শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

অবিরাম বর্ষণে পানিবন্দী চট্টগ্রাম॥ পাহাড় ধসের আশঙ্কা

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে পানিবদ্ধতার চিত্র -সংগ্রাম

চট্টগ্রাম ব্যুরো : মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে গতকাল মংগলবারও চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে নগরবাসী ভোগান্তি পোহাচেছ। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট পানিবদ্ধতায় গতকাল মংগলবারও চরম ভোগান্তিতে পড়ে বাকলিয়া, মুরাদপুর, ষোলশহর, চাক্তাই, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, বেপারী পাড়া সহ আশেপাশের এলাকার মানুষ। আবহাওয়া অধিদফতর বলছে,চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিপাত আগামী ২৪ ঘন্টায় অব্যাহত থাকতে পারে। পানিবদ্ধতায় বৃহওর চট্টগ্রামের অনেক এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে বৃষ্টিপাতের কারণে গত ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কার্যত অচল হয়ে আছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অভিমুখী দু’টি সড়ক। পুলিশ জানিয়েছে, ভারি বৃষ্টিতে পানি জমে এবং উন্নয়নকাজের জন্য খোঁড়া গর্তের  কারণে সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে এই অচলাবস্থা। দুই সড়কের কয়েকটি পয়েন্টে পরিস্থিতি এমন, এক কিলোমিটার পার হতেই সময় লাগছে কমপক্ষে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। এতে এসব পয়েন্টের দুইপাশে শত, শত গাড়ির জ্যাম তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় গত দু’দিন ধরে সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পারা অনেক যাত্রীকে রেখেই ফ্লাইট চলে গেছে গন্তব্যে। বিমানযাত্রীদের দুর্ভোগ তো আছেই, ওই এলাকায় কারখানা-অফিসে কর্মরতরাও পড়েছেন ব্যাপক ভোগান্তিতে।
এদিকে   ভূমিধসের আশংঙ্কায় পাহাড়ের পাদদেশে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাসরত ৭০০ পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। সোমবার রাত পর্যন্ত এসব পরিবারের প্রায় ২ হাজার মানুষকে জেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে পরিচালিত বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবারও মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাসরতদের নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছে।
জানা গেছে, ভূমিধসের সতর্কতা জারির পর শনিবার ৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে চালু করে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি নগরীর সরকারি ও বেসরকারি মালিকানাধীন ১৭টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাসরত কয়েক হাজার লোকজনকে সরাতে মাইকিং ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বৃহওর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতে পানিবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে বান্দারবান থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে,টানা পাঁচদিনের ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে বান্দরবান- কেরানীহাট সড়কের বাজালিয়ার বড় দুয়ারা-কলঘর এলাকায় রাস্তা। ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকে বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। উজানের ঢলে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নিরাপদ স্থানে সরে যেতে শুরু করেছে প্লাবিত এলাকাসহ আশপাশের মানুষ। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নদীর পানি বিভিন্ন ঝিরি ছড়া দিয়ে প্রবেশ করে বান্দরবান শহরের অফিসার্স ক্লাব, শেরেবাংলা নগর, সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী এলাকাসহ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার মানুষ বিভিন্ন স্কুলে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নিয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রের মানুষের মাঝে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরন করা হয়েছে। ভারি বৃষ্টিতে বান্দরবান জেলায় ছোট বড় প্রায় শতাধিক পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে শহরে প্রশাসন এবং পৌরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে চন্দনাইশ থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে,গত তিন দিনের টানা বর্ষণে চন্দনাইশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় শঙ্খনদের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নদীর পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করার আশংকা করা হচ্ছে। ফলে নদীর উপকূলবর্তী দোহাজারী পৌরসভা, বৈলতলী, বরমা, বরকল, সাতবাড়িয়া, পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন কালিয়াইশ, মাইঙ্গাপাড়া, ধর্মপুরসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভয়াবহ বন্যা আতংকে রয়েছে। উপজেলার নিম্নাঞ্চলসমূহের বিস্তীর্ণ বর্ষাকালীন সবজি ক্ষেত পানিতে ডুবে রয়েছে। এতে ক্ষেত নষ্ট হয়ে কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে। কিছু কিছু এলাকায় আউশ ধানের বীজতলাও পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। উপজেলার নিম্নাঞ্চলের হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। উপজেলার হাশিমপুর বড়পাড়া পাঠানীপুল এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ডুবো ডুবো অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় রাতে মহাসড়ক ডুবে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। এছাড়াও উপজেলার নিম্নাঞ্চলের গ্রামীণ সড়কগুলো ডুবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উপজেলার কোথাও কোথাও বিস্তীর্ণ আউশের বীজতলাও পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি মৎস্য প্রকল্প ডুবে মাছ ভেসে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে বাশঁখালী থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে,বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গত তিনদিনের টানা বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে সব্জি ক্ষেত ও পুকুর ডুবে গিয়ে মাছ চাষীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে  । অপরদিকে ভারী বর্ষণ আরো দীর্ঘায়িত হলে পাহাড় ধসেরও সম্ভাবনা রয়েছে।   পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পেয়ে ছড়ার কুল ভেঙ্গে লোকালয়ে ঢলের পানি ঢুকে পড়েছে। চাম্বল, শীলকূপ, কালিপুর, বৈলছড়ি, সাধনপুর, পুকুরিয়া এলাকায় নিম্নাঞ্চলে ঢলের পানি জমে মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। পুকুরিয়া চাঁনপুর চৌমুহনীতে  ঢলের পানি প্রধান সড়কের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়েছে  পাহাড়ের ঢলের পানি প্রধান সড়কের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টির শুরু থেকে শেষ হওয়ার ৩ ঘন্টা পর্যন্ত ঢলের পানি চলাচল করে থাকে। কালিপুর ইউনিয়নের কৃষক নেজাম উদ্দীন জানান, টানা বৃষ্টিতে কাকরল, ফল, ও জিঙ্গা, বরবটি, ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সেখেরখীল ইউনিয়নের লবণ চাষি আবুশামা জানান, লবণ উৎপাদনে বৃষ্টির পানিতে উৎপাদিত লবণের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। লবণ উৎপাদিত এলাকার চাষিরা ক্ষতির সম্মুখিন হয়ে পড়েছে। বৈলছড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন চৌধুরী জানান, এই এলাকায় সবজি  ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাহাড়ী এলাকায় লোকজনকে নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হবে।
এদিকে রাংগুনিয়া থেকে প্রাপ্ত খবওে জানা গেছে,রাংগুনিয়ার পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতির শতাধিক লোককে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে এনেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান সরেজমিনে পরিদর্শন করে পাহাড়ে ঝুঁকিতে বসবাসরত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।   সোমবার বিকালে প্রবল বৃষ্টিপাত উপেক্ষা করে তিনি উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের বগাবিলি ও ইসলামপুর ইউনিয়নের মঘাইছড়ি ও গাবতলী পাহাড় পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ বসতির লোকজনকে সতর্কতা জারি করেন। অনেককে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আসতে বাধ্য করেন।   ফায়ার ব্রিগেডের কর্মীরা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানগণ পাহাড়ে বসতির লোকজনকে সরিয়ে আনতে সহায়তা করেন। রাজানগর ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শামশুল আলম জানান, ইউনিয়নের বগাবিলি পাহাড় এলাকা থেকে সরিয়ে আনা অর্ধশত মানুষকে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদেরকে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা করা হয়েছে। আরও অর্ধশতাধিক মানুষকে পাহাড় থেকে সরিয়ে এনে তাদের আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে আশ্রয়ে দেয়া হয়েছে। ইসলামপুর ইউপি সচিব সাজ্জাদ ইকবাল জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ প্রশাসনের লোকজন মঘাইছড়ি ও গাবতল এলাকায় পাহাড়ে ঝুঁকির্পূর্ণ বসতির লোকজনকে সতর্ক করে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি এলাকায় আগে থেকেই সতর্কতা জারি করা আছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানগণকে পাহাড়ের বসতিদের নিরাপদে আনার তাগিদে সময় সময় মাইকিং করে সতর্কতা জারি অব্যাহত রাখা হয়েছে। কিন্তু তবুও পাহাড়ে ঝুঁকিতে বসবাস করছে মানুষ। গত কয়েকদিনে টানা প্রবল বর্ষণে পাহাড়ে ভয়াবহ ধসের আশংকা বিরাজ করছে।
এদিকে রাউজান থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে,অবিরাম বৃষ্টি, পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানি ও নদী-খালের পানি বৃদ্ধি পেয়ে রাউজানের বিভিন্ন নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ অবস্থায় উপজেলার জীবনযাত্রা অনেকটা থমকে গেছে। ভারি বর্ষণে ডাবুয়া, সর্তা খাল দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের স্রোতের পানিতে রাউজানের বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমি, চলাচলের সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। সোমবার উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ হাফেজ বজলুর রহমান সড়ক, রাউজান নোয়াপাড়া শফিকুল ইসলাম সড়কসহ বিভিন্ন ছোট বড় রাস্তার বিভিন্নস্থান পানিতে তলিয়ে গিয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি সড়কের জলিলনগর বাস স্টেশনের পূর্ব পাশে ডুবে গেছে। রাউজান পৌরসভার ৫নং ওয়ার্র্ডের সুলতানপুর কাজী পাড়া এলাকার জনগণের চলাচলের সড়ক জগৎ ধর সড়ক, হাফেজ বজলুর রহমান, পালিত পাড়া, দাশ পাড়া সড়ক, হলদিয়া ভিলেজ রোড, শহীদ জাফর সড়ক, দক্ষিণ হিংগলা কলমপতি সড়ক, হাজী পাড়া সড়ক, রাউজান নোয়াপাড়া সড়কের কয়েকটি স্পট পানিতে ডুবে যায়। ভারি বর্ষণ হওয়ার পর  থেকে হালদা নদী, সর্তা খাল, ডাবুয়া খালে পানি বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে  মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, টানা ভারি বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের  মিরসরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে আমনের বীজতলা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ভেঙ্গে গেছে উপজেলার অনেক গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক।
জানা গেছে, উপজেলার করেরহাট, হিঙ্গুলী, জোরারগঞ্জ, কাটাছরা, মিঠানালা, মিরসরাই সদর, মিরসরাই পৌরসভা, খৈয়াছড়া, ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার কাঁচা, পাকা, আধাপাকা রাস্তাসহ গ্রামীণ সড়কগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় যানবাহন ও জন চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তির কবলে পড়েছে। আবার কোন কোন অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার কৃষক সুমন চন্দ্র নাথ বলেন, বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে লাগানোর জন্য আমনের ৪৯ জাতের রোপা ছিলো। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলে ভেসে গেছে। এখন নতুন করে বীজ ধান ক্রয় করে আবার চারা তৈরি করতে হবে।
১৫ নং ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল কবির ফিরোজ জানান, পাহাড়ি ঢলে তাঁর ইউনিয়নে আউশ রোপা, বিভিন্ন সবজি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাইজগাঁও, খাজুরিয়া, বড়কমলদহ, গাছবাড়িয়া গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়নের হাবিব উল্লাহ ভূঁইয়া সড়ক, নিজামপুর রেল ষ্টেশন সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে নিজামপুর রেল ষ্টেশন সড়ক ও হাবিব উল্লাহ ভূঁইয়া সড়ক দিয়ে মানুষ চলাচল করতে কষ্ট হচ্ছে।
করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন জানান, টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ফেনী নদীর পানির কারণে তার ইউনিয়নে কয়েক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানান তিনি।
অপরদিকে, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পাহাড় ধসের আতংক, আশংকা নিয়ে দিন কাটাচ্ছে পাহাড়ী এলাকা করেরহাট, খৈয়াছড়া, ওয়াহেদপুর, জোরারগঞ্জ, মিরসরাই সদর ইউনিয়নের পাহাড়িসহ প্রায় ২৫ হাজার মানুষ।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমদ বলেন, বৃষ্টি না হওয়ার কারণে এবার আউশ চাষ লক্ষ্যমাত্রা পৌছাইনি। তবে কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে আমনের রোপা লাগাবেন কৃষকরা। তবে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান এখনো জানা যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ