রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

খুলনা-বেনাপোল-কোলকাতা রুটের বন্ধন এক্সপ্রেস যাত্রীশূন্য

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : খুলনা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে সরাসরি চলাচলকারী ট্রেন ‘বন্ধন’ এক্সপ্রেসে যশোর স্টপেজে দিনদিন যাত্রীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। মাত্র ৪ ঘণ্টায় কলকাতায় যাতায়াতের সুযোগ থাকলেও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে ভ্রমণপিপাসু মানুষের এ ট্রেনের প্রতি কোনো আগ্রহ থাকছে না। যে কারণে এ স্টপেজে যাত্রীর সংখ্যা হতাশাজনক। সর্বশেষ  বৃহস্পতিবার যশোর স্টেশন থেকে মাত্র ৯ জন যাত্রী নিয়ে বন্ধন কলকাতার উদ্দেশে রওনা হয়।
২০১৭ সালের ১৬ নবেম্বর খুলনা-কলকাতা (চিৎপুর স্টেশন) রুটে ৪৫৬ আসনবিশিষ্ট ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার যাত্রী নিয়ে যাতায়াত শুরু করে। ট্রেনটি খুলনা-কলকাতা সরাসরি চালু হলেও যশোরে কোনো স্টপেজ ছিল না। এ জন্য যশোরের বিভিন্ন সংগঠন স্টপেজ এবং সিট বরাদ্দের দাবি জানাতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শেষে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যশোরে স্টপেজ দিতে সম্মত হয়। চলতি বছরের ৭ মার্চ থেকে যশোরের মানুষের জন্য ২০০ টি আসন বরাদ্দ রেখে আপ এবং ডাউন ট্রেনে যাত্রী ওঠা-নামার জন্য যশোর রেলস্টেশনে তিন মিনিট যাত্রাবিরতি দিয়ে ট্রেনটি চলমান আছে।
রেলওয়ের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথম যশোর স্টেশনে যাত্রাবিরতির দিন ৩১ জন যাত্রী নিয়ে ‘বন্ধন’ কলকাতায় গেলেও পরবর্তীতে যাত্রীর সংখ্যা আর বাড়েনি। বরং দিন দিন কমছে। খুলনা থেকেও অল্প সংখ্যক যাত্রী নিয়ে ৪৫০ আসনের এ ট্রেনটি যাতায়াত করছে। যাত্রীরা জানান, ট্রেনের অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে কারো আগ্রহ থাকছে না। মাত্র ১৭৫ কিলোমিটার পথ ট্রেনে চড়ে কলকাতায় যাতায়াত করতে একজন যাত্রীকে শ্রেণিভেদে ভাড়া গুণতে হচ্ছে ১৫’শ থেকে দুই হাজার টাকা। ট্রেনযাত্রায় দুর্ভোগ কম হলেও আর্থিক দিক বিবেচনা করে যাত্রীসাড়া মিলছে না। বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোর রেলস্টেশনে কয়েকজন যাত্রীর সাথে কথা হলে তারা জানান, উৎসুক মানুষ ছাড়া কেউ ট্রেনে চেপে কলকাতায় যাচ্ছেন না। নড়াইলের নড়াগাতি থেকে আসা আব্দুর রহমান নামে এক ট্রেনযাত্রী বলেন, ভাড়ার পরিমাণ বেশি হওয়ায় যাত্রী স্বল্পতার অন্যতম বড় একটি কারণ। ১২০ কিলোমিটার সড়কে এসি সিটে ভাড়া নেয়া হচ্ছে ভ্রমণকরসহ ২ হাজার টাকা ও চেয়ারে নেয়া হচ্ছে ১ হাজার পাঁচ’শ টাকা। অথচ বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে একজন পাসপোর্ট যাত্রীর কলকাতা যেতে ভ্রমণকরসহ খরচ হয় মাত্র ৫৭০ টাকা।
একই কথা বলেন, শরিফুল ইসলাম নামে আরেকজন যাত্রী। তিনি বলেন, টিকিটের অতিরিক্ত দামের পাশাপাশি পদ্ধতিগত অনেক ত্রুটির কারণে মানুষ ট্রেনে চেপে কলকাতায় যেতে চাচ্ছেন না। এর বড় কারণ হচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষ এক দুইদিনের জন্য কলকাতায় যাওয়া আসা করেন। অথচ ট্রেনে টিকিট কাটলে তাকে বাধ্যতামূলক ফিরতি টিকিট কিনতে হচ্ছে। এ জন্য ইচ্ছা অনিচ্ছায় তাকে পরের বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কলকাতায় অবস্থান করতে হচ্ছে। এসব কারণে মানুষ ট্রেনের পরিবর্তে সড়ক পথে কলকাতায় যাচ্ছেন।
নাদিম মোস্তফা নামে আরেকজন যাত্রী বলেন, সাধারণত যশোরের মানুষ সড়কপথে কলকাতায় যেতে অভ্যস্ত। ভোর সকালে বের হয়ে পেট্রাপোল হয়ে দুপুরের মধ্যে কলকাতায় পৌঁছানো সম্ভব। এর জন্য নামমাত্র টাকা খরচ হয়। অথচ ট্রেনে যে টাকা নেয়া হয় তা দিয়ে কলকাতায় দুই তিনদিন ভালোভাবে ঘুরে আসা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যশোর স্টেশনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক মান বিবেচনায় ট্রেনের ভাড়া পুর্ননির্ধরিণে কোনো সমস্যা নেই। দুই দেশের কর্মকর্তারা আন্তরিক হলে এটি সম্ভব। কিন্তু কোনো মহলই এ বিষয়ে উদ্যোগ নিচ্ছে না।
এ বিষয়ে যশোর স্টেশন মাস্টার মো. সাইদুজ্জামান বলেন, খুলনা-কলকাতা ট্রেনটি যশোর স্টেশনে যাত্রাবিরতির প্রথমদিন ৩১ জন যাত্রী নিয়ে কলকাতায় গেলেও পরবর্তীতে আর যাত্রীর সংখ্যা বাড়েনি। এর সর্বোচ্চ যাত্রী সংখ্যা ছিলো ২১ জন। এরপর থেকে যাত্রীর সংখ্যা যা হচ্ছে তা উল্লেখ করার মতো নয়। তিনি বলেন, সর্বশেষ ৪ জুলাই বৃহস্পতিবার এ স্টপেজ থেকে মাত্র ৯ জন যাত্রী ট্রেনে চেপে কলকাতায় গেছেন। তিনি বলেন, যশোর যেহেতু সীমান্তবর্তী জেলা, সে কারণে এ জেলার মানুষ সড়ক পথে অল্প খরচে কলকাতা যেতে অভ্যস্ত। ট্রেনে ভাড়া বেশি হওয়ায় তারা সড়ক পথ বেছে নিয়েছে। বন্ধন এক্সপ্রেস কলকাতা থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ছেড়ে এসে দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনায় পৌঁছে। এরপর খুলনা থেকে দুপুর দেড়টায় ছেড়ে সন্ধ্যা ৬ টা ১০ মিনিটে কলকাতা পৌঁছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ