মঙ্গলবার ২৪ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের নিয়ম নিয়ে ক্ষোভে ফুসছে ক্রিকেট বিশ্ব

স্পোর্টস ডেস্ক : রোববার বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ফাইনাল দেখেছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। রানের ভিত্তিতে দুই দলকে আলাদা না করা গেলেও আইসিসির অদ্ভুত নিয়মে শেষ হাসি হাসে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। আর এই নিয়ম নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। প্রথম ১০০ ওভার ও সুপার ওভারও নির্ধারণ করতে পারল না বিশ্বকাপ জয়ীকে। ম্যাচ টাই হওয়ার পর সুপার ওভারে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড উভয়েই ১৫ রান করায় টুর্নামেন্টের আইনের পাতায় চোখ পডল।আইসিসির ১৪৩ নম্বর পাতায় সুপার ওভার নিয়মে বলা আছে, ফাইনালে এই ওভারও যদি টাই ভাঙতে না পারে, তাহলে যে দল ম্যাচে বেশি বাউন্ডারি মেরেছে, তারাই ট্রফির মালিক হবে। এই নিয়মেই ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ঘরে তুলল ইংল্যান্ড। তবে এই নিয়মের দিকে আঙুল তুলেছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।ফাইনালে ২৬টি চার মেরেছে ইংলিশরা। আর কিউইরা ব্যাটসম্যানরা মেরেছে ১৭টি বাউন্ডারি। সেই হিসেবেই জয়ী হিসেবে ঘোষিত হয় ইংল্যান্ড। এই নিয়মকে ভয়াবহ বলে মত পোষণ করে টুইটারে ঝড তুলেছেন বেশ কয়েকজন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ। কেউ বলছেন, এই নিয়ম নিষ্ঠুর। আবার কারও মতে এটা হাস্যকর।

এবারই প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনাল সুপার ওভার পর্যন্ত গড়াল। আবার সুপার ওভারও টাই হল। ফলে এই অদ্ভুত নিয়মের কথা জানাই ছিল না সিংহভাগ ক্রিকেটপ্রেমীর। ফলে এই কিম্ভূতকিমাকার নিয়মের প্রয়োগ দেখেও হতবাক তারা।ম্যাচে দুদল কোনোভাবেই একে অপরকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে রাজি নয়, তাদের পার্থক্য গড়ে দেবে বাউন্ডারির সংখ্যা! তাও আবার বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে। ভাবা যায়!

সাধারণ দর্শকদের মতোই হতবাক সাবেক ক্রিকেটাররাও। অবাক ভারতের মোহাম্মদ কাইফ, রোহিত শর্মা, গৌতম গম্ভীর, অস্ট্রেলিয়ার ব্রেট লি, ডিন জোনস, নিউজিল্যান্ডের স্কট স্টাইরিসের মতো সাবেকরা। সরাসরি আইসিসির সমালোচনা না করলেও, ঘুরিয়ে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থাকে একহাত নিয়েছেন তারা।

নিউজিল্যান্ডের সাবেক অলরাউন্ডার স্টাইরিস অনেকটা কটাক্ষ করে টুইটারে লিখেছেন, ‘নাইস ওয়ার্ক আইসিসি! আপনারা আসলেই রসিক!!! অস্ট্রেলিয়ান ডিন জোন্স লিখেছেন, ‘ডিএল পদ্ধতিতে আসলে রান এবং উইকেটের উপর ভিত্তি করেই হার-জিত হয়। তবে ফাইনালের মতো ম্যাচের ফলাফল বাউন্ডারির উপর নির্ভর করে? দেখতে মহান হতে পারে! তবে আমার মতে, এটা ন্যায্য না।’ মোহাম্মদ কাইফ বলেছেন, ‘এই বাউন্ডারি নিযম হজম করা কঠিন। এটা হঠাৎ মৃত্যুর মতো কিছু – ফলাফল না আসা পর্যন্ত ক্রমাগতভাবে সুপার ওভার চালিয়ে যাওয়াই ভালো সমাধান। বুঝলাম, একটি নির্দিষ্ট বিজযী চান কিন্তু বাউন্ডারিতে ফলাফল নির্ধারণের চেয়ে ট্রফি ভাগ করে দেয়াটা অনেক ভালো। নিউজিল্যান্ডের জন্য ব্যাপারটা খুবই কঠিন।’ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান স্কোরার রোহিত শর্মার মন্তব্য, ‘ক্রিকেটের কিছু নিযম অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।’ গৌতম গম্ভীর বলেন, ‘বুঝতেই পারছি না বিশ্বকাপের মতো ফাইনাল কীভাবে বাউন্ডারির হিসাবে ফয়সালা করা হয়। এটা আইসিসির একটি হাস্যকর নিয়ম। এই ম্যাচ টাই হওয়া উচিত এবং শিরোপা ভাগাভাগি হওয়া উচিত।’তবে সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকরা সমালোচনা করলেও এই বিষয়ে কোনো মন্তব্যই করেননি নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। তিনি শুধু বলেছেন, নিয়মটা আগে থেকে ছিল, কিন্তু কখনো কাজে লাগেনি। এবার শুরু হল।’ এ নিয়েই প্রশ্ন তোলে বসেছেন খোদ অস্ট্রেলিয়ার পেস কিংবদন্তি ব্রেট লি। সোশ্যাল মিডিয়া টুইটারে তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ডকে অভিনন্দন। দুর্ভাগ্য নিউজিল্যান্ডের। তাদের জন্য সমবেদনা। বিজয়ী বেছে নিতে এটি খুব বাজে পদ্ধতি। এ নিয়ম পাল্টাতেই হবে। এখন সেটি না বলে থাকতে পারছি না।

পাকিস্তানের সাবেক পেসার শোয়েব আখতার টুইট করেন, ‘ওহ ঈশ্বর! বিশ্বকাপ ফাইনালে কী দারুণ এক ম্যাচ। ভালো হতো শিরোপা যদি দু'দলই ভাগ করে নিত। ম্যাচ টাই আবার সুপার ওভারেও টাই। ইংল্যান্ড বেশি বাউন্ডারি মারার জিতেছে। লর্ডসে অনবদ্য এক দৃশ্য।’এদিকে জনপ্রিয় ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়া ম্যাচ শেষেই জানান, ‘জীবনের সেরা ওয়ানডে ম্যাচ দেখলাম। বিশ্বকাপের সেরা ফাইনাল। এর ধারে-কাছেও কিছু নেই।’ অন্যদিকে আরও এক বিখ্যাত ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে লেখেন, ‘শেষ বলে রানআউট! আড় কখনো কোনো বিশ্বকাপ ফাইনালে এমন কিছু ঘটবে না।’ ম্যাচ শেষে বিশ্বকাপ জয়ী ইংলিশ ওপেনার জেন রয় টুইট করেন, ‘এটাই ক্রিকেট!’ আর হেরে বেদনায় বিমর্ষ কিউই অলরাউন্ডার জিমি নিশাম লেখেন, ‘অনেক কষ্ট দিলো। আমার মনে হয়না আগামী কয়েক দশকেও আমি এই ম্যাচের শেষভাগ ভুলতে পারবো না।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ