সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

খুলনার সাংবাদিক জলিলকে অবিলম্বে মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার করুন

খুলনা অফিস : খুলনা প্রেস ক্লাবের সহকারী সম্পাদক (ক্রীড়া), এমইউজে খুলনার সদস্য, জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের মিডিয়া কমিটির সম্পাদক, সোনালী অতীত ক্লাবের প্রচার সম্পাদক, ইয়ং বয়েজ ক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, মুসলমানপাড়ার হাক্কানী জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক খুলনাঞ্চলের স্টাফ রিপোর্টার এম এ জলিলকে মাদক মামলা দিয়ে ফাসানোর ঘটনায় বিএফইউজে, এমইউজে ও প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দের নিন্দা-ক্ষোভ, মুক্তি দাবি অব্যাহত রয়েছে।
সাংবাদিক জলিলকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তারা আটক করে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং তার স্ত্রী রেনু বেগমের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ক্লাবের নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দায়েরকৃত মামলায় এজাহারকারী পারভীন আক্তার ভুয়া ও ভিত্তিহীন কিছু অভিযোগ উত্থাপন করেছেন যা বাস্তবতার সাথে কোন মিল নাই। বাজারের প্লাস্টিকের ব্যাগে ১০ বোতল ফেন্সিডিল মুড়ে একটি জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেয়া যায়, এ ধরনের মন গড়া অভিযোগ একজন অসাধু কর্মকর্তার পক্ষেই করা সম্ভব। মূলতঃ এজাহারকারী ও তার সঙ্গীয় সদস্যরা সাংবাদিক এমএ জলিলকে হয়রানী করার জন্য আটক করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ মামলা সাজিয়েছে।
অবিলম্বে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দায়েরকৃত এ মামলা প্রত্যাহারে জোর দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। অন্যথায় খুলনার সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে। বিবৃতিদাতারা হলেন ক্লাবের সভাপতি এস এম হাবিব ও সাধারণ সম্পাদক মো. সাহেব আলীসহ কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজে ও মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার নেতৃবৃন্দ সংগঠনের সদস্য এম এ জলিলকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেফতার এবং মিথ্যা মামলা দায়ের করে কারাগারে পাঠানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিদাতারা হলেন-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও এম আব্দুল্লাহ, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি মো. আনিসুজ্জামান, সহ-সভাপতি এহতেশামুল হক শাওন, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আবুল হাসান হিমালয়, কোষাধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক রানা, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি ড. জাকির হোসেন, সাবেক নির্বাহী সদস্য শেখ দিদারুল আলম ও এহতেশামুল হক শাওন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অসাধু সোর্স ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় সম্পূর্ণ পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিক এম এ জলিলের বাসভবনে অভিযান চালায় মাদক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তারা দেয়াল টপকে বাড়ির ভেতরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করে, এক পর্যায়ে সাংবাদিক জলিলের স্ত্রীকে গাঁজাসহ গ্রেফতারের হুমকি দেয়। ঘটনাস্থল ও মামলার এজাহারেই প্রমাণিত হচ্ছে ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সাংবাদিক এম এ জলিলকে নিঃশর্ত মুক্তি এবং মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের শাস্তি দাবি করেন।
খুলনা ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন এর কোষাধ্যক্ষ এম এ জলিলকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে হয়রানিমূলক মামলায় জড়ানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা ও অসাধু সোর্সদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মাদক মামলায় জাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করে নেতৃবৃন্দ। নির্ভীক সাংবাদিক এমএ জলিলের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা অবিলম্বে নিঃশর্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেছেন অন্যত্থায় কঠোর কর্মসূচিসহ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সকল সংবাদ বয়কট করা হবে।
বিবৃতিদাতারা হলেন-এসোসিয়েশনের সভাপতি সুবীর কুমার রায়, সাধারণ সম্পাদক সোহাগ দেওয়ান, এইচ এম আলাউদ্দিন, কাজী শামীম আহমেদ, ডি এম রেজা সোহাগ, এস এম কামাল হোসেন, বিমল সাহা, নূর হাসান জনি, আশরাফুল ইসলাম নূর, মাকসুদ আলী, জয়নাল ফরাজী, আল মাহমুদ প্রিন্স, শিশির রঞ্জন মল্লিক, আসাদুজ্জামান রিয়াজ, হুমায়ুন কবীর, সুমন আহমেদ, আহমদ মুসা রঞ্জু ও কামরুল হোসেন মনি।
প্রতিবাদে মানববন্ধন
দৈনিক খুলনাঞ্চল’র সিনিয়র রিপোর্টার এমএ জলিলকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেফতার এবং কল্প কাহিনী সাজিয়ে মাদক মামলা দায়ের করে কারাগারে পাঠানোর তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও কঠোর সমালোচনা করেছেন খুলনার কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ। সোমবার দুপুর ১২টায় খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে খুলনার কর্মরত সাংবাদিকদের ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে সাংবাদিক এমএ জলিলের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সোর্সদের মাধ্যমে মাদক বিকিকিনির পথ পরিষ্কার করতে যেভাবে সাংবাদিক এমএ জলিলকে হয়রানিমূলক মামলায় ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, তাতে সমগ্র সাংবাদিক সমাজ আতঙ্কিত। মাদক নির্মূলে সরকারের জিরোটলারেন্স নীতি ভেস্তে দিয়ে কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী মাদক বিক্রেতাদের লালন-পালন করছেন বলে অভিযোগ করেন বক্তারা। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সাংবাদিক এম এ জলিলকে নিঃশর্ত মুক্তি এবং মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের শাস্তি দাবি করেন।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন খুলনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ’র ব্যুরো প্রধান কাজী মোতাহার রহমান বাবু। দৈনিক ‘কালের কণ্ঠ’ খুলনা বু্যূরোর নিজস্ব প্রতিবেদক কৌশিক দে বাপী, দৈনিক সমকাল ও দৈনিক পুর্বাঞ্চলের স্টাফ রিপোর্টার হাসান হিমালয় মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন।
মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন খুলনা প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের ব্যুরো প্রধান মো. রাশিদুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাপ্তাহিক আমাদের খুলনার চীফ রিপোর্টার হাসান আহমেদ মোল্যা, মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি আবু হেনা মোস্তফা জামাল পপলু, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের এএইচএম শামিমুজ্জামান, দৈনিক পূর্বাঞ্চলের স্টাফ রির্পোটার ও টিআইবি পুরস্কারপ্রাপ্ত এইচএম আলাউদ্দিন, খুলনা অনলাইন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও  বাংলানিউজ টোয়েন্টি ফোরডটকমের খুলনা ব্যুরো এডিটর মাহবুবুর রহমান মুন্না, খুলনা রিপোর্টারস্ ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের স্টাফ রিপোর্টার মুহাম্মদ নুরুজ্জামান, কেইউজে’র নির্বাহী কমিটির সদস্য বিমল সাহা, খুলনা ক্রাইম রিপোর্টার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ দেওয়ান, এসএ টিভি’র রকিবুল ইসলাম মতি, সংহতি প্রকাশ করে বক্তৃতা করেন খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট নুরুল হাসান রুবা, নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মেহেদী হাসান, এমইউজে খুলনার সাবেক সভাপতি ড. মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনার সমন্বয়ক এডভোকেট মোমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ