শনিবার ১০ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

মাদারীপুরে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ

মাদারীপুর সংবাদদাতা : তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর মুখে গামছা বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার পূর্ব সরমঙ্গল এলাকায় । এ ঘটনার নায়ক একই এলাকার নুর হোসেন নামে এক ব্যক্তি। সোমবার বিকেলে এ ঘটনার পর নির্যাতিত ছাত্রীকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে নুর হোসেন। বিষয়টি শালিস মিমাংসার নামে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নির্যাতিত ছাত্রীর পরিবার।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাজৈর থানার পূর্ব সরমঙ্গল গ্রামের রাজ্জাক মৃধার ছেলে নুর হোসেন (৫৫) শিশুটিকে একটি ভ্যান গ্যারেজের ভিতরে নিয়ে গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে সোমবার বিকেলে ধর্ষণ করে। পরে স্থানীয় এক নারী শিশুটিকে অসুস্থ অবস্থায় দেখার পর বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। শিশুটির মা দুই মাস পূর্বে মারা গেছে। এদিকে ঘটনার পর বিষয়টি শালিস মিমাংশা করার নামে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ শিশুটির বাবার। শিশুটি বাড়ির পাশের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
শিশুটির বাবা বলেন, ধর্ষক নুরের নাতির চেয়েও বয়সে আমার মেয়ে অনেক ছোট। এত ছোট মেয়েকে মুখে গামছা বেঁধে ধর্ষণ করেছে। পরে স্থানীয় মাদবর দেলোয়ার শেখ শালিস করে দিবে বলে আমার হাসপাতালে আসতে দেয়নি। পুলিশকে জানাতেও নিষেধ করেছে। আমি এর কঠোর বিচার চাই। আগামীতে কোন শিশুকে যেন ধর্ষণের শিকার না হতে হয়।
ধর্ষিতা শিশুটি জানান, ওইদিন বৃষ্টি ছিলো। বৃষ্টির মধ্যেই ভ্যানের গ্যারেজে নিয়ে গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে আমার সাথে খারাপ কাজ করছে নুর হোসেন। কারো কাছে না বলার জন্য হুমকিও দিয়েছে। বললে আমাকে মেরে ফেলার ভয় দেখাইছে। এ ব্যাপারে শালিসদার দোলোয়ার শেখের সাথে যোগাযোগ করতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ফোনও বন্ধ রয়েছে। মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. শশাংক চন্দ্র ঘোষ বলেন, একটি শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের গাইনি ডাক্তার দিয়ে ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আলামত পরীক্ষা করার জন্য পাঠানো হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে চিকিৎসার সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাজৈর থানার ওসি শাহজাহান মিয়া বলেন, বিষয়টি আমি জানি না। আমাকে কেউ জানায়নি। শিশুটির পরিবারের লোক আসলে মামলা নেয়া হবে। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক বলেন, শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে সমস্ত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ