শুক্রবার ০৭ মে ২০২১
Online Edition

বিধি লঙ্ঘন করে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে নিয়োগের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারের একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মিহির কান্তি মজুমদার এবং ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প পরিচালক আকবর হোসেনের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে নতুন নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ ও আমার বাড়ি আমার খামার (একটি বাড়ি একটি খামার) প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি নামের দুটি সংগঠন । প্রকল্প কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন,বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্থায়ীকরণ ও প্রাপ্য সুবিধা প্রদান না করা পর্যন্ত নতুন জনবল পদায়ন না করা, নিয়োগ বাণিজ্যে প্রায় অর্ধ কোটি টাকাসহ আটক ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতার করা, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে দেয়া নিয়োগ বাতিল করা এবং আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনোরূপ হয়রানি করা যাবে না।
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর আগে সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনও করেন তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ ও আমার বাড়ি আমার খামার (একটি বাড়ি একটি খামার) প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি নামের দুটি সংগঠন। এ সময় প্রকল্পে কর্মরত সব জনবলকে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে স্থায়ীকরণের দাবিও জানানো হয় সাংবাদিক সম্মেলনে।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সোলায়মান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আমার বাড়ি আমার খামার (একটি বাড়ি একটি খামার) প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির সদস্য জিন্নাত আর তুলি, রাজিব সরকার, মো. রহমত, তরিকুল ইসলাম, মানস নন্দী, তাপস ইসলামসহ অনেকে। আর মানববন্ধনে দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
নিয়োগ অনিয়ম অভিযোগের বিষয়ে আমার বাড়ি আমার খামার (একটি বাড়ি একটি খামার) প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, প্রকল্প ও ব্যাংক আইন ও নিয়োগ বিধি অনুযায়ী এই দুটি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এসব বিধান উপেক্ষা করে ব্যাংকের বাইরে থেকে এনজিওকর্মী ও বিভিন্ন ব্যাংক থেকে কর্মী নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া বন্ধে উচ্চ আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি ব্যাংকটিতে প্রায় ১৪৯ জনকে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যাদের এ সপ্তাহেই বিভিন্ন উপজেলায় পদায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।
জসিম উদ্দিন দাবি করেন, এতে বর্তমান প্রকল্পে দীর্ঘ আট বছরে ধরে এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে তিন বছর ধরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ জন্য ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দায়ী করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
জসিম উদ্দিনের অভিযোগ, পুরনো কর্মীদের বাদ দিয়ে ব্যাংকটিতে সম্প্রতি ৪৮৫ জনকে ক্যাশ সহকারী পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এসব নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ ৪৪ লাখ টাকাসহ পুলিশের কাছে গ্রেফতার হন।
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মিহির কান্তি মজুমদারের বিরুদ্ধেও সুবিধা নিয়ে চুক্তিভিত্তিক উপ-আঞ্চলিক কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়ার অভিযোগও তোলেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন। ক্যাশ সহকারী, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও উপ-আঞ্চলিক কর্মকর্তাসহ এ প্রকল্পে নতুন জনবল নিয়োগ করা যাবে না বলেও সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়।
এ সময় আমার বাড়ি আমার খামার (একটি বাড়ি একটি খামার) প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির পক্ষ থেকে বেশকিছু দাবি-দাওয়া তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ২০১৬ সালের ৩০ জুনের আগে নিয়োগ দেয়া এ প্রকল্পের সব জনবলকে দ্রুত পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে স্থায়ীকরণ করতে হবে। গত তিন বছরের ইনক্রিমেন্ট, দৈনিক ভাতা, পদোন্নতিসহ সব সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে জানানা হয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ৪০ হাজার ৫০০ সমিতির ২২ লাখ সদস্য পরিবারের এক কোটি ২০ লাখ মানুষের সঞ্চয় ও সরকারের অনুদান দুই হাজার ১৪০ কোটি টাকাসহ প্রকল্পে বর্তমানে প্রায় তিন হাজার ৩৯৫ কোটি টাকার তহবিল রয়েছে। এ তহবিল থেকে এক হাজার কোটি টাকা নিয়ে গঠিত হয় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ