শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরী হচ্ছে মৃৎশিল্প

খুলনা অফিস : পূর্ব পুরুষের পেশা ছাড়তে না পেরে কষ্টে জীবন পার করছেন খুলনার রূপসা উপজেলার আমদাবাদ গ্রামের পাল সম্প্রদায়ের কয়েক শত পরিবার। তবে চাহিদা না থাকায় অনেকেই এই পৈত্রিক পেশা বদল করে অন্য পেশায় ঝুঁকছেন।
কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে পাল সম্প্রদায়ের তৈরি জিনিসপত্রের। এক সময় পাল সম্প্রদায়ের হাতের তৈরি মাটির বাসন-কোসনের কদর ছিল প্রচুর এখন আধুনিক যুগে কাঁচ, সিলভার, এ্যালুমিনিয়াম, প্লাস্টিক অথবা মেলামাইনের তৈজসপত্র বাজারে ভরপুর থাকায় মাটির তৈরি জিনিসপত্র হারিয়ে যেতে বসেছে। হাঁড়ি-পাতিল, ডাবর-মটকি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব কিছু যেমন মাটির ব্যাংক, শো-পিস, গহনা, কলস, ফুলের টব, ফুলদানি, ঢাকনা, পিঠা তৈরির ছাঁচসহ নানা রকম খেলনা তৈরি করেন মৃৎশিল্পীরা। এখনও অনেক সৌখিন পরিবারের বাসা-বাড়িতে মাটির তৈরি ফুলের টপ শোভা পাচ্ছে। বর্তমান সরকার এ শিল্পকে বাঁচানোর জন্য কুমিল্লা ও কুষ্টিয়ায় দু’টি প্রশিক্ষন কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন। সেখানে এ কাজে নিয়জিত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে মৃৎশিল্পকে বাচিঁয়ে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে খুলনার রূপসা উপজেলার আমদাবাদ পাল পাড়া এলাকা থেকে ২৫ জনের একটি দল দু’টি কেন্দ্রেই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। প্রশিক্ষণ শেষে এলাকায় ফিরে আধুুনিক প্রযুক্তিতে মৃৎ শিল্পের কাজ শুরু করেছেন। আমদাবাদ মৃৎশিল্প সমবায় সমিতিতে ১০০ জন সদস্যদের নিয়ে একটি সংগঠন রয়েছে। সেখানে জেলা প্রশাসকগণ কয়েকবার এ সমিতি পরিদর্শন করেছেন। ২০১১ সালে জেলা সমবায় কার্যলয় থেকে এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা এ কাজের জন্য লোন দেওয়া হয়। এ টাকা দিয়ে তারা আধুনিক প্রযুক্তিতে কয়েক প্রকার জিনিষ তৈরী করছে। তার মধ্যে দধি’র মালসা ও দধি’র কাপ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া উপজেলার পিঠাভোগ, আলাইপুর, চাদঁপুর, আইচগাতিসহ কয়েকটি এলাকায় আধুনিক প্রযুক্তির ছোয়া এখনো পাইনি।
বর্তমানে উপযুক্ত এঁটেল মাটি না পাওয়ার ফলে মাটির তৈরি পাত্র টেকসই হচ্ছে না। এই কারণে চড়া মূল্য দিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি ক্রয় করতে হচ্ছে তাদের। তাতেও ভালোভাবে চলতে পারছেন না পালেরা। দিন কাটছে তাদের নিদারণ কষ্টে।
এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেকেই বাপ-দাদার এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। গোপাল পাল জানান, অভাব অনটনের মধ্যেও হাতেগোনা কয়েকটি পরিবার বাপ-দাদার পেশা আঁঁকড়ে ধরে আছেন। আবার বাধ্য হয়ে চার পুরুষের এই পেশা থেকে সরে আসতে হচ্ছে তাদের। এ পরির্বতনের সঙ্গে টিকতে না পেরে পাল সম্প্রদায়ের মৃৎ শিল্পীরা হারাতে বসেছেন তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। নানা প্রতিকূলতা আর সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়ায় অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ