রবিবার ১১ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

তারা জনগণের সরকার নয় তাই কথা বলতে দিতে চায় না -ডা. জাফরুল্লাহ

স্টাফ রিপোর্টার : ভাসানি অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ডা. জাফরুল্লাহ বলেছেন, এই সরকার বঙ্গবন্ধুকে মানে না। তারা শেখমুজিবকে ব্যবহার করে। আদর্শ মানে না। তিনি বলেন, শেখ মুজিব বাকশাল কায়েম করেছিলেন। কিন্তু তিনি চাইতেন জেলাভিত্তিক বাজেট। তাহলে উন্নয়ন বৈষম্য আরও কমে যেত। এত লুটপাট হতো না।
গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে কমরেড আলা উদ্দিনের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বপন স্মৃতি পরিষদ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। আয়োজক সংগঠনের আহবায়ক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, ভাষা মতিনের স্ত্রী গুলবদনেছা, লেখক আফরোজা অদিতি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সরকার ন্যায় পথে বিশ্বাস করেনা মন্তব্য করে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, এই সরকার বড় একটি কাজ করতে পেরেছে। সেটা হলো বিরোধী  দল গুলোর আন্দোলন আটকে দিয়েছে। যেহেতু তারা জনগণের সরকার না; তাই কথা বলতে দিতে চায় না। আর আমাদের বিভক্তির জন্য আমরা আন্দোলনে সুবিধা করতে পারি না।
তিনি বলেন, সরকার ভিন্ন মত সহ্যই করতে পারে না। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার চাপে প্রথমা একে খন্দকারের বই বাজার থেকে উঠিয়ে নিয়েছে। আমি সিরাজুল ইসলাম নামের বইটিও মওলা বাদার্স বাজার থেকে তুলে নিয়ে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু ভারতে মুক্তিযুদ্ধের অন্তরালে শেখ মুজিব নামে একটি বই প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে পদে পদে শেখ মুজিবকে ছোট করা হয়েছে। সেই বিষয় নিয়ে সংসদে টু শব্দটিও হচ্ছে না।
মুক্তিযুদ্ধের এই সংগঠক সংসদের পাশ হওয়া বাজেটের সমালোচনা করে বলেন, এই বাজেট গরিবের কোন উপকারে আসবে না। এর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন সরকার গার্মেন্টস মালিকদের ৩২ শ’কোটি টাকা দিয়েছে। এই টাকা মালিকরা পেয়েছেন। গরিবের কী কোন লাভ হয়েছে ? সঞ্চয়পত্রে শতকরা ১০ ভাগ ট্যাক্স বসানো হয়েছে। এটাও গরিবের পকেট কাটা হচ্ছে। কারণ ধনীরাতো দেশে টাকা রাখে না। বিদেশে পাচার করে। তাও হালাল পথে পাঠানো হয় না।
তিনি আরও বলেন, আমার কাছে ভাল লেগেছে যে, প্রধানমন্ত্রী বিএনপির নেতারা কোথায় টাকা রেখেছে তা বলে দিয়েছেন। এবার যদি এই কথা বলে দেন যে ওনারা টাকাটা কোথায় রেখেছেন। দেশ থেকে ২ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে সে টাকাগুলো কোথায় যায় তাতো জনগণকে জানাতে হবে।
নির্বাচন কমিশন এবং সুপ্রীমকোর্টের বাজেট কমানোতে সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তারা জেনে গেছে যে, বিচারপতিদের আর কিছু করার নেই। আর নির্বাচন কমিশনেরও কোন দরকার নেই। দরকার আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর। তাদের বরাদ্দ বাড়ালেই চলবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, বিভক্তির কারণে বামরা কিছু করতে পারেনি। একই কারণে আজ দেশে আন্দোলন হয় না। বামেরা জনগণের ভাষায় কথা বলতে পারে না। তাদের দ্বিধাবিভক্তি ভুলে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক।
ভাষা মতিনের স্ত্রী গুলবদ নেসা বলেন, দেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে গেছে। সেইসাথে ভেসে গেছে খুন, ধর্ষণ আর রাহাজানিতে। এর বিরুদ্ধে আন্দোলন হচ্ছে না তা নয়। হচ্ছে। কয়েকদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু পেরে ওঠেনি। তাদেরকে আবারো উদ্বুদ্ধ করতে হবে। শক্তি সঞ্চয় করতে হবে। 
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন শেখ হাসিনাকে বড় কমিউনিস্ট উল্লেখ করে বলেন, আজ তিনি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখছেন। অন্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। আমাদের আবারো ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজে নামতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ