সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

ধলঘাটায় তলিয়ে গেছে শরইতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ॥ হুমকির মুখে বেড়িবাঁধ

সরওয়ার কামাল মহেশখালী (কক্সবাজার) : মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়নের বনজামিরা ও শরইতলা নামক দুই গ্রাম জোয়ারের পানির তোড়ে বিলীন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সূত্র।
এছাড়া ধলঘাটা ইউনিয়নের শরইতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জোয়ারের পানির ধাক্কায় ভেঙে যাওয়ায় ওই গ্রামের স্কুলের শিক্ষার্থীদের অন্য স্কুলে গিয়ে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করতে হচ্ছে বলে জাননান স্কুলের শিক্ষার্থী মোঃ ইয়াসিন। দিন দিন জলবায়ূৃ পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাব ও প্রতিদিনের জোয়ার ভাটায় বিছিন্ন হতে পারে ধলঘাটা অনেক এলাকা। এ অবস্থায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মান সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী হয়ে পড়েছে। না হলে ধলঘাটা ইউনিয়নের উত্তর সুতরিয়া এবং বাজার রক্ষাবাঁধ পানির কবলে পড়ে ভেঙে গিয়ে দক্ষিণ সুতুরিয়া বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাবে ওই গ্রামের বাসিন্দারা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ইউনিয়নের বনজামিরা ও শরইতলা বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে গেছে। ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্নিঝড়ের পর থেকে মূলত ধলঘাটায় কোন টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মিত না হওয়ায় ক্রমাগত সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের করাল গ্রাসে ধীরে ধীরে এই দুটি ওয়ার্ড সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে এই দুটি ওয়ার্ডের লোকজনগুলো এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় বসবাস করেছে।
অপর দিকে ধলঘাটা মাতারবাড়ীর  তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প, ধলঘাটা অর্থনৈতিক অঞ্চল, সর্বোপরি বন্দরের মত মেঘা প্রকল্প স্থাপনের সুবাদে ধলঘাটার  চারদিকে টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মান হবে এমন স্বপ্ন ধলঘাটাবাসী দেখলেও তা এখন শুধু স্বপ্ন বলে মনে করেন এলাকাবাসী। কেননা মেঘা প্রকল্পগুলো শুধু মাত্র তাদের অধিগ্রহণকৃত জমি এবং প্রকল্পের নিরাপত্তার জন্য যে টুকু   নিরাপত্তা বেষ্টনী দরকার সেই টুকুর মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং  এর বাইরে ধলঘাটার বেড়ীবাঁধ বা সড়ক নির্মাণের তাদের কোন উদ্যোগ  দেখা যায়নি বলে জানা যায়। ফলে ধলঘাটা ইউনিয়ন আগে যেমন ভাঙা বেড়ি বাঁধবিহীন ছিল বর্তমান এবং ভবিষৎতে ও সেই অবস্থায় রয়ে যাবে বলে এলাকাবাসীর ধারণা। ধলঘাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন, ধলঘাটার চারদিকে টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণের জন্য বর্তমান সাংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিকের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পানি সম্পদ মন্ত্রাণালয়ে একাধিকবার তদবীর  করা হয়েছে এবং বর্তমানেও চেষ্টা আছে। কর্তৃপক্ষ অনেকবার টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণের জন্য টেন্ডার হওয়ার কথা মুখে এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটছেনা। মহেশখালী উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোঃ জামিরুল ইসলাম  বলেন, ধলঘাটা অরক্ষিত হওয়ার বিষয়টি আমার নজরে রয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ