বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার ম্যাচ 

স্পোর্টস রিপোর্টার : বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার টার্গেট নিয়ে আজ মাঠে নামছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। এ ম্যাচ জিতলেই নিশ্চিত হবে শেষ চার। এই মুহূর্তে এক পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। উভয় দলই গ্রুপ পর্বে আজ নিজেদের নবম শেষ ম্যাচ খেলতে নামবে। এই ম্যাচ জিতে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে মাঠে নামবে দল দুটি। তবে পরাজিত হলেও দুই দলেরই একটা সুযোগ থাকবে সেমিতে উঠার। তবে সে ক্ষেত্রে পরের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। 

তাই কোন সমীকরনে না গিয়ে এ ম্যাচ জিতেই সরাসরি সেমি নিশ্চিত করতে মাঠে নামেবে দল দুটি। চেস্টার লী স্ট্রীটের এ ম্যাচে যদি ইংল্যান্ড পরাজিত হয় এবং নিজেদের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে হারাতে পারলে সেমিফাইনালে উঠে যাবে পাকিস্তান। আবার নিউজিল্যান্ড পরাজিত হলে এবং ভারত ও পাকিস্তানকে হারাতে পারলে সম্ভাবনা থাকবে বাংলাদেশেরও। সে ক্ষেত্র শেষ চারের নিয়ামক হবে আরো অনেক কিছু। তবে এই মুহূর্তে বিশ্বকাপে নিজেদের লক্ষ্যস্থান ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের নিজেদের হাতে। 

আগের ম্যাচে অপরাজিত ভারতের বিপক্ষে ৩১ রানের জয় নিয়ে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। শ্রীলংকার কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে পরাজিত হয়ে ভারতের কাছে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ স্থান হারানো ইংল্যান্ড আবার রোববার বিরাট কোহলির দলের বিপক্ষেই জয়ী হয়ে এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। তবে সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার সেমিতে খেলতে আর কোন সমীকরনেরই প্রয়োজন নেই। ফলাফলের চেয়ে ইংল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হচ্ছে ভারতকে পরাজিত করে এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস অর্জন করা। ২০১৫ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়া ইংলিশদের ওয়ানডে ক্রিকেটে পুনরুত্থানের বিষয়টি। ভারতের বিপক্ষে জনি বেয়ারস্টো (১১১) এবং হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি থেকে ফেরা জেসন রয় (৬৬) ওপেনিং জুটিতে ১৬০ রান করেন। এরপর বেন স্টোকসের টানা তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরিসহ ৭৯ রানের সুবাদে ৭ উইকেটে ৩৩৭ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় ইংল্যান্ড। 

এরপর প্রথমবার বিশ্বকাপ শিরোপায় চোখ রাখা ইংলিশরা কঠিন ফিল্ডিং করে। যার সঙ্গে ক্রিস ওকসের মনোমুগ্ধকর পারফরমেন্স এবং মিডল ওভারে পুনরায় ডাক পাওয়া লিয়াম প্লানকেটের(৩-৫৫) নৈপুন্যে জয় নিশ্চিত হয় ইয়োইন মরগানের দলের। ক্রিস ওকস বলেন, ‘আমরা যে চাপের মধ্যে ছিলাম তার মধ্যে এমন একটা ম্যাচ জয়ে আমরা সঠিক পথে ফিরেছি এবং পরবর্তী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এমনকি তারপরও এটা সহায়ক হবে আশা করছি।’ পক্ষান্তরে দুরন্ত একটা সুচনার পর পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরপর দুই ম্যাচে পরাজিত হওয়ায় নিউজিল্যান্ডের মিশনে একটা ধাক্ক লেগেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা বাঁ-হাতি পেসার ট্রেন্ট বোল্ট এবং অপর পেসার লোকি ফার্গুসন যেকোন দলকে পরীক্ষা নিতে সক্ষম। রিভার সাইড স্টেডিয়ামের কন্ডিশনে খুব বেশি টার্ন না থাকায় এ ম্যাচে স্পিনার ইশ সোধির পরিবর্তে আরেক পেসার ম্যাট হেনেিরক একাদশে রাখতে পারে নিউজিল্যান্ড। তবে চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বেশ কয়েকজন সেঞ্চুরি হাকালেও নিউজিল্যান্ডকে রান পেতে কেবলমাত্র অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন এবং রস টেইলরের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে সুযোগ পাননি কলিন মুনরো এবং আরেক ওপেনার মার্টিন গাপটিলও ফর্মে নেই। শ্রীলংকার বিপক্ষে অপরাজিত ৭৩ রান করার পর গত ছয় ইনিংসে তার মোট রান মাত্র ৮৫। হউইকেটরক্ষক টম লাথামের টুর্নামেন্টে গড় রান ৮.২। নিউজিল্যান্ড ব্যাটিং কোচ ক্রেইগ ম্যাকমিলান বলেন, ‘আমরা এখনো আমাদের অভীস্ট লক্ষের পথে আছি এবং সেটা নিয়েই চিন্তা করছে এমনটা থাকা খুবই ভাল একটা বিষয়।’ ‘অবশ্যই এটা সত্যি যে গাপটিল এবং লাথাম রান পাচ্ছেনা। তবে এক সঙ্গে ব্যাটিং ইউনিট জ্বলে না ওঠায় আমরা এক্সাইটেড।’

দল: নিউজিল্যান্ড: মার্টিন গাপটিল, কলিন মুনরো, কেন উইলিয়ামসন(অধিনায়ক), রস টেইলর,ইস সোধি, জেমস নিশাম. কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, মিচেল স্যান্টনার, ম্যাট হেনরি, লোকি ফার্গুসন, ট্রেন্ট বোল্ট, টম লাথাম.হেনরি নিকোলস, টিম সাউদি, টম ব্লান্ডেল

ইংল্যান্ড:ইয়োইন মরগান (অধিনায়ক), মঈন আলী, জনি বেয়ারস্টো, জস বাটলার, টম কারান, লিয়াম প্লানকেট, আদিল রশিদ, জো রুট, জেসন রয়, বেন স্টোকস, ডেভিড উইলি, ক্রিস ওকস, মার্ক উড, জেমস ভিন্স, জোফরা আর্চার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ