বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ধলাইয়ের গর্জনে কোম্পানীগঞ্জবাসীর মধ্যে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বিরাজমান

কবির আহমদ, সিলেট : সিলেটের সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া ধলাই নদী বর্ষাকালে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। খরস্রোতা এই নদীর এমন রূপ এর আগে কখনও দেখেন নি কোম্পানীগঞ্জবাসী। আষাঢ়ের প্রচণ্ড বৃষ্টিতে ও পাহাড়ি ঢলে গত রোববার ও সোমবার দুই দিনে প্রাণ গেলো ৬ জনের। ধলাইয়ের গর্জনে সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। ৬ জনের তাজা প্রাণের মৃত্যুতে সিলেটেও শোকের প্রভাব বিরাজ করছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলাটির অন্যতম আকর্ষণ সাদাপাথর নামক পর্যটন কেন্দ্র। প্রকৃতি কন্যা জাফলং ও বিছানাকান্দি ঘুরতে আসলে দেশের লাখো পর্যটক কোম্পানীগঞ্জে সাদা পাথর না দেখে যাননি। একটি পর্যটন এলাকার সাথে যেন আরেকটি পর্যটন এলাকার এতো সুন্দর মিল দেশে আর কোথাও দেখা যায়নি। কিন্তু এই পর্যটন এলাকাগুলো আজ পর্যটকদের কাছে মৃত্যুর কূপ মনে হচ্ছে। ভয়ে উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় হাজারো পর্যটক আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটের বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অবস্থান করছেন।
গত রোববার বন্ধুদের সাথে এই সাদাপাথরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়েছিলেন সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটির ছাত্র হাসানুর রহমান আবীর। তিনি সিভিল ইঞ্জিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী।
দুপুর ১টার দিকে আবীর ধলাইতে নেমেছিলেন সাঁতার কাটতে। হঠাৎ স্রোতের টানে ভেসে যান তিনি। ডুবুরিদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
একই দিনে খরস্রোতা ধলাইতে পৃথক নৌকা ডুবির ঘটনায় আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার ভোরের দিকে রাজনগর এলাকায় বালুভর্তি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় নাঈম হোসেন ও জমির হোসেন নামক ২ বালু শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
শুধু শ্রমিক আর প্রাপ্ত বয়স্করাই নয়, ধলাইর নির্মমতায় দুই শিশুর জীবনহানীর ঘটনা ঘটেছে রোববার। সকাল ১১টার দিকে টুকেরবাজার এলাকায় ধলাইর বুকে একটি খেয়া নৌকা ডুবে যায়। এসময় দুই শিশু নিখোঁজ হয়। রাত পর্যন্ত ডুবুরিরা চেষ্টা করেও তাদের উদ্ধার করতে পারেন নি।
এই ৫ জনের করুণ মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই গত সোমবার দুপুর ১টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নতুন বাজার ও বাংকারের মাঝামাঝিতে মরা ধলাই নদীতে খালি বলগেট নৌকার ধাক্কায় বালু বোঝাই আরেকটি বলগেট নৌকা ডুবে যায়।
এসময় ৩ জন মাঝি লাফ দিয়ে নিরাপদে গেলেও ভিতরে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন একজন। তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার কোম্পানীগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ নৌ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এক চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নাম মো. হাবিব উল্লাহ খাঁন। তিনি মেডিকেল কলেজের সার্জারী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।
গত সোমবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে নগরীর বাগবাড়িস্থ শামিমাবাদ এলাকার ১২ নম্বর বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই বাসা ভাড়া নিয়ে একা বসবাস করতেন।
জানা গেছে, হাবিব উল্লাহ খান গত সোমবার সারাদিন তার কর্মস্থলে না আসায় মেডিকেল কর্তৃপক্ষ তার বাসায় খুঁজতে গিয়ে মৃতদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন।
সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত ক্যাম্প পুলিশ ইনচার্জ ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ