শুক্রবার ০৭ মে ২০২১
Online Edition

খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে কঠোর হওয়ার আহ্বান -সৈয়দ আবুল মকসুদ

খাদ্যে ভেজাল ও নকল ওষুধ প্রস্তুতকারীদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন লেখক, গবেষক, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ।
গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘খাদ্যে ভেজাল ও নকল ওষুধ প্রস্তুতকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি’র দাবিতে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ আহ্বান জানান তিনি। মানববন্ধনের আয়োজন করে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান চ্যারিটি মানবকল্যাণ সোসাইটি অব বাংলাদেশ। মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর ও যুগ্ম সম্পাদক আলাউদ্দিন আজাদ। সংগঠনের সভাপতি এম নূরুদ্দিন খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, বিশিষ্ট আইনজীবী মাহবুবুর রহমান, সাংবাদিক খায়রুজ্জামান কামাল, সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম বিলু, বাকশালের মহাসচিব জহিরুল ইসলাম কাঈয়ূম, আসক ফাউন্ডেশনের পরিচালক শাহবুদ্দিন প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল মকসুদ বলেন, আজ সমাজের খাদ্যে ভেজাল ও নকল ওষুধ প্রস্তুতকারীর সঙ্গে যারা জড়িত তারা ফৌজধারী অপরাধে অভিযুক্ত। তাদের বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- প্রদান করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের অপরাধ থেকে জাতির মুক্তি অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কারণ খাদ্যে ভেজাল ও নকল ওষুধ প্রস্তুতকারী নিজের ব্যক্তিগত মুনাফা লাভের আশায় আজ পুরো মানবজাতিকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘খাদ্যে ভেজাল ও নকল ওষুধ প্রস্তুতকারী ব্যক্তি দেশ ও জাতির শত্রু। তারা ব্যক্তিগত মুনাফার লোভে এই দেশের জনসাধারণকে পয়জনিং এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে হত্যায় লিপ্ত আছে। সরকারের উচিত হবে, রাষ্ট্রযন্ত্রগুলোর দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি এই ধরনের অপরাধের যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে- এটির মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে অপরাধীর মৃত্যুদ- বা যাবজ্জীবন কারাদ- বা ১৪ বছর কারাদ-ের বিধান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’
মানববন্ধন থেকে জানানো হয়, শুধু খাদ্যে ভেজালের কারণে দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ লোক ক্যান্সারে, ডায়াবেটিসে ১ লাখ ৫০ হাজার, কিডনি রোগে ২ লাখ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া গর্ভবতী মায়ের শারীরিক জটিলতাসহ গর্ভজাত বিকলাঙ্গ শিশুর সংখ্যা দেশে প্রায় ১৫ লাখ। কেমিক্যাল মিশ্রিত বা ভেজাল খাদ্যের কারণে পেট ব্যথা, বমি হওয়া, মাথাঘোরা, বদ হজম, শরীরে ঘামের মাত্রা বেড়ে যাওয়া-কমে যাওয়া, এলার্জি, অ্যাজমা, চর্মরোগ, ব্রেইন স্ট্রোক, কিডনি ফেলিউরসহ মানবদেহে নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ