শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষকের বিচার চাইলেন শিক্ষার্থীরা

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা : বরগুনার আমতলী উপজেলার কাঠালিয়া তাজেম আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (শরীর চর্চা) মোঃ জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ এনে বিচার চাইলেন স্কুল শিক্ষার্থীরা। রবিবার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে ওই শিক্ষকের বিচার দাবীতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেছে। এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভে স্কুল শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ওই শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসলে তারা আর এ বিদ্যালয় লেখাপড়া করবে না।
জানাগেছে, উপজেলার কাঠালিয়া তাজেম আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শরীর চর্চা শিক্ষক মোঃ জহিরুল ইসলাম গাজী ২০১৫ সালে ২২ জুলাই বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর থেকেই বিদ্যালয়ের মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এ বিষয়টি কয়েকবার প্রধান শিক্ষকের নজরে আনেন শিক্ষার্থীরা। প্রধান শিক্ষক তাকে শাসিয়ে দেন। ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে গত বছর ডিসেম্বর মাসে শিক্ষক জহিরুল ইসলাম অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দেয়। শুরুতে ওই ছাত্রী তার প্রস্তাবে রাজি হয়নি। ওই ছাত্রীর অভিযোগ পরীক্ষায় ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে গত ছয় মাস ধরে তাকে শিক্ষক জহিরুল ইসলাম গাজী একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। এ বছর ফেব্রুয়ারী মাসে এতে ওই ছাত্রী অন্তঃস্বত্বা হয়ে পড়ে। এ ঘটনা ওই ছাত্রী শিক্ষক জহিরুল ইসলামকে জানালে তিনি পেটে টিউমার হয়ে বলে তাকে বরিশাল চিকিৎসা করতে নিয়ে যান। ওইখানে নিয়ে জোরপূর্বক পেটের বাচ্চা নষ্ট করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওই ছাত্রী তাতে রাজি হয়নি। এ ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেলে শিক্ষক জহিরুল ইসলামের বড় ভাই কুকুয়া আদর্শ স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ ফারুক গাজী ছাত্রীর বাবাকে জীবন নাশের হুমকি দিয়ে গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করতে চাপ দেয়। ওই ছাত্রীর বাবা এতে রাজি না হওয়াতে জোর করে ছাত্রীকে পটুয়াখালী নিয়ে গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করেছে বলে অভিযোগ ওই ছাত্রীর। প্রভাবশালী শিক্ষকের ভাইয়ের ভয়ে ওই ছাত্রী ও তার পরিবারের লোকজন এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে। গত শুক্রবার এ ঘটনাটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির নজরে আসে। রবিবার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধর্ষক শিক্ষক জহিরুল ইসলামের বিচার দাবী করে পরীক্ষা বর্জন করেন। পরে শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন ওই শিক্ষকের বিচার দাবী করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে। পরে প্রধান শিক্ষক আওলাদ হোসেন ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর বিচারের আশ্বাসে ১৫ মিনিট পরে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেন। মানববন্ধনে শিক্ষার্থী মিতু, আশামনি, বৃষ্টি, হাফিজা, সোনিয়া, ফারজানা, হুমায়ূন, শামিম, ফজলে রাব্বি,  মেহেদী ও ফেরদৌস শিক্ষকের  বিচার দাবী করে বলেন, ওই শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর থেকেই মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে আসছে। এ বিষয়ে আমরা প্রধান শিক্ষক আওলাদ হোসেনের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। প্রধান শিক্ষক তাকে বহুবার শাসিয়ে দিয়েছেন কিন্তু তিনি নিবৃত হয়নি। বর্তমানে ওই শিক্ষক আমাদের এক স্কুল ছাত্রীকে পরীক্ষার ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ