শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

যশোরে মাদরাসা দখল নিয়ে তাবলীগ জামায়াতের  দু'গ্রুপ মুখোমুখি

 

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা: যশোরে মাদরাসা দখলকে কেন্দ্র করে তাবলীগ জামায়াতের দু'গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের আশঙ্কা। হেফাজতি ইসলামী অনুসারীরা যশোর শহরের মারকাজ মসজিদের আইনুল উলুম মারকাজ মাদরাসাটি ২০ দিন বন্ধ থাকার পর সন্ত্রাসীদের দিয়ে দখল করে নিয়েছে। ভর্তি নিয়ে সৃষ্ট জটিলার কারণে অনিদিষ্ট কালের জন্য মাদরাসা বন্ধ ঘোষণা করা হলেও শুক্রবার জুম্মার পর দখল করে নেয়ায় তাবলিগের সাদ অনুসারীরা থানায় অবস্থান নেয়। এনিয়ে পুলিশ প্রশাসন উভয় পক্ষকে ডেকে সুষ্ঠু সমাধানের জন্য উদ্যোগ নিলেও হেফাজতিরা প্রশাসনের আহ্বানকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়েছে। এ নিয়ে তাবলিগ জামায়াতের দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।

তাবলিগ জামাতের অন্যতম মুরবিব মাওলানা সা‘দের অনুসারী মাওলানা আব্দুল খালেক বলেন, গত ১৪ জুন ছাত্র ভর্তির জের গোলমালকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে মাদরাসাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর নেপথ্যে ছিল মশিয়ার রহমানের ভর্তি বাণিজ্য ও মাঠটি দখলে নিয়ে ইজারা দেয়া। তিনি ভর্তিকৃত ছাত্রদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নেন। বন্ধ থাকার পর ১৯ জুন বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়। মাদরাসাটি মারকাজ মসজিদের ৮ জন শূরা সদস্য মাদরাসাটি পরিচালনা করেন। তাদের মধ্যে মাওলানা আব্দুর রহমান, হাজী মোজাম্মেল হক, হাজী ওবায়দুল্লাহ, হাজী আব্দুর বারী, ইঞ্জিনিয়ার খায়রুল ইসলাম সা‘দ অনুসারী আর তাবলিগ জামায়াতের মাওলানা জোবায়ের (হেফাজতি) অনুসারী হাজী মশিয়ার রহমান, হাজী লোকমান হোসেন, মাস্টার নজরুল ইসলাম।

হেফাজতি অনুসারী মশিউর রহমান নামে এক সদস্য মাদরাসার মাঠটি দখলে নিয়ে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে সায়েম নামে এক ব্যক্তিকে মোটা অংকের টাকায় ইজারা দেয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগে। এ নিয়ে সাদ পন্থীরা বারবার বাধা দেয়।

বিষয়টি শেষ পযর্ন্ত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয় পর্যন্ত গড়ায়। পুলিশ সুপার মঈনুল হক গত শুক্রবার উভয় পক্ষকে উপস্থিত হওয়ার জন্য জানালেও হেফাজত পন্থীরা কেউ উপস্থিত হয়নি।

শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য সা‘দ অনুসারীরা পুলিশ সুপারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ফিরে আসে। এসময় পুলিশ সুপার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত শান্তি শৃংখলা বজায় রেখে কেউ ওই মাদরাসা খুলতে পারবে না বলে আহ্বান জানান।

শুক্রবার জুম্মাবাদ মশিউর রহমান জনৈক সিয়ামকে দিয়ে মারকাজ মসজিদের খাদেম আবুল হাশেমের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে হত্যার হুমকি দেন। এক পর্যায়ে তাকে আটকে রাখা হয়। এরপর তারা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে মাদরাসার গেট ও ক্লাস রুমের ১০টি তালা ভাঙচুর করে।

হেফাজতিরা আজ মাদরাসাটি দখল করে নেয়ায় ঈশার নামাজের পর সা‘দ অনুসারীরা যশোর কোতয়ালি মডেল থানায় অবস্থান নিয়ে সুষ্ঠু বিচার দাবি জানান। অপরদিকে জোবায়ের অনুসারী মিজানুর রহমান জানান, হাজী আনসার সা‘দ অনুসারীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, মাদরাসাটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আজ এলাকাবাসির সহযোগিতায় খুলেছি। এ ব্যাপারে কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি সমীর কুমার সরকার জানান, শান্তি শৃংখলা বজায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেয়ার জন্য উভয় পক্ষকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ