শুক্রবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

চিকিৎসক সংকটে রোগীদের চরম ভোগান্তি ॥ পদ খালি ৩১

মোস্তাফিজুর রহমান থেকে কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের ঘরে ঘরে সর্দি-জ্বর-কাশির প্রকোপ আর অ্যাজমা ও হার্টের রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। তার সাথে জ্বরের প্রকোপ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। শুধু সর্দি-কাশি জ্বরই নয়, মশাবাহিত রোগব্যাধি এখন নাগরিক জীবনে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। এসব মশার বংশবৃদ্ধি ও বিস্তার লাভের কারণেই আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন এলাকার সচেতন নাগরিক ও চিকিৎসক মহল। ৪২ পদের মধ্যে ৩১টি খালি। 
তীব্র চিকিৎসক সংকটের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা চরম হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে প্রতিদিন। লাইনে দাড়ানোকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন রোগীদের মাঝে ঝগড়া হাতা-হাতি ও মারামারির ঘটনাও ঘটছে। রোগীদের অভিযোগ হাসপাতালে যে ডাক্তারগণ আছেন তাদের অনেকে ঠিকমত রোগী দেখেন না। সকাল ৮ টা থেকে রোগী দেখার কথা থাকলেও ডা. আসে সকাল ১০টা ১১টার সময়। আবার ১টা বাজার সাথে সাথে চলে যায় অনেকে। নানা কারণে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে প্রচ- গরমে চরম ভোগান্তির শিকার হন প্রতিদিন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহিনুর রহমানের সাথে কথা বলে জানা যায়, চিকিৎসক সংকট, কমর্চারী সংকট, আবাসন সংকট সবমিলে রোগীদের একটু কষ্ট হচ্ছে। তত্ত্বাবধায়কের শূন্যপদ পুরণের জন্য রংপুরের ল্যালিন নামের একজন ডাক্তারকে কুড়িগ্রামে পোষ্টিং দেয়া হলেও তিনি এ রিপোট লেখা পর্যন্ত যোগদান করেননি।
বিশেষভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সর্দি-কাশি জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে জেলার সবখানে। চিকিৎসকরা এমন অবস্থাকে বলছেন, মওসুমী জ্বর’। ভাইরাসজনিত কারণে এমনটি হয়ে থাকে। তাই কেউ কেউ এটাকে ভাইরাস জ্বরও বলে থাকেন। সব বয়সের মানুষই এ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। শহরের প্রায় প্রতিটি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে এ জ্বরে আক্রান্তরা ভিড় জমাচ্ছে। রোগীর কাশি অনেক সময় রূপ নিচ্ছে শ্বাসকষ্টে। কেউ কেউ আক্রান্ত হচ্ছে নিউমোনিয়ায়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মওসুমী জ্বর নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ জ্বরের চিকিৎসা লাগে না। রোগীকে স্বাভাবিক খাবার দেয়া অব্যাহত রাখতে হবে। ছোঁয়াচে হওয়ায় এ ধরনের জ্বর থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। ডা. রেজাউল করিম রাজু তিনি একাই প্রায় প্রতিদিন দেড়’শ থেকে আড়াইশ রোগী দেখেন আউট ডোরে বলে জানা যায়। চিকিৎসক সংকটের কারণে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা অবর্ণনীয় কষ্ট পায় বলে জানিয়েছেন রোগীরা। শহরের প্রায় প্রতিটি ঘরে-ঘরে সর্দি-কাশি জ্বরে আক্রান্তের হিড়িক পড়েছে। একজন আক্রান্ত হলে পরিবারের কোনো সদস্যই রেহাই পাচ্ছে না। সব বয়সের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ-িসসহ যে কোনো ভাইরাসজনিত জ্বরকে ‘ভাইরাস জ্বর’ বলা হলেও সাধারণভাবে লোকজন ভাইরাস জ্বর বলতে ‘ফ্লু’কেই বোঝায়। এজন্য প্রধানত দায়ী ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাস। ভাইরাস আক্রমণের দুই থেকে সাত দিন পর এ জ্বর হয়। এ জ্বর হলে শীত শীত ভাব, মাথাব্যথা, শরীরে ও গিঁরায় ব্যথা, খাওয়ায় অরুচি, ক্লান্তি, দুর্বলতা, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া, চুলকানি, কাশি, অস্থিরতা ও ঘুম কম হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে পেটের সমস্যা, বমি ও ডায়রিয়া হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংক্রমণে পেটব্যথাও হতে পারে। তিন প্রকার ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের আবার অনেক টাইপ আছে, যেগুলো অনবরত চরিত্র বদলায়। তাই উল্লিখিত লক্ষণগুলোর প্রতিটি সব রোগীর যে থাকবে তা নয়, আবার একেক রোগীর ক্ষেত্রে এর তীব্রতাও একেক রকম হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে ঠা-া লেগে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে এ রোগ হয়। তাই এসব বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। 
এদিকে অনুসন্ধানে চিকিৎসকগণের হালনাগাদ তথ্য থেকে জানা যায়, ডাক্তার সংকটের কারণে রোগীদের  ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকের মোট পদের সংখ্যা ৪২ জন। ৩১ জনের পদ খালি, আছে মাত্র ১১ জন। ৩১ জন চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসা বিভাগে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সারসংক্ষেপ থেকে জানা যায়, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক পোষ্টিং আছে জয়েন্ট করেননি। সিনিয়র কনসালটেন্ট ১০ জনের মধ্যে আছেন মাত্র-৩ জন। জুনিয়র কনসালটেন্ট ১১ জনের মধ্যে আছেন মাত্র-৫ জন। এমও/ ইএমও/ আইএমও/ প্যাথলজিস্ট/ রেডিওলজিস্ট ১৮ জনের মধ্যে আছেন মাত্র-১ জন। জনস্বার্থে  জরুরি ভিত্তিতে শূন্যপদে ডা. নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় সচেতন মহল ও চিকিৎসা নিতে আসা সচেতন রোগীগণ।
অপরদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত ডা: ইউ.কে রায় ৮নং রুমে বসেন সপ্তাহে মাত্র-৩ দিন। এ ব্যাপারে তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে তাকে না পাওয়ায় তার সাথে কথা বলা বা তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ