শুক্রবার ৩০ জুলাই ২০২১
Online Edition

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে

বিশেষজ্ঞসহ সর্বস্তরের জনগণের আপত্তি ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিইআরসিকে দিয়ে সরকার আবারও গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি দফায় দফায় আয়োজিত গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারীদের জোরালো অভিমতের প্রতিও সামান্য সম্মান দেখায়নি বিইআরসি। অংশগ্রহণকারীরা মূল্য বাড়ানোর বিরোধিতা করলেও বিইআরসি সম্পূর্ণ স্বৈরতান্ত্রিক কায়দায় গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণও অস্বাভাবিক এবং সকল বিচারে অগ্রহণযোগ্য। যেমন সিঙ্গেল বার্নার বা এক চুলার জন্য এতদিন যেখানে মাসে ৭৫০ টাকা দিতে হচ্ছিল সেখানে বাড়ানোর পর দিতে হবে ৯২৫ টাকা। একইভাবে ডাবল বার্নার বা দুই চুলার জন্য ৮০০ টাকার স্থলে দিতে হবে ৯৭৫ টাকা। শতকরা হিসেবে এক লাফেই দাম বাড়ানো হয়েছে ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ। বড় কথা, এই সিদ্ধান্ত ১ জুলাই তারিখ থেকে কার্যকরও করা হয়েছে।
অন্যদিকে তিতাস, বাখরাবাদ ও কর্ণফুলিসহ গ্যাস সরবরাহে সংশ্লিষ্ট ছয়টি কোম্পানির দাবির অজুহাত দেখিয়ে বিইআরসি যে পরিমাণে মূল্য বাড়িয়েছে তার বিরোধিতা করেছেন সকল মহল। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অন্যায়, অযৌক্তিক, অবাস্তব ও জনস্বার্থবিরোধী। গ্যাস খাতে লোকসানের পরিবর্তে আয় বেড়েছে বলে সরকারের প্রচারণার উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল প্রশ্ন করেছেন, আয় সত্যি বেড়ে থাকলে কার স্বার্থে মূল্য বাড়ানো হলো?
তিনি আরো বলেছেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ফলে শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সকল অর্থনৈতিক খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে পণ্যের মূল্য বাড়াবেন। এর ফলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই ক্ষতির শিকার হতে হবে। তাছাড়া প্রতি বছর জনগণের ব্যয় বাড়বে আট হাজার ৬২০ কোটি টাকা। এসব তথ্য ও হিসাবের উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেছেন, এই বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হলো, বর্তমান কর্তৃত্ববাদী সরকার জনগণের কল্যাণকামী সরকার নয়। গ্যাসের মূল্য বাড়িয়ে সরকার তাদের লুটপাটের দায় জনগণের ওপর চাপাতে চাচ্ছে। এর ফলে শিল্পখাতের বিকাশ রুদ্ধ হবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতিও একই আশংকা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, গত কয়েক বছরে শিল্প-কারখানায় মজুরি ও অন্যান্য ব্যয় বেড়েছে ২৯ শতাংশ। তার ওপর যদি অতি উচ্চ হারে গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হয় তাহলে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা দেউলিয়া হয়ে যাবেন। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যও মুখ থুবড়ে পড়বে।
ওদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার এক সমাবেশে বলেছেন, সরকার দলীয় দুর্বৃত্তদের পকেট ভারি করার উদ্দেশ্যেই গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের ব্যবসায়ী নামের যে গোষ্ঠীটি এলএনজি আমদানি করে জনগণকে লুণ্ঠন করছে তাদের জন্য সুযোগ বাড়িয়ে দেয়াই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য। মির্জা আলমগীর অভিযোগ করেছেন, সরকার সুপরিকল্পিতভাবে বাজেটের মাধ্যমে একদিকে জনগণের সম্পদ লুটে নিচ্ছে, অন্যদিকে গ্যাসের মূল্য বাড়িয়ে জনগণকে মারাত্মক সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এই সরকার এক এক করে রাজনৈতিক জীবনে, অর্থনৈতিক জীবনে এবং সামাজিক জীবনে এক ভয়াবহ সংকটের সৃষ্টি করেছে। এমন অবস্থা থেকে মুক্তি অর্জনের জন্য বিএনপির মহাসচিব এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য জনগণের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের মতো গরিব একটি দেশের জনগণের ওপর এক লাফে প্রায় ৩৩ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। দ্রব্যমূল্যের বিচারে সাধারণ মানুষের আয় বাড়েনি। চাকরি বা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। উল্টো বেকারত্ব অনেক বেড়ে গেছে। দফায় দফায় এত বেশি পরিমাণের বৃদ্ধি কোনোক্রমেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না।
একই কারণে জামায়াত ও বিএনপির পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকেও গ্যাসের মূল্য না বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। আমরাও মনে করি, সরকারের উচিত জনগণের ওপর বাড়তি ব্যয়ের বোঝা না চাপানো এবং শিল্প-বাণিজ্যের সুষ্ঠু বিকাশের পথ অবরুদ্ধ না করা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ