মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

‘জয় শ্রী রাম’ এখন মারধরের স্লোগান---অমর্ত্য সেন

৬ জুলাই, এনডিটিভি, আনন্দবাজার : নোবেল জয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘আমি এর আগে কখনও এভাবে জয় শ্রী রাম শুনিনি। এখন মানুষকে মারধরে এটা ব্যবহার করা হচ্ছে। বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র নেই বলেই আমার ধারণা।’

গত শুক্রবার বিকালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তার স্মৃতিতে কলকাতা’ শীর্ষক বক্তব্য দেন অমর্ত্য সেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আজ যখন শুনি বিশেষ বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষ ভীত, শঙ্কিত হয়ে রাস্তায় বের হন এই শহরে, তখন আমার গর্বের শহরকে চিনতে পারি না। এসব নিয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার।’

বক্তব্য শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে অমর্ত্য সেন বলেন, ‘জয় শ্রী রাম, রাম নবমী’ এসব কোনো কিছুর সঙ্গেই বাঙালির কোনও যোগ নেই। এখানে দুর্গাপূজো হয়।’

নতুন এই সংস্কৃতি আমদানির পেছনে বিভেদের রাজনীতি কাজ করছে বলেও ইঙ্গিত দেন নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ। তার কথায়, ‘এক সময় হিন্দু মহাসভা এ ধরনের সংস্কৃতির আমদানি ঘটানোর চেষ্টা করেছিল বাংলায়। বিভেদের রাজনীতির বাতাবরণ তৈরি করার চেষ্টা করেছিল। এখন বিজেপি ঠিক সেই একই উদ্দেশ্যে বাংলায় ‘জয় শ্রী রাম’ সংস্কৃতির আমদানি ঘটানোর চেষ্টা করছে।’

একই দিন সকালেও একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অমর্ত্য সেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘যখন শুনি কাউকে রিকশা থেকে নামিয়ে কিছু একটা বলতে বলা হচ্ছে এবং তিনি বলেননি বলে মাথায় লাঠি মারা হচ্ছে, তখন শঙ্কা হয়। বিভিন্ন জাত, বিভিন্ন ধর্ম, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে পার্থক্য আমরা রাখতে দিতে চাই না। ইদানীং এটা বেড়েছে।’

পুরনো দিল্লিতে পার্কিংয়ের জায়গা দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ ও একটি মন্দির ভাঙচুরের কয়েকদিন পর অমর্ত্য সেন এই মন্তব্য করলেন। তার মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সভাপতি দিলিপ ঘোষ। তিনি বলেন, অমর্ত্য সেন হয়তো বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে জানেন না। তিনি কি বাঙালি বা ভারতীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে জানেন? জয় শ্রী রাম সব গ্রামে উচ্চারিত হয়। এখন পুরো বাংলাতেই হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ