রবিবার ১১ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আ’লীগের সিদ্ধান্ত ১২ জুলাই

স্টাফ রিপোর্টার: দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। গঠনতন্ত্র অনুসারে জাতীয় কাউন্সিল আগামী অক্টোবরে হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই সাংগঠনিকভাবে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে দলটি।
এরই অংশ হিসেবে আগামী ১২ জুলাই আওয়ামী লীগের  কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে বসছে। ওইদিন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
গত রোববার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকম-লীর বৈঠকে বলা হয়েছে, ১২ জুলাইয়ের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে বিশেষ করে জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নমনীয়তা থেকে সরে এসে কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বিদ্রোহীদের সাংগঠনিকভাবে বহিষ্কারাদেশ ও তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে না রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে।
 বৈঠকে আগামী জাতীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের মেয়াদোত্তীর্ণ উপজেলা/ পৌরসভা, ইউনিয়ন/ওয়ার্ড কমিটিগুলোর কাউন্সিল সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিশেষ দিক নির্দেশনা দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। দলীয় সভাপতির দিক-নির্দেশনা অনুসারে মধ্য জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগঠনের তৃণমূলকে ঢেলে সাজাতে মাঠে সক্রিয় হবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেন, ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি বিভিন্ন নির্বাচনে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে দলের সাধারণ সম্পাদককে ইঙ্গিত দিয়েছেন। আগামী জাতীয় কাউন্সিল ও তৃণমূলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক নেতারা ওই বৈঠকে নিজ নিজ বিভাগে তৃণমূলের বর্ধিত সভার সফরসূচিও অবহিত করেন।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আগামী ২১ জুলাই বেলা ১১টায় রংপুরের তারাগঞ্জ উপজলা, বিকেল ৫টায় রংপুর মহানগর, ২২ জুলাই গঙ্গাচড়া, ২৬ জুলাই বদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যৌথ ও বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জেলায়ও বর্ধিত সভা করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।
দলের এক বৈঠক শেষে  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, সাংগঠনিক সংকট ও অস্থিরতা নিরসনে দলের হাইকমান্ড কাজ করছে। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীরা আস্কারা পেলে এর প্রবণতা বাড়বে। তাই আমরা এটির লাগাম টেনে ধরতে চাই। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আগামী কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের আগেই দলের সভাপতিকে অবহিত করবো। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দলকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়- এসব বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। দলের সাংগঠনিক পর্যায়ে আমাদের কিছু সমস্যা রয়েছে। বিভিন্ন নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোথাও কোথাও দলীয় অন্য প্রার্থীরা বিদ্রোহ করেছেন। ফলে দলে কিছুটা হলেও সংকট তৈরি হয়েছে। এ সব সংকট নিরসনে আমরা কাজ করতে চাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ