রবিবার ১১ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

উন্নয়ন চাইলে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি মেনে নিতে হবে

গতকাল সোমবার চীন সফর নিয়ে সংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সাম্প্রতিক চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীন দু’ দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের জন্য গ্যাস লাগবে, বিদ্যুৎ লাগবে। এলএনজি আমদানিতে দাম বেশি লাগছে এটা স্বাভাবিক। তবে দাম বাড়ানোর পরও ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। ৬২ টাকার গ্যাস ৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উন্নয়ন চাইলে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি মেনে নিতে হবে।
গতকাল সোমবার গণভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, আপনারা লক্ষ করে দেখবেন ২০০৮ সাল পর্যন্ত জিডিপি কত বেড়েছে। আমরা ৮ দশমিক ১ ভাগ পর্যন্ত জিডিপি অর্জন করতে সক্ষম করতে পেরেছি। আমরা এটা পেরেছি কারণ, এনার্জি ক্ষেত্রে যথেষ্ট মনোযোগ দিয়েছি। বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পেরেছি। তবে গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে। এলএনজি আমদানিতে খরচ বেশি পড়ে। গ্যাসের দাম না বাড়ানোর দুটি উপায় আছে। আমরা জিডিপি না বাড়াই, এলএনজি আমদানি করবো না, গ্যাসের দামও বাড়বে না। আরেকটি হলো উন্নয়ন হবে না। আর যদি সত্যি অর্থনৈতিক উন্নতি চান, তাহলে এটা মেনে নিতেই হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু আমাদের দেশে না, বিদেশেও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়। ২০০০ সালে আমার কাছে একটা প্রস্তাব এসেছিল গ্যাস বিক্রি করবো কিনা, আমি রাজি হইনি। এর খেসারত দিতে হয়েছিল। আমি ২০০১ সালে ভোট বেশি পেয়েও কিন্তু ক্ষমতায় আসতে পারিনি। খালেদা জিয়া মুচলেকা দিয়েছিল, ক্ষমতায় আসলে গ্যাস বিক্রি করবে। আমি চাই গ্যাস আমার দেশের মানুষের কাজে লাগবে। দেশের জন্য রিজার্ভ রাখবো। তারপর যদি বাঁচে তাহলে বিক্রি করবো। তবে কত গ্যাস আছে আমাকে জানতে হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিতে হবে। এর জন্য এলএনজি আমদানি করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতি ঘনমিটার এলএনজি আমদানিতে আমাদের খরচ পড়ে ৬১ দশমিক ১২ টাকা। সেটা এখন আমরা কত টাকায় বিক্রি করছি? এর চেয়ে কম দামে কী কের দেয়া যায়? অনেকে আন্দোলন করে বলেছেন ভারতে দাম কমেছে। ভারতে এলাকা ভেদে গৃহস্থালির জন্য গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটার ৩০ থেকে ৩৭ টাকা। বাংলাদেশ দিচ্ছে ১২.৬০ টাকা। শিল্পে আমরা দিচ্ছি ১০.৭০ টাকা, ভারত দিচ্ছে ৪০ থেকে ৪২ টাকা। বাণিজ্যিকে আমরা দিচ্ছি ২৩ টাকা। ভারত দিচ্ছে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা। ভারতে প্রতি বছর দুইবার গ্যাসের দাম এডজাস্ট করে, এপ্রিলে আর অক্টোবরে। সেই নীতিতেই তারা চলে। আমরা ৬১.১২ টাকা নিয়ে এসে এলএনজি দিচ্ছি ৯.৮০ টাকায়। তারপরেও আন্দোলন!
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৪-০৫ সালে ভারত পাইপলাইনে করে মিয়ানমারের গ্যাস নিতে চেয়েছিল বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে। খালেদা জিয়া তা দেয়নি। আমি হলে দিতাম, আর আমার ভাগটা রেখে দিতাম। তাহলে এলএনজি আমদানি না করলেও চলতো। নেতৃত্ব যদি ভুল করে, তার খেসারত জনগণকে দিতে হয়।
তিনি বলেন, ১০ হাজার কোটি টাকার ওপর আমাদের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। দাম বাড়ানোর পরও ভর্তুকি দিচ্ছি। তাহলে যে দামে কিনবো সেই দামে বিক্রি করি? ৯ টাকারটা ৬১ টাকা করে নেবো? আমাদের আর ভর্তুকি দিতে হবে না! বহুদিন পর হরতাল দিলেন তো, এটা পরিবেশের জন্য ভালো।
প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করে বলেছেন, আমরা পরস্পরের সত্যিকারের বন্ধু হয়ে থাকব। আমরা দুই প্রতিবেশী দেশ উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছি।
তাঁর দেশ সবসময় বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টার পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। একইসঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে একমত হন প্রধানমন্ত্রী।
ওয়ার্ল্ড ইকোনামিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) অংশ নিতে এবং চীনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য চীনের প্রধানমন্ত্রী লি খোচাং-এর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১ জুলাই থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত চীন সফর করেন।
চীনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। তিনি উল্লেখ করেন, চীন তার পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে দু’বার মিয়ানমারে পাঠিয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনে তারা আবারও মন্ত্রীকে মিয়ানমারে পাঠাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে তিনি উন্নয়নের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং রোহিঙ্গা সঙ্কটের কারণে এই শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘিœত হতে পারে বলে আশংকা ব্যক্ত করেন।
সরকার প্রধান বলেন, দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় পাঁচটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। এগুলো হ’ল অর্থনৈতিক বিকাশ এবং বাণিজ্য, প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত্র বিষয়, বিসিআইএম বা যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভিসা সংক্রান্ত এবং রোহিঙ্গা ইস্যু।
তিনি বলেন,চীনা প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের অংশীদার হিসেবে আখ্যায়িত করেন। চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে। তিনি এটিকে আরও উচ্চ স্তরে নিয়ে যেতে চান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় চীনের সমর্থন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আমরা উভয়ই আশা করি, এই সম্পর্ক আগামীতে আরও গভীর ও জোরদার হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৈষম্য দূর করার জন্য বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে এবং ফিরতি ক্রয়ের গ্যারান্টিসহ আরও কলকারখানা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরকালে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বেশকিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার ওপর ও আমি গুরুত্বারোপ করি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি চীনের প্রতি ঋণচুক্তির শর্তাবলী সহজ করার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সঠিক সময়ে তহবিল ছাড়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী, ডেল্টা পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন, একটি জলবায়ু অভিযোজন কেন্দ্র স্থাপন এবং তিস্তা নদীর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়ন সেইসাথে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার দ্রুতগামী ট্রেন যোগাযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া গতিশীল করতেও চীনের সহায়তা কামনা করি।
তিনি বলেন, ‘আমি চীনের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশী পাসর্পোটধারী বিশেষ করে ছাত্র ও ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানাই। এ অঞ্চলের বাজারগুলোকে সংযুক্ত করতে আমরা উভয় দেশ বিসিআইএম করিডোর দ্রুত বাস্তবায়নে সম্মত হই। পরে প্রধানমন্ত্রী লি খোচাং-এর দেয়া এক ভোজসভায় যোগদান করি। আমাদের উভয়ের উপস্থিতিতে ৯টি চুক্তি ও সমঝোতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্য সাহায্য সংক্রান্ত এল.ও.ই। সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পর্যটন কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা স্মারক। ইয়ালু ঝাংবো ও ব্রহ্মপুত্র নদীর তথ্য বিনিময় সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক ও তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা। ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ নিয়ে ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট। বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে অর্থনীতি ও কারিগরি সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি। বিনিয়োগ সহযোগিতা ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা নিয়ে সমঝোতা স্মারক। পিজিসিবি প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎ গ্রিড নেটওয়ার্ক জোরদার প্রকল্পের জন্য ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট। ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ নিয়ে গভর্নমেন্ট কনসেশনাল লোন এগ্রিমেন্ট। ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ নিয়ে প্রিফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট লোন এগ্রিমেন্ট।
প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বিষয় ছাড়াও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়টি গুরুত্ব পায় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে, যা দেশের জন্য পরিবেশ ও নিরাপত্তার দিকে থেকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন,রোহিঙ্গারা যাতে তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারে সেজন্য আমি প্রেসিডেন্টকে চীনের গুড উইল কাজে লাগানোর অনুরোধ জানাই।
প্রধধানমন্ত্রী বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট মনে করেন রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুরা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা এবং কীভাবে এর সমাধান করা যায় এনিয়ে চীন কাজ করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা এ সঙ্কট সমাধানে যতটা সম্ভব চেষ্টা করব। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দু’দেশেই আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমাদের কাছে দু’দেশই সমান, কেউ কম বা বেশি নয়।
তিনি বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট আমাকে বলেন, আমরা পরস্পরের সত্যিকারের বন্ধু হয়ে থাকব। তিনি বাংলাদেশকে চীনের বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা দুই প্রতিবেশী দেশ উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছি।’
চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন তার দেশ সব সময় বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টার পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমরা দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে একমত হই,বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রেসিডেন্ট শী জিনপিং-এর সঙ্গেও দুদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময় মত তহবিল ছাড়, ঋণ চুক্তির শর্তাবলী সহজ করার জন্য চীনের প্রেসিডেন্টের প্রতি অনুরোধ জানাই। জবাবে তিনি এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
শেখ হাসিনা বলেন,চীনের প্রেসিডেন্ট বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা হ্রাসে প্রচেষ্টা চালাবেন বলে আশ্বাস দেন। তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগে চীনের বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করবেন বলেও জানান। চীনের প্রেসিডেন্ট ক্লাইমেন্ট এডাপশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং তিস্তা নদীর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের আর্থিক সহায়তায় কথা বিবেচনার আশ্বাস দেন।
সরকারি চাকরিতে প্রবেশে ৩৫ বছর বয়স-সীমা না করার পক্ষে বেশ কিছু যুক্তি তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘কাজ করার একটা সময় থাকে। একটা এনার্জি থাকে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন জন্ম নিবন্ধন করা হয়, বয়স লুকানো যায় না। আমরা যদি ধরেই নেই, একজন ছেলে বা মেয়ে যদি নিয়মিত পড়াশোনা করে, যদি একটু দেরিও হয়, তাহলেও ১৬ বছরে এসএসসি পাস করে। করে না? এরপর দুই বছর পর অর্থাৎ ১৮ বছর বয়সে এইসএসসি পাস করে। এরপর অনার্স ৪ বছর, মাস্টার্স ১ বছর। ২৩ বছরের মধ্যে মাস্টার্স কমপ্লিট হয়ে যায়। এরপরই সরকারি চাকরির জন্য পরীক্ষা দিতে পারে। এরপরও যদি এক-দুই বছর দেরিও হয়, তাহলেও ২৪/২৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
৩৫তম বিসিএসের ফল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে যারা বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, তাদের পাসের হার হলো ৪০ দশমিক ৭ ভাগ, ২৫ থেকে ২৭ বছর যাদের বয়স, তাদের পাসের হার হলো ৩০ দশমিক ২৯ ভাগ। আর ২৭ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের পাসের হার হলো ১৩ দশমিক ১৭। ২৯ বছরের বেশি বয়সীদের পাসের হার ৩ দশমিক ৪৫ ভাগ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩৫ বছর বয়সে পরীক্ষা দিলে এর রেজাল্ট, ট্রেনিং, ট্রেনিং শেষ হতে যদি আরও দুই বছর লাগে, তাহলে ৩৭ বছর গেলো। ৩৭ বছরে চাকরি হলে কী হবে? চাকরির বয়স কিন্তু ২৫ বছর না হলে ফুল পেনশন পাবে না। ঠিক আছে, পেনশন না পেলো। তাহলে একটা সরকার কাদের দিয়ে চালাবো?  আমরা সবসময় বলি, যারা মেধাবী, তরুণ, কর্মক্ষম তাদের দিয়েই তো আমাদের দেশের উন্নয়ন কাজ করবো। কিন্তু বয়স বাড়লে তো কাজের গতিও কমে। এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। যাই হোক, আমি শুধু হিসাবটাই দিলাম, দেশবাসী বিচার করুক, আপনারও বিচার করুন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ