সোমবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

তাকওয়াই সফলতার মহাশক্তি

ইঞ্জিনিয়ার ফিরোজ আহমাদ : মহামহিম সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক এক আল্লাহকেই শুধু ভয় করে চলার নাম তাকওয়া। ভয় আর ভালবাসার মূল আধার হল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু। আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে আমার প্রভু রূপে মানি না। এমন দৃপ্ত শপথে বলিয়ান যে মানুষ সে ই তো মুসলমান। সে ই তো খাঁটি মুত্তাকী। এই মুসলমানই দুনিয়ার সেরা মানুষ। আল্লাহকে ছাড়া আর কাউকে সে ভয় করে না। আল্লাহর চেয়ে বেশী আর কাউকে সে ভালবাসে না। এই মুসলমানই তাকওয়ার অধিকারী। তাই সে বার বার উচ্চস্বরে ঘোষণা করে ‘আল্লাহু আকবার’। সেই এক আল্লাহই মহান ও সর্বশ্রেষ্ঠ যার কোন সমকক্ষ নেই।‘ওয়া লাম ইয়া কুল্লাহু কুফু ওয়ান আহাদ্দ’। (সূরা এখলাছ) তাই সেই মুসলমানই সেরা জাতি যারা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের কাছে সব কিছু তুচ্ছ মনে করে। আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে তারা মাথা নত করে না। এই মুসলমান তার ব্যক্তি, সমাজ, রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি তথা তার জীবন মরণে সদাসর্বদা এক আল্লাহর সার্বভৌমত্ব মেনে নিয়ে সেরা সৈনিকে পরিণত হয়ে যায়। সমস্ত শিরক বিদআতকে সে সাহসের সাথে প্রত্যাখান করে। কোন মুনাফিক, মুশরিক, বিদআতী, কাফের, ফাসেক, জালেম বা ইসলামের কোন দুশমনকেও সে ভয় পায় না। সে বলিষ্ঠভাবে ঘোষণা দেয়, ‘নিশ্চয় আমার নামায, আমার আত্মত্যাগ, আমার জীবন, আমার মরণ সব কিছুই সেই মহামহিম রবের জন্য যিনি বিশ্ব জাহানের প্রতিপালক’। (সূরা আনআম ১৬২)
 এভাবেই খোদাভীতি, পরহেজগারী, বাঁচা, আত্মরক্ষা করা, নিষ্কৃতি লাভ করা, সতর্ক জীবন, বিরত থাকা, সবর, ধৈর্য, আত্মশুদ্ধি ইত্যাদি অর্থে তাকওয়ার অর্থ অনুধাবন করা হয়। সেভাবেই হৃদয় মনে আল্লাহর ভয় নিয়ে যে এবাদত করা হয় উহাই হৃদয়গ্রাহী ইবাদত। অন্তরের অন্ত:স্থল থেকে তাকওয়ার মাধ্যমে যে এবাদত করা হয় ঐ এবাদতই আল্লাহর সন্তোষ ভাজনে পৌঁছে দেয়। যারা হেদায়াত পেতে চায়, সঠিক পথের কামনা করে তাদেরকেই তাকওয়ার পথ ধরতে হয়। এমন পরহেজগার মুসলমানই যখন নামাযে দাঁড়ায় তখন সে মনে করতে পারে রাব্বুল আলামিন আল্লাহ পাক তাকে দেখছেন, তার কথা শুনছেন এবং তাকে জবাব দিচ্ছেন। এটাই তাকওয়ার নামায। তাকওয়ার নামাযই সেরা নামায। এমন নামাযই সফলতা আনে। এভাবেই তাকওয়া হল সফলতার মহাশক্তি।
মহাগ্রন্থ আল কুরআন ও হাদীসে তাকওয়ার গুরুত্ব ও সুফলসহ অনেক নির্দেশনা রয়েছে। নি¤েœ কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরা হল।
কুরআনের আয়াতে তাকওয়া : সূরা আল এমরানের ১০২ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর, তাকে যেরূপ ভয় করা উচিত। তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।’
সূরা তাওবা ১১৯ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদার লোকেরা, আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যাদর্শ লোকদের সঙ্গী হও।’
সূরা বাকারা ১৮৩ আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদার লোকেরা, পূর্ববর্তী লোকদের মত তোমাদের প্রতি রোজা ফরয করা হয়েছে, উদ্দেশ্য আশা করা যায় যে, এর দ্বারা তোমরা (মুত্তাকী হবে) আল্লাহকে ভয় করা শিখবে।’
সূরা হুজরাত এর ১৩ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি অধিক সম্মানিত যিনি তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক খোদাভীরু।’
সূরা ফাতিরের ২৮ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল ইলম সম্পন্ন লোকেরাই তাকে ভয় করে।’
সূরা নূর এর ৫২ আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আর সফলকাম হবে ঐ সমস্ত লোক যারা আল্লাহ ও রাসুলের হুকুম পালন করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর নাফরমানী হতে দূরে থাকে।’
সূরা আহযাবের ১ আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘হে নবী ! আল্লাহকে ভয় কর এবং কাফির ও মুনাফিকদের আনুগত্য কর না, প্রকৃতপক্ষে সব জ্ঞান ও বুদ্ধির মালিক তো আল্লাহই।’
সূরা আল ইমরানের ২০০ আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, ধৈর্য অবলম্বন কর, বাতেলপন্থীদের মোকাবেলায় দৃঢ়তা ও অনমনীয়তা প্রদর্শন কর, যুদ্ধের জন্য সর্বক্ষণ প্রস্তুত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর, আশা করা যায় যে, তোমরা কল্যাণ লাভ করতে পারবে।’
সূরা বাকারা ১৮৯ আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন, ‘আল্লাহকে ভয় কর, সম্ভবত: তোমরা কল্যাণ লাভ করবে।’
সূরা মায়েদার ৩৫ আয়াতে আল্লাহ পাক আরো বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর, তার নৈকট্য লাভের উপায় সন্ধান কর এবং তার পথে চরম চেষ্টা সাধনা বা জিহাদ কর। সম্ভবত: তোমরা কল্যাণ লাভ করবে’।
সূরা আরাফের ৯৬ আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন, ‘জনপদবাসীরা ঈমান ও তাকওয়ার অনুসরণ করলে আমরা তাদের জন্য আসমান ও যমীনের বরকতসমূহ উন্মুক্ত করে দিব।’
সূরা তালাকের ৫ আয়াতে রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে তাকওয়া অনুসরণ করে, আল্লাহ তার গুনাহ মোচন করবেন এবং তাকে মহা পুরস্কার দেবেন।’
সূরা হুজরাতের ১৩ আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে সর্বাধিক সম্মানিত যে অধিক তাকওয়ার অনুসারী।’
হাদীসের আলোকে তাকওয়া : আতিয়া আস সাদী (রা:) হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (স:) বলেছেন, কোন ব্যক্তি পাপ কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এরূপ যেসব কাজে গুণাহ নেই তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত খোদাভীরু লোকদের শ্রেণীভুক্ত হতে পারে না। (তিরমিযী ও ইবনে মাজা)
আয়েশা (রা:) হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (স:) বলেছেন, হে আয়েশা। ছোটখাট গুণাহর ব্যাপারেও সতর্ক হও। কেননা এ জন্যও আল্লাহর নিকট জওয়াবদিহি করতে হবে। (ইবনে মাজা)
ইবনে মাসউদ (রা:) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স:) বলেছেন, আল্লাহর নির্ধারিত রিযিক পূর্ণ মাত্রায় লাভ না করা পর্যন্ত কোন লোকই মারা যাবে না। সাবধান ! আল্লাহকে ভয় কর এবং বৈধ পন্থায় আয় উপার্জনের চেষ্টা কর। রিযিকপ্রাপ্তিতে বিলম্ব যেন তোমাদেরকে অবৈধ পন্থা অবলম্বনে প্ররোচিত না করে। কেননা আল্লাহর কাছে যা কিছু রয়েছে তা কেবল আনুগত্যের মাধ্যমে লাভ করা যায়। (ইবনে মাজা)
আবু হুরায়রা (রা:)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স:) বলেছেন, মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তার উপর যুলুম করবে না; তাকে অসহায় অবস্থায় পরিত্যাগও করবে না এবং তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করবে না। তিনি নিজের বুকের দিকে ইশারা করে বলেন, তাকওয়া এখানে, তাকওয়া এখানে, তাকওয়া এখানে। কোন লোকের নিকৃষ্ট সাব্যস্ত হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ জ্ঞান করে। প্রতিটি মুসলমানের জীবন, ধন সম্পদ ও মান সম্মান সকল মুসলমানের সম্মানের বস্তু। (এর উপর হস্তক্ষেপ করা তাদের জন্য হারাম)। (মুসলিম)
তাকওয়ার সুফল ও প্রতিদান :
১) আল্লাহর বন্ধুত্ব লাভ : আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহ মুত্তাকীদের বন্ধু।’ (সূরা জাসিয়া ১৯)
২) অফুরন্ত কল্যাণ লাভ : আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা পাথেয় সংগ্রহ কর; কেননা সর্বোত্তম ও শ্রেষ্ঠ পাথেয় হল তাকওয়া বা আল্লাহ ভীতি।’(সূরা বাকারা ১৯৭)
৩) সুন্দর পরিণতি : আল্লাহ বলেন, ‘অতএব তুমি ধৈর্য্য অবলম্বন কর, নিশ্চয় শেষ পরিণতি মুত্তাকীদের জন্য।’ (সূরা হুদ ৪৯)
৪) আল্লাহর নৈকট্য লাভ : আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহভীরুগণ জান্নাত এবং নহরের মধ্যে থাকবে। সত্য ও সন্তুষ্টির আবাসস্থলে পরাক্রমশালী বাদশাহর দরবারে।’ (সূরা ক্বামার ৫৪/৫৫)
৫) নিরাপত্তা লাভ : আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় মুত্তাকীগণ সুউচ্চ নিরাপদ স্থানে থাকবে।’ (সূরা দুখান ৫১)
৬) আমল কবুল হওয়া : আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তো তাকওয়াবানদের থেকেই কবুল করেন।’ (সূরা মায়েদা ২৭)
৭) প্রতিদান বিনষ্ট থেকে মুক্তি লাভ : আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করবে এবং ধৈর্য অবলম্বন করবে; নি:সন্দেহে আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করবেন না।’ (সূরা ইউসুফ ৯০)
৮) আল্লাহর ভালবাসা প্রাপ্তি : আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাকওয়াবানদের ভালবাসেন।’ (সূরা তাওবা ৪)
৯) পাপমুক্তি লাভ : আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে তিনি তার পাপসমূহ ক্ষমা করবেন এবং বিরাট প্রতিদানে ভূষিত করবেন।’ (সূরা ত্বালাক ৫)
১০) সহজতা লাভ : আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করবে, তিনি তার প্রতিটি বিষয়কে সহজ করে দিবেন।’ (সূরা ত্বালাক ৪)
১১) সঠিক বোধশক্তি লাভ : আল্লাহ বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ, যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তাকওয়া অর্জন কর, তবে তোমাদের ভালমন্দ পার্থক্য করার শক্তি দান করবেন।’ (সূরা আনফাল ২৯)
১২) জান্নাতে সুন্দরী হুরদের সাথে বিয়ে লাভ : আল্লাহ বলেন, ‘এরপরই আমি তাদেরকে বড় চক্ষু বিশিষ্ট (সুন্দরী) হুরদের সাথে বিয়ে দিব।’ (সূরা দোখান ৫৪)
জাতীয় জীবনে তাকওয়ার সুফল : আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমাদের প্রভুর ক্ষমার প্রতি এবং জান্নাতের প্রতি দ্রুত এগিয়ে যাও, যার পরিধি হচ্ছে আসমান ও জমিনে যা প্রস্তুত করা হয়েছে মুত্তাকীদের জন্য। (মুত্তাকী হচ্ছে তারা) যারা সচ্ছলতা ও অভাবের সময় (মানুষের প্রয়োজনে সম্পদ) ব্যয় করে, যারা নিজেদের রাগ ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষের প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করে। আর আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদেরকে ভালবাসেন। (মুত্তাকী তারাও) যারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা কোন মন্দ কাজে জড়িত হয়ে নিজের উপর যুলুম করে ফেললে (সাথে সাথে) আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে আর আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবেন ? আর তারা জেনে শুনে নিজেদের (ভুল) কৃতকর্মসমূহ বারংবার করতে থাকে না। এরাই তারা যাদের জন্য রয়েছে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং এমন এক জান্নাত যার নি¤েœ ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, তারা তার স্থায়ী অধিবাসী এবং সৎকর্মশীলদের পুরস্কার কতোই না উত্তম !’ (সূরা আল ইমরান ১৩৩ / ১৩৬)
আল্লাহ বলেন, ‘তারা (আহলে কিতাবগণ) সবাই সমান নয়। আহলে কিতাবগণের মধ্যে কিছু লোক এমনও আছে যারা অবিচলভাবে আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করে রাতের গভীরে তারা সিজদায় রত থাকে। তারা আল্লাহর প্রতি এবং কিয়ামত দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং কল্যাণকর বিষয়ের নির্দেশ দেয়; অকল্যাণ থেকে বারণ করে এবং সৎকাজের জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করতে থাকে। আর এরাই হল সৎকর্মশীল। তারা যে সব সৎকাজ করবে, কোন অবস্থাতেই সেগুলোর প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হবে না, আর আল্লাহ মুত্তাকীদের বিষয়ে অবগত। (সূরা আল ইমরান ১১৩/১১৫)
 আল্লাহ বলেন, ‘শুধু মাত্র পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে মুখ ফিরানোর মধ্যে কোন কল্যাণ নেই; বরং কল্যাণ হচ্ছে যে ঈমান আনবে আল্লাহর উপর, কিয়ামত দিবস, ফেরেস্তগণ, আসমানী কিতাবসমূহ ও নবী রাসুলগণের উপর; আর তারই ভালবাসার মানসে আত্মীয় স্বজন, এয়াতীম, মিসকিন, মুসাফির পথিক, ভিক্ষুক ও সর্ব প্রকার দাসত্ব থেকে মানুষকে মুক্তির জন্য সম্পদ ব্যয় করবে; আর যারা নামায প্রতিষ্টা করে, যাকাত প্রদান করে; আর যারা তাদের অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করে যখন তারা অঙ্গীকার করে এবং অভাবে, রোগে, শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্যধারণকারী। আর তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই তাকওয়া অবলম্বনকারী, মুত্তাকী। (সূরা বাকারা ১৭৭)
মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যদি গ্রামের অধিবাসীরা ঈমান গ্রহণ করে ও তাকওয়া অবলম্বন করে অর্থাৎ তওবা করে তবে তাদের জন্য আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর কল্যাণসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম।’ (সূরা আরাফ ৯৬)
আল্লাহ বলেন, ‘এ কিতাব (আল কুরআন) পথ প্রদর্শনকারী পরহেজগারদের জন্য। পরহেজগার হচ্ছে তারা, যারা অদৃশ্য বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে, নামায প্রতিষ্ঠা করে এবং আমি তাদেরকে যে জীবিকা দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে; এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করে, সে সব বিষয়ের উপর যা কিছু আপনার উপর অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যা কিছু অবতীর্ণ করা হয়েছে পূর্ববর্তীদের উপর এবং তারা আখিরাতের প্রতিও দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে।’ (সূরা বাকারা ২/৪)
তাহলে তাকওয়াবান বা আল্লাহভীরু মানুষের কারণে শান্তি আসে ঘরে; শান্তি আসে সমাজ, দেশ বা রাষ্ট্রে। অথচ বিশ্বব্যাপী চারিদিকে আজ অশান্তির আগুনে সবকিছু ছারখার হয়ে যাচ্ছে। অজ্ঞতার জোয়ারে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ আর রাষ্ট্র পাপাচারে নরককুন্ড বানিয়ে ফেলছে। এরাই যদি তাকওয়াবান বা আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার চরিত্রে বলবান হতো তাহলে তারাই সোনার মানুষে পরিনত হয়ে যেত। তারাই হয়ে উঠতো আল্লাহর পছন্দনীয় সর্বোৎকৃষ্ট মানুষ। তারাই শান্তি প্রতিষ্ঠাকামী দুনিয়ার সেরা বান্দা। তাদের দ্বারাই সমস্ত অশান্তির পাহাড় ভেংগ চুড়ে তছনছ করে মহাশান্তির সাগর প্রবাহিত করা সম্ভব।
তাই দুনিয়া ও আখিরাতের সব সমস্যায় ব্যক্তি, সমাজ, দেশ বা জাতির জন্য তাকওয়াই হল সফলতার মহাশক্তি। মানুষের মূল পুঁজি হল তাকওয়া বা পরহেজগারী বা খোদাভীতি। জীবনের শুরু থেকে সকল মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদ হল খোদাকে ভয় করতে শিখা। আল্লাহর ভয় যার হৃদয়ে বিরাজমান সে মরতে রাজী কিন্তু সত্যকে প্রত্যাখান করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। দুনিয়ার মানুষ না জানলেও মহান আল্লাহপাক সবকিছু জানেন এ বিশ্বাস নিয়ে যে চলে সে তো বড় সাহসী। এমন সেরা বীরের পক্ষে ই শুধু হক্বের পথে, আল্লাহর পথে নির্বিঘেœ জীবন বিলিয়ে দেয়া সম্ভব। তারাই অন্যায়ের প্রতিরোধ আর ন্যায়ের প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় মনোবল। সাফল্যের উচ্চমার্গে তারাই পৌঁছে যায়। দুনিয়া ও আখেরাতে তারাই শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ