সোমবার ১৮ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

প্রবৃত্তিতে নয় সমাধান বান্দা হওয়ার মধ্যে

বিশ্ব সভ্যতার অভিঘাত ক্ষুদ্র দেশেও প্রভাব ফেলে। এ কারণে চিন্তাশীল মানুষ বিশ্ব সভ্যতা নিয়ে ভাবেন, মন্তব্য করেন, প্রতিবাদও করেন। আর সমাজ-সভ্যতা? আমরা তো সমাজেরই মানুষ। আমাদের আচরণেই তো গড়ে উঠেছে সমাজ। সমাজের নাগরিকরাই তো সমাজ-সভ্যতার কারিগর। তবে এখানে সবার দায়িত্ব এক রকম নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব তো আলাদা-আলাদা। রাজনৈতিক দল, প্রশাসন ও সরকারের দায়িত্বকে এক কাতারে ফেলা যায় না। তবে এ কথা অস্বীকার করা যাবে না যে, সমাজ-সভ্যতা বিনির্মাণে নিজ নিজ জায়গায় সবারই দায়দায়িত্ব রয়েছে; আর দায়িত্বে মাত্রা ও পরিমাণগত পার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের সমাজ-সভ্যতার রূপটা এখন কেমন? কেমন সমাজে আমরা বসবাস করছি।
৩০ জুনের (২০১৯) একটি জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিকের প্রধান শিরোনাম ছিল ‘বীভৎসরূপে সামাজিক অপরাধ’। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, পারিবারিক ও সামাজিক অপরাধের মাত্রা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বীভৎস ও নিষ্ঠুরভাবে খুন হচ্ছে মানুষ। ধর্ষণ করা হচ্ছে শিশু থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধাকে। সন্তানের হাতে বাবা-মা, বাবা-মার হাতে খুন হচ্ছে সন্তান। শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার হচ্ছে ছাত্রী। সমাজের সর্বস্তরে যেন ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে অপরাধ। তুচ্ছ ঘটনায় মানুষ মানুষকে হত্যা করছে। কখনও প্রকাশ্য কুপিয়ে, কখনও পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে। যতই দিন যাচ্ছে ততই সমাজে অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। মাদকের প্রভাব, সম্পদের লোভ, রাতারাতি ধনী হওয়ার বাসনা, সুস্থ ধারার বিনোদনের অভাব, নানা ধরনের বৈষম্য ও অসঙ্গতিকে ওইসব অপরাধের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন অপরাধ বিজ্ঞানীরা। এছাড়া তরুণদের মধ্যে সৃষ্ট হতাশা, আইন প্রয়োগে ব্যর্থতা, পারিবারিক শিক্ষাদীক্ষার অভাব এবং ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়কে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন বিশ্লেষকরা।
কোন সমাজে অপরাধের মাত্রা যখন বীভৎস রূপ ধারণ করে তখন তো অপরাধ বিজ্ঞানীরা-বিশ্লেষকরা তার কারণ খোঁজার চেষ্টা করবেনই। এখানেও আমরা সেটা লক্ষ্য করেছি। যৌক্তিকভাবেই তারা কিছু কারণ তুলে ধরেছেন এবং সেখান থেকে অপরাধ দূরীকরণের কিছু ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। বীভৎস অপরাধের বিশ্লেষণে ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয়ের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। যেন আর দশটা কারণের মধ্যে এটাও একটা কারণ। আমাদের বিবেচনায়, এ ধারার বিশ্লেষণে সংকটের গভীরে পৌঁছা যাবে না এবং ধর্ম-দর্শনের কার্যকর উপকারিতাও লাভ করা যাবে না। এ প্রসঙ্গে আরবের আইয়ামে জাহেলিয়াত বা অন্ধকার যুগের কথা উল্লেখ করা যায়। বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজে অপরাধের যে বীভৎস রূপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তার সবই ছিল আরবের ওই সমাজে। এমনকি ওই সমাজে কন্যাশিশুদের জীবন্ত কবর দেয়া হতো। কিন্তু ওই অন্ধকার সমাজ আলোকিত সমাজে পরিবর্তিত হলো কেমন করে? সংক্ষিপ্ত এই পরিসরে দু’টি কথাই শুধু উল্লেখ করতে চাই। নবী মোহাম্মদ (স.) ধর্মকে পরিপূর্ণ জীবনবিধান হিসেবে মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন আরবের পথভ্রষ্ট সমাজের মানুষদের। ওই আহ্বানে সাড়া দিয়ে মানুষ যখন নিজেকে প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত করে আল্লাহর বান্দায় পরিণত করলো, তখনই সমাজ হয়ে উঠল আলোকিত শান্তির সমাজ। বর্তমান ঝলমলে এই জাহেলিয়াতের যুগেও আরবের ওই মডেলই মানুষের জন্য উপকারী ও কার্যকর হতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ