বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের দাবিতে আমরণ অনশন চলছে

স্টাফ রিপোর্টার : বাদপড়া ৪ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের দাবিতে গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ৪র্থ দিনের মত আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা। গত ৩ জুলাই থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। গত ২১ দিন ধরে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও গত ৪ দিন ধরে আমরণ অনশনে ১৭৩ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়ে।
অনশন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, সমিতির সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ, সমিতির মহাসচিব মো. কামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: জাফর ইকবাল, শিক্ষকনেতা হারুন অর রশিদ, মিজানুর রহমান, বদরুল আমিন সরকার ফরহাদ, ফিরোজ উদ্দিন, আশরাফুল আলম, শাহনাজ পারভীন প্রমুখ।
গত ১৬ জুন থেকে বাদপড়া ৪ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের দাবিতে ‘বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির’ ব্যানারে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করেছেন শিক্ষকরা। তবে, গত ১৮ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন করে আর প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের কোনো প্রস্তাব আপাতত বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মামুনর রশিদ খোকন দৈনিক সংগ্রামকে জানান, ৪ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের দাবিতে গত বুধবার থেকে আমরণ অনশন শুরু করেছেন শিক্ষকরা। গত ২১ দিন ধরে প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করছি। এখন পর্যন্ত ১৭৩ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তারা সুস্থ। তবে, আজকের আমরণ কর্মসূচিতে ঝিনাইদহের শিক্ষক তাছলিমা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মহাসচিব কামাল হোসেন বলেন, শর্ত অনুযায়ী ২০০৯ সাল থেকে সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করা হয়নি। তালিকাভুক্ত থাকার পরও নানা কৌশলে আমাদের বাতিল করা হয়েছে। আমরা তা মেনে নেবো না। জাতীয়করণ আদায়ে আমরা রাজপথে নেমেছি। দাবি আদায় হওয়া না পর্যন্ত শিক্ষকরা রাস্তায় পড়ে থাকবেন। তবে তাদের বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ থাকবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন।
অনশনরত শিক্ষকরা জানান, সরকারি হয়নি এমন ৪ হাজার ১৫৯টি স্কুল রয়েছে। মাঠ পর্যায় থেকে প্রকৃত তথ্য না দেয়ায় এসব স্কুল সরকারি হয়নি বলে দাবি করেন শিক্ষকরা। শিক্ষকরা জানান, সরকারিকরণের প্রক্রিয়ার সময় রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম স্থগিত করায় তারা বেতন-ভাতা, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও টিফিন থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শিক্ষকরা। তারপরেও এসব স্কুলের শিক্ষার্থীরা ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন বলে দাবি করেন শিক্ষকরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ