আসলে বিজ্ঞানের নামে এক বড় ভুল। এমন ভুল মেনে নেয়া যায় না। ভুলের দৌরাত্ম্য শুধু রাজনীতি, প্রশাসন ও সমাজেই চলছে না; বিজ্ঞানের জগতেও লক্ষ্য করা যায় বড় ভুল। প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস রবার্ট ডারউইনের ‘বিবর্তনবাদ’ তত্ত্ব বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল বলে দাবি করেছেন ভারতের এক মন্ত্রী। গত ২১ জানুয়ারি ভারতের এনডিটিভি পরিবেশিত খবরে বলা হয়, স্কুল ও কলেজের টেক্সটবুক থেকে এই তত্ত্বটি সরানো দরকার বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের জুনিয়র শিক্ষামন্ত্রী সত্যপাল সিং। তিনি আরো বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা কোথাও উল্লেখ করেননি যে, তারা একটি বনমানুষকে (শিম্পাঞ্জি) মনুষ্য সন্তানে রূপান্তরিত হতে দেখেছেন। পৃথিবীতে মানুষ আসার পর থেকে তারা সবসময় মানুষই ছিল।
ডারউইনের ‘বিবর্তনবাদ’ তত্ত্বটি বৈজ্ঞানিকভাবে ভুল, এ কথা কিন্তু মন্ত্রী সত্যপাল সিং প্রথম বলেননি। বহু আগে থেকেই বিজ্ঞানীরা তার এই তত্ত্বকে নিছক কল্পনা হিসেবেই বিবেচনা করেছেন। এই প্রসঙ্গে আমরা Lauis pasteur, Alexander oparin, Jeffrey Bada, Fred Hoyle এবং william Philip, Christian Anfinsen, Charles Fownes, Weghner, Alexander Flemming সহ নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত বহু বিজ্ঞানীর নাম উল্লেখ করতে পারি- যারা ডারউইনের ‘বিবর্তনবাদ’ তত্ত্বকে ভুল মনে করতেন। ডারউইন নিজেও তার মূল থিসিসে বর্ণনা করে গেছেন যে, যদি কোনো Intermediate Fossil না পাওয়া যায়, তবে তার তত্ত্ব মিথ্যা প্রমাণিত হবে। তিনি ধারণা করতেন ভবিষ্যতের বিজ্ঞানীরা তার ধারণাকে সত্য প্রমাণিত করতে পারবে। পরবর্তীতে ‘বিবর্তনবাদীরা’ প্রায় ১৪০ বছর ধরে Geological Layers-এ অনুসন্ধান চালান। কিন্তু তারা Intermediate Fossil আবিষ্কার করতে সক্ষম হননি। বরং তারা দেখতে পান ‘Missing Fossil’ অর্থাৎ তারা Link খুঁজে পাননি। ফলে ডারউইন বিবর্তনের ধারায় এককোষী প্রাণী থেকে শিম্পাঞ্জি হয়ে মানব অস্তিত্বের যে তত্ত্ব তুলে ধরতে চেয়েছেন তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। বিষয়টি এখন কল্পনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
আমরা মনে করি, ভারতের মন্ত্রী টেক্সটবুক থেকে ‘বিবর্তনবাদ’ তত্ত্বটি বাদ দেয়ার যে প্রস্তাব করেছেন তা যথার্থ হয়েছে। পৃথিবীর প্রধান প্রধান ধর্মগুলোতে তো প্রথম মানুষ হিসাবে হযরত আদম (আ.)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আর তিনি তো কোনো এককোষী প্রাণী বা শিম্পাঞ্জি থেকে উদ্ভূত হননি। প্রথম থেকেই তিনি মানুষ ছিলেন, কারণ মহান আল্লাহ তাঁকে মানুষ হিসাবেই সৃষ্টি করেছেন। মানব সন্তানদের ‘বিবর্তনবাদ’ পড়ে সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। তাই পাঠ্যপুস্তক থেকে ‘বিবর্তনবাদ’ বাদ দেয়ার দাবি জানিয়ে জুনায়েদ বাবুনগরী সময়ের দাবি পূরণ করেছেন বলে আমরা মনে করি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ