শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

নাঙ্গলকোটে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর গলাটিপে হত্যা

নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করে লাশ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার রাতে উপজেলার পেড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর শাকতলী গ্রামে। ধর্ষণের শিকার শারমিন আক্তার (১৬) রিক্সাচালক আমিনুল ইসলামের মেয়ে। শারমিন আক্তার পেড়িয়া মহিলা দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে রাসেল হোসেনের ওই শিক্ষার্থীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের চাচি সুলতানা আক্তার বলেন, রোববার রাত প্রায় ১২টায় তার স্বামী মোস্তফা বাড়ি আসার পর শারমিনদের ঘরে কথা বলার আওয়াজ শুনা যায়। এ সময় আমার স্বামী রাসেলের বাবা কামাল হোসেনকে তাদের বাড়ি থেকে শারমিনের বাড়িতে নিয়ে আসেন। কামাল হোসেন ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে রাসেল এবং শারমিনকে ঘরে দেখতে পান। পরে কামাল হোসেন ও তার ছোট ছেলে ফয়সাল রাসেলকে তাদের ঘরে নিয়ে মারধর করেন। ঘটনার পর ওই দিন রাতে রাসেলের ফুফু পারভিন, আকলিমা, বোন কামরুন নাহার শারমিনকে টানাটানি করে তাদের ঘরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সোমবার সকালে শারমীনকে ঘরের ভুতুরের সাথে কাপড়ের রশি দিয়ে বাঁধা ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। শিক্ষার্থীকে হত্যার সময় তার মা-বাবা বাড়িতে ছিলেন না। শারমিনের বাবা আমির ইসলাম বলেন, অনেকের সাহায্য নিয়ে এবং রিক্সা চালিয়ে অনেক কষ্ট করে মেয়েটিকে পড়া লেখা করাচ্ছি। মেয়েটিকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই।
    শারমীনের মা ছেনোয়ার বেগম বলেন, আমি এবং আমার স্বামী আমার বাপের বাড়ি লাকসাম মুদাফরগঞ্জের পাশাপুরে আমার অসুস্থ বাবাকে দেখতে যাই। রাতে আমার মেয়ে এবং ছোট ছেলে সোহাগ ঘরে ছিল। সোমবার সকালে অভিযুক্তর বাবা মোবাইল ফোনে খবর দেয় শারমিনের দাদি মারা গেছে। কিন্তু বাড়িতে এসে দেখি মেয়েকে ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমার মেয়েকে রাসেল ও সঙ্গীয় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করে। ঘাতক ওড়না দিয়ে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখে ওই ওড়নার উপরিভাবে ১৪টি গিট রয়েছে, বুকের ওপর ১টি গিট রয়েছে। গলায় ও হাতে বিভিন্ন আঘাতের চিহৃ রয়েছে। স্থানীয় সর্দার সায়েদুল হক বলেন, উভয় পক্ষ চাইতেছে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করার জন্য। গতকাল মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল কিন্তু সালিশ হচ্ছে না। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত কামাল হোসেন, রাসেলসহ পরিবারের সবাই পলাতক রয়েছে।
এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার নাঙ্গলকোট থানার ওসি (তদন্ত) আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ