বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বিশ্বকাপ থেকে ভারতের বিদায় প্রসঙ্গ

এবারের বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট থেকে ভারতের এই বিদায় ক্রিকেট বিশ্বে প্রচন্ড আলোড়ন তুলেছে। কারণ, এবারের বিশ্বকাপে ভারত শুধু ফেভারিট ছিল না, ছিল হট ফেভারিটও। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং-এর প্রতিটি বিভাগেই ভারতের ক্রিকেটাররা ছিল অসাধারণ। সে কারণে এবার শুরু থেকেই ক্রিকেটবোদ্ধারা ভারতকে এক নম্বরে রেখেছিলেন। তারা বলেছিলেন, ভারতই ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ জিতে নেবে। একই কারণে সেমি ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে ভারতের পরাজয়কে একটি বড় ধরনের ‘অঘটন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। 

কিন্তু তা সত্ত্বেও খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়টি হলো, ভারতের এই পরাজয়ে একমাত্র ভারতীয়রা ছাড়া অন্য কোনো দেশের মানুষকে দুঃখিত হতে দেখা যায়নি। ক্রিকেট বিশ্বের সব দেশে বরং খুশির জোয়ার বয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষও আনন্দ প্রকাশ করেছেন। রাজধানী ঢাকার পাড়া-মহল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমনকি আনন্দ মিছিল পর্যন্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ঈদ মোবারক’ জানিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অনেকে! 

প্রতিবেশি ও ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ ভারতের পরাজয় ও বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা থেকে বিদায়ে বিশেষ করে বাংলাদেশের এমন প্রতিক্রিয়া বিস্ময়কর ও অস্বাভাবিক মনে হলেও এর পেছনে কিন্তু অনস্বীকার্য কিছু কারণ রয়েছে। বাংলাদেশকে পদে পদে বাধাগ্রস্ত করে সেমি ফাইনালে যেতে না দেয়ার ছক করা একটি প্রধান কারণ। এই অভিযোগের পক্ষে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ভারতের রাজনীতির কথা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। কারণ, এবারের বিশ্বকাপের শুরু থেকেই বাংলাদেশ সফলতা দেখিয়ে এসেছে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী জয় এবং অর্জিত পয়েন্টের ভিত্তিতে বাংলাদেশের শীর্ষ চার দলের অবস্থানে উঠে যাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। ২ জুলাই অনুষ্ঠিত ভারত ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ পর্যন্ত অবস্থা এমন ছিল যে, হারলে ইংল্যান্ড যেমন পিছিয়ে পড়তো তেমনি আবার বাংলাদেশ যেতো এগিয়ে। এরপর ভারতকে হারাতে পারলে বাংলাদেশের সেমি ফাইনালে খেলা নিশ্চিত হতো। শুধু তা-ই নয়, কারো কারো হিসাবে ভারতকে হারানোর চাইতেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে উঠতে পারতো ভারতের কাছে ইংল্যান্ডের পরাজয়। 

অন্যদিকে ঠিক এ পর্যায়ে এসেই অবাঞ্ছিত কিছু ঘটেছে বলে মনে করছে মানুষ। যারাই ভারত ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ দেখেছেন তাদের সকলেই একবাক্যে বলেছেন, ইংল্যান্ডের কাছে ইচ্ছা করেই হেরে গেছে ভারত। পর্যালোচনায়ও দেখা গেছে, ভারতীয়রা বোলিং এবং ফিল্ডিং-এর উভয় ক্ষেত্রেই অত্যন্ত ঢিলেঢালা ছিল। দেখে মনেই হয়নি যে, তারা ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী কোনো দলের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছে। ভারতীয়দের এই ‘ছাড়’-এর সুযোগ নিয়েই ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা ৩৩৭ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন।

জবাবে বিস্ময়কর ছিল ভারতীয়দের ব্যাটিং। ৫০ ওভারের ম্যাচে সাধারণত প্রথম ১০ ওভারেই যতো বেশি সম্ভব রান ওঠানোর চেষ্টা করেন ওপেনাররা। অন্যদিকে ভারতের সাড়া জাগানো ব্যাটসম্যান রাহুল আউট হয়েছেন শূন্য রানে। পরের দু’জন রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলী মিলেও ১০ ওভারে ৩০ রানের বেশি করেননি। সন্দেহও তখনই ঘনীভূত হয়েছিল। এ সন্দেহকেই দৃঢ়ভিত্তি দিয়েছিলেন বিশেষ করে এম এস ধোনিÑ যাকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যান বলা হয়। পাঁচ-পাঁচটি উইকেট হাতে থাকতেও তিনি এমনভাবে খেলছিলেন যেন ওটা কোনো পাঁচদিনের টেস্ট ম্যাচ ছিল! বোঝাই যাচ্ছিল, অন্তরালে কোনো বিশেষ আয়োজন ছিল বলেই ধোনি ‘ছক্কা’ মারার চেষ্টা পর্যন্ত করেননি। তিনি বরং সময় পার করেছেন। এজন্যই ইংল্যান্ডের কাছে হেরে গিয়েছিল ভারত।

অন্যদিকে ইংল্যান্ড জেতার ফলে ভারতসহ সারা বিশ্বেই সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী এবং ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইনসহ প্রায় সকলেই বলেছেন, পাঁচটি উইকেট হাতে থাকার পরও ধোনি কেন কচ্ছপ গতিতে খেলেছেন এবং ভারতীয়রা কেন ম্যাচ হেরে গেছে তা নিয়ে ভাবতে হবে। তারা আরো বলেছেন, পাঁচটি উইকেটসহ সকল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ৩০৬ রানে থেমে যাওয়ার পরিবর্তে ভারতীয়রা যদি ৩০০ রানে অল আউটও হয়ে যেতো তাহলেও আপত্তির কারণ ঘটতো না। উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডের কাছে ভারতের এই পরাজয়ের সমালোচনা করতে গিয়ে একথা পর্যন্ত বলা হয়েছিল যে, ভারত ‘অনেক কষ্ট করে স্বেচ্ছায়’ হেরে গেছে! বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডকে জিতিয়ে দেয়ার মাধ্যমে ভারত আসলে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নষ্ট করেছে। কারণ, অর্জিত পয়েন্ট অনুযায়ী দুটি দেশেরই সেমি ফাইনাল পর্যন্ত ওঠার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু ইংল্যান্ড জিতে যাওয়ায় এবং ভারতের কাছে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশের সম্ভাবনা নস্যাৎ হয়ে গিয়েছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ