সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

খুলনায় সকল বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কর্মবিরতি পালন!

খুলনা অফিস : ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খুলনার সকল বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক প্রতিকী কর্মবিরতি পালন করেছে। রোববার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স এসোসিয়েশন (বিপিএইচসিডিওএ) খুলনা এ কর্মবিরতি পালন করে। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের প্রধান ফটকে কর্মবিরতির বিজ্ঞপ্তি টানানো থাকলেও ভিতরে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম চলতে দেখা গেছে।
প্রতিকী কর্মবিরতি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আতংকিত অবস্থায় হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করা কষ্টসাধ্য হওয়ায় খুলনা শহরের সকল বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে দুই ঘণ্টার প্রতিকী কর্মবিরতি’। তবে, নগরীর সাউথ সেন্ট্রাল রোডস্থ সেতু ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ইউনাইটেড ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টারসহ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম চলতে দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৪ জুন নগরীর টুটপাড়া এলাকায় ন্যাশনাল হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অপারেশনের পর অবহেলায় সালেহা বেগম (৬৫) নামে এক রোগী মারা যায়। ওই ঘটনা নিয়ে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ শুরু করলে সদর থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় ২৭ জুন র‌্যাব-৬’র একটি দল ওই হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থার সত্যতা পায়। এ অভিযোগে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান খান ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক মো. মনিরুল ইসলামকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন। অভিযানের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান খান জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে হাসপাতালটিতে কোন চিকিৎসক পাওয়া যায়নি। চিকিৎসাসেবায় অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারনে রোগীর মৃত্যু অভিযোগেরও প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের নিজস্ব ফার্মেসিতে থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ ও অপারেশন কক্ষে অবৈধ প্যাথেডিন জব্দ করা হয়। এছাড়া পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে প্রয়োজনীয় কোন যন্ত্রপাতি ছিলো না।
এদিকে, ভ্রাম্যমান আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে এবং র‌্যাবের অভিযানের প্রতিবাদ জানিয়ে গত ২৮ জুন সন্ধ্যায় সাত রাস্তা মোড়স্থ বিএমএ ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএইচসিডিওএ) খুলনা।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. ইউসুফ আলী সাংবাদিকদের বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জেল-জরিমানা করার পূর্বে অপরাধের বিষয়ে স্বীকারোক্তি নেন। কেউ যদি অপরাধ স্বীকার না করে সেক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল-জরিমানা না করে আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নিয়মিত মামলা রুজুর পরামর্শ দেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে কেউ জনসম্মুখে বিরোধীতা  করলে তা বেআইনি বলে গণ্য হবে। তাছাড়া ২৭ জুন ন্যাশনাল হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় হাসপাতালের মালিক পক্ষ তাদের অব্যবস্থাপনার কথা স্বীকার করেন। জেলা প্রশাসন কোন অন্যায়ের কাছে পরাস্ত হবে না। অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ