সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

প্রাথমিক শিক্ষকদের আমরণ অনশনের ৬ দিনে অসুস্থ ১৮১ শিক্ষক

জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করছে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। ছবিটি গতকাল সোমবারের -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: নেত্রকোনা সদরের শালজান বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৯৯২ সালে থেকে শিক্ষকতা করছেন অকিল পাল। ২৬ বছর শিক্ষকতা করে কোনো বেতন-ভাতা না পেয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্র-ছাত্রী পড়িয়ে, কখনও-সখনও অন্যের কৃষিজমিতে রোজ খেটে তার সংসার চলে। আর দুই বছর পর অবসরে যাবেন তিনি। বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের দাবিতে আমরণ অনশনের ৬ দিন অনশনে অসুস্থ ১৮১ জন  শিক্ষক। অনশন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, সমিতির সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ, সমিতির মহাসচিব মো. কামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: জাফর ইকবাল, শিক্ষকনেতা হারুন অর রশিদ, মিজানুর রহমান, বদরুল আমিন সরকার ফরহাদ, ফিরোজ উদ্দিন, আশরাফুল আলম, শাহনাজ পারভীন প্রমুখ।
গতকাল সোমবার অকিল পালের সঙ্গে দেখা হয় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে। তার মতো কয়েকশ শিক্ষক-শিক্ষিকা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন করছেন। জাতীয়করণ হলে তারা বেতন-ভাতা পাবেন। ২০১৩ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার পর তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণ থেকে বাদপড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা তারা। ২৩ দিন ধরে টানা তারা আন্দোলন করে আসছেন। বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে তারা আন্দোলন করছেন। সমিতির মহাসচিব মো. কামাল হোসেন জানান, খোলা আকাশের নিচে এভাবে আন্দোলন করতে গিয়ে গত ২২ দিনে ১৮১ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
শিক্ষকরা জানান, গত ১৬ জুন তারা অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। ২৮ জুন পর্যন্ত টানা ১৩ দিন অবস্থান ধর্মঘট করেন। দাবি-দাওয়া না মানায় ২৯ জুন প্রতীকী অনশন করেন। তাতেও কাজ না হলে ৩০ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত অনশন করেন তারা। তারপরও দাবি না মানায় ৩ জুলাই থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত আমরণ অনশন করে চলেছেন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসব শিক্ষকরা। প্রতীকী অনশন ছাড়া তারা মোট ৯ দিন ধরে অনশনে রয়েছেন। আমরণ অনশনের পাশাপাশি তারা সেখানে স্লোগানও দিচ্ছেন। স্লোগানে শিক্ষকরা বলছেন, আমাদের দাবি আমাদের দাবি, মানতে হবে মানতে হবে; চাকরি আছে বেতন নাই, এমন কোনো দেশ নাই; এক দেশে দুই নীতি, তা হবে না, তা হবে না; কেউ খাবে কেউ খাবে না, তা হবে না, তা হবে না। বাদপড়া এসব বেসরকারি বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবিতে কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান আন্দোলনকারী শিক্ষকরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ