মঙ্গলবার ১৭ মে ২০২২
Online Edition

শাহজাদপুরে যমুনায় মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নৌ-চলাচল

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে মনাকোষা ঘাট থেকে যমুনা চরের উদ্দেশ্যে ছুটছে যাত্রী বোঝাই ট্রলার

এম,এ, জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)  : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, চৌহালীসহ যমুনা নদী তীরবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো থেকে  বর্ষাকালে চরাঞ্চলে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম অসংখ্য ত্রুটিপূর্ণ শ্যালোইঞ্জিন চালিত নৌযানে ঠাসাঠাসি করে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় যত্রতত্র চলছে এসব নৌযান। শ্যালো ইঞ্জিনচালিত এসব নৌযানের ফিটনেস ও পারাপারে নৌযানে যাত্রীসংখ্যা ওঠানোর ওপর কোনো নীতিমালা না থাকায় অসংখ্য নৌযান মালিকেরা তাদের ফিটনেসবিহীন এসব নৌযানে ঠাসাঠাসি করে যাত্রী তুলে যমুনার বুকে চলাচল করছে। যমুনা নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো অপেক্ষাকৃত দুর্গম এলাকা হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি যমুনা পর্যন্ত না পৌঁছানোয় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌযান মালিকেরা হাজার হাজার যাত্রীকে জিম্মি করে তাদের নিয়ে ঝূঁকিপূর্ণ চলাচল করলেও দেখার কেউ নেই।

গত বৃহস্পতিবার সকালে শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা নদী তীরবর্তী দুর্গম এলাকা কৈজুরীর ঠুটিয়াঘাট, মোনাকোষা ঘাট, জামিরতার গুদারা ঘাট, জগতলা পূর্বপাড়া, বাসুরিয়া পূর্বপাড়া, কাশিপুরসহ পার্শ্ববতী এলাকাসমূহ সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, অধিক মুনাফার আশায় নৌযান মালিকরা ত্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিনচালিত নৌযানে মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী ও মালামান নিয়ে প্রমত্তা যমুনার বুকের ওপর দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে। মাত্রাতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই এসব ত্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিনচালিত নৌযান যমুনায় ডুবে গিয়ে সাধারণ জনমানুষের জান ও মালের সীমাহীন ক্ষতিসাধনের খবর মাঝে মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। যমুনার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রীদের নিজ নিজ শহরের সাথে যোগাযোগে এসব নৌযানই একমাত্র মাধ্যম হওয়ায় বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষ যমুনায় পারাপার হচ্ছে। এসব নৌযানে শাহজাদপুর, চৌহালীসহ যমুনার পার্শ্ববর্তী চরাঞ্চলে উৎপাদিত বিভিন্ন সামগ্রী পারাপার করা হচ্ছে। এসব ত্রুটিপূর্ণ নৌযানই চরাঞ্চলবাসীর কাছে যোগাযোগে 'অন্ধের ষষ্ঠি' হওয়ায় নিরূপায় হয়ে এভাবেই বছরের পর বছর হাজার হাজার যাত্রী যমুনার বুকে ঝূঁকিপূর্ণ চলাচল ও সব ধরনের মালামাল পরিবহণ করছে। নৌযান মালিকদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপরই চরাঞ্চলের সকল যাত্রীদের নির্ভর করে যমুনা পাড়ি দিতে হচ্ছে। ফলে তারা ঐসব ত্রুটিপূর্ণ নৌযান মালিদের কাছে পুরোপুরি জিম্মি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থার পরিত্রাণে সংশ্লিষ্টদের অবিলম্বে যথাযথ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অতিব জরুরি হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী জানান, শাহজাদপুর, চৌহালী উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চল বানতিয়ার, ছোট চামতারা, বড় চামতারা, হাতকোড়া, মুনপুর, রতনদিয়ার, বাঙ্গালা, বৃদাশুরিয়া, দাশুরিয়া, ক্ষিদ্রদাশুরিয়া, শ্রীপুর, ঠুটিয়া, মনাকষা, স্থল, ধীতপুর, মৌকুড়ি, নোহাটা, শোনতোষা, বসন্তপুর, দিঘলকান্দি, ঘাটাবাড়ী, বা ঐ খোলা, জালালপুর, রূপসী, ঘোরজান, সোনাতনীসহ যমুনার চরাঞ্চলের অসংখ্য জনমানুষ নিম্নমানের ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে ঠাসাঠাসি করে নিয়মিত চলাচল করছে। শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী, জামিরতা, কাশিপুর, বেনুটিয়া, জগতলা ঘাটসহ পার্শ্ববর্তী যমুনা তীরবর্তী বিভিন্ন ঘাট থেকে ওইসব দুর্গম চর এলাকায় ৫/১০ মিনিট পরপর শ্যালোইঞ্জিন চালিত অসংখ্য নিম্নমানের ত্রুটিপূর্ণ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান ছেড়ে যাচ্ছে। বেশি ভাড়া আয়ের লক্ষ্যে ঐসব নৌযানে ঠেসে ঠেসে মাত্রাতিরিক্তভাবে যাত্রী ও মালামাল তোলা হচ্ছে। ফলে যে কোনো সময় অনাকাঙ্খিত নৌ-দুর্ঘটনার আশঙ্কা ক্রমেই বৃদ্ধি ঘনীভূত হচ্ছে। এ ব্যাপারে মনাকোষা ঘাটের ইজারাদার সাবেক ইউপি সদস্য লতিফ মেম্বর জানান, দিনে কয়েক দফা খেয়া নৌকা চলে। ১ /২ ঘন্টা পর পর নৌকা যমুনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় তাই যাত্রীদেরও বিলম্ভ সয় না। আবার অল্প যাত্রী নিয়ে আমাদেরও পোষায়না। তাই যাত্রী বোঝাই করে নিতে হয়। তবে দূর্ঘটনার মত পরিস্থিতি করে যাত্রী তোলা হয়না বলেও দাবী করেন তিনি। তারপরেও প্রবল, প্রমত্তা, রাক্ষুসী যমুনার বুক দিয়ে হাজার হাজার লোকজনকে ঝুঁকি নিয়েই নিয়মিত চলাচল করতে হচ্ছে। এদিকে বর্ষা মৌসুমে যমুনার চরাঞ্চলের অসংখ্য লোকের অবর্ণনীয়, অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে যমুনার পানি বিপদসীমার অনেক নীচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি আছে। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ