সোমবার ২৫ মে ২০২০
Online Edition

পাকিস্তানের ঘামঝরা জয়

আফগানিস্তান-২২৭/৯ (৫০ ওভার)

পাকিস্তান- ২৩০/৭ (৪৯.৪ ওভার)

পাকিস্তান ৩ উইকেটে হয়ী। 

রফিকুল ইসলাম মিঞা : আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২২৮ রানের সহজ টার্গেট পেয়েও ম্যাচে হারতে বসেছিল পাকিস্তান। তবে শেষ পর্যন্ত হারেনি পাকিস্তান। পেয়েছে কস্টার্জিত জয়। গতকাল পাকিস্তান ৩ উইকেটে হারায় আফগানিস্তানকে। এই জয়ের ফলে ৯ পয়েন্ট নিয়ে ইংল্যান্ড আর বাংলাদেশকে পিছনে ফেলে পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে এল দলটি। গতকাল আগে ব্যাট করে আফিগানিস্তান ৯ উইকেটে করেছিল ২২৭ রান। জয়ের জন্য ২২৮ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচে হারতেই বসেছিল পাকিস্তান। তবে শেষ পর্যন্ত ইমাদ ওয়াসিম-ওয়াহাব রিয়াজের ব্যাটে ভর করে ২ বল আগে ৭ উইকেটে ২৩০ রান করে ৩ উইকেটে  জয় পায় দলটি। দলের পক্ষে ৪৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ইমাদ ওয়াসিম দলকে জয়ী করার পাশাপাশি ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন। ম্যাচে হারলেও পাকিস্তানকে সহজে ছেড়ে দেয়নি আফগানরা। জয়ের জন্য লড়াই করেছে শেষ পর্যন্ত। এর আগে ভারতের বিপক্ষেও কঠিন লড়াই তরে হেরেছিল আফগানিস্তান। 

জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে ২২৮ রানে টার্গেটটা সহজই ছিল। তবে ব্যাট করতে নেমে শুন্য রানেই প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। ওপেনার ফখর জামান রানের খাতা খোলার আগেই এলবি আউট হন মুজিব উর রহমানের বলে। শুন্য রানে পাকিস্তান প্রথম উইকেট হারালেও দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ইমাম উল হক-বাবর আজম মিলে দলকে ভালোই এগিয়ে নেয়। এই জুটি ভাংগার আগেই পাকিস্তান পৌছে যায় ৭২ রানে। মোহাম্মদ নবীর বলে ইমাম এর বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। আউট হওয়ার আগে ইমাম ৫১ বলে ৪ বাউন্ডারিতে করেন ৩৬ রান। ইমামেম বিদায়ে বেশি সময় টিকতে পারেননি বাবর আজমও। দলীয় ৮১ রানে ফিরতে হয় বাবরকে। বাবর আজমকে বোল্ড করেন মোহাম্মদ নবী। তবে আউট হওয়ার আগে ৫১ বলে ৫ চারে ৪৫ রান করেন বাবর। ফলে শতরানের আগেই পাকিস্তান হারায় তিন উইকেট। তবে মোহাম্মদ হাফিজ-হারিস সোহেল জুটির উপর ভর করে শতরানের কোটা পার করে দলটি। এই জুটিতে পাকিস্তান পৌছে যায় ১২১ রানে। হাফিজের বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। মুজিবের বলে শাহীদিকে ক্যাচ দেয়ার আগে হাফিজ ৩৫ বলে করেন ১৯ রান। দলীয় ১৪২ রানে পাকিস্তান হারায় হারিস সোহেলের উইকেট। রশিদ খানের বলে এলবি হওয়ার আগে হারিস সোহেল করেন ৫৭ বলে ২৭ রান। ফলে ১৪২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান ম্যাচটি কঠিন করে ফেলে। ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ ১৮ রান করে রান আউটের ফাঁদে পড়ে বিদায় নিলে পাকিস্তানের চাপটা আরো বেড়ে যায়। তবে ইমাদ ওয়াসিম টিকে থেকে দলকে জয়ের পথেই এগিয়ে নেন। শাদাক খানকে নিয়ে জুটি করে দলকে দুশত রানে নিয়ে যান ইমাদ ওয়াসিম। দলীয় ২০৬ রানে শাদাব খান রান আউট হয়ে ফিরেন ১১ রান করে। দলকে জয়ী করতে ইমাদ এর সাথে জুটি করতে নামেন ওয়াহাব রিয়াজ। এই জুটিই ২ বল বাকি থাকতে পাকিস্তানকে জয় এনে দেয়। জয়ের জন্য শেষ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ৬ রান। আফগান অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব বেশ টাইট বোলিংই করছিলেন। প্রথম তিন বলে একটি ওভার থ্রো হওয়ার পরও ৪ রানের বেশি আসেনি। কিন্তু চতুর্থ বলে ঠিকই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দেন ইমাদ ওয়াসিম। উল্লাসে মেতে উঠে পাকিস্তান শিবির। ফলে দুই বল বাকি থাকতে পাকিস্তান ৭ উইকেটে ২৩০ রান করে ম্যাচ জিতে নেয় ৩ উইকেট। দলের পক্ষে ইমাদ ওয়াসিম ৪৯ রানে অপরাজিত থেকে দলতে জয়ী করেই মাঠ ছাড়েন। ৫৪ বলে৫ চারে সাজানো ছিল তার ইনিংসটি। ওয়াহাব রিয়াজ ৯ বলে ১ চার আর ১ ছক্কায় ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। আফগানিস্তানের পক্ষে মুজিব উল রহমান আর মোহাম্মদ নবী নেন দুটি করে উইকেট। এর আগে, টস জিতে আগে ব্যাট করে আফগানিস্তান ৯ উইকেটে করে ২২৭ রান। ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তান শুরুটা ভালো করলেও পাকিস্তানের বোলারেদের সামনে শেষ পর্যন্ত দলটির স্কোর আটকে যায় ২২৭ রানে। দুই ওপেনার ভালো শুরুর পর দলীয় ২৭ রানে এই জুটির পতনে দ্রুত টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান হারিয়ে বিপাকে পড়ে দলটি। দলীয় ২৭ রানে অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব আউট হওয়ার পর ব্যাট করতে নেমে দলের রান যোগ হওয়ার আগেই শুন্য রানে আউট হন হাশমতউল্লাহ শহীদি। শাহীন শাহ আফ্রিদি পর পর দুই বলে এই দুই ব্যাটম্যানকে আউট করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন। গুলবাদিন নাইব ১৫ রান করলেও হাশমতউল্লাহ শহীদি রানের খাতা খোলার আগেই আউট হন। দলীয় ৫৭ রানে আফগানিস্তান হারায় অপর ওপেনার রহমত শাহকে। ইমাদ ওয়াসিমের বলে আউট হওয়ার আগে এই ওপেনরা করেন ৩৫ রান। ৫৭ রানে ৩ উইকেট হারানো আফগানদের পথ দেখান আসগর আফগান ও রহমত শাহ। দুজনে মিলে গড়েন ৬৪ রানের জুটি। ফলে এই জুটি ভাংগার আগেই দলটি পৌছে যায় ১২১ রানে। আসগর আফগানের বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। শাদাব খানের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৩৫ বলে ৪২ রান করেন আসগর। ব্যাট করতে নেমে ইকরাম আলিখিল ৬৬ বল খেলে করেন মাত্র ২৪। মোহাম্মদ নবী নেমেও দলকে এগিয়ে নিতে পারেননি। ৩৩ বল খেলে ১৬ রান করে ওয়াহাব রিয়াজের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন। ফলে ১৬৭ রানে দলটি হারায় ৬ উইকেট। তবে ব্যাট করতে নেমে নজিবুল্লাহ জাদরান ভালোই চেস্টা করেছেন দলকে এগিয়ে নেয়ার। তার ব্যাটিংয়েই দুইশত রানের কোটা পার করে দলটি। তবে দলীয় ২০২ রানে জারদানের বিদায়ে বড় স্কোর গড়ার আশা শেষ হয় আফগানদের। শাহীন শাহ আফ্রিদির বলে আউট হওয়ার আগে জাদরান করেন ৪২ রান। ৫৪ বলে ৬ চারে সাজানো ছিল তার ইনিংসটি। শেষের দিকে রশিদ খান ৮ রান আর হামিদ হাসান এক রানে মাঠ ছাড়েন। শেষ পর্যন্ত ১৯ রানে সামিউল্লাহ সেনওয়ারি ও মুজিব উর রহমান ৭ রানে অপরাজিত থেকে দলকে নিয়ে যায় ২২৭ রানে।  পাকিস্তানের হয়ে একাই ৪ উইকেট তুলে নেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। এছাড়া দুটি করে উইকেট নেন ইমাদ ওয়াসিম ও ওহাব রিয়াজ আর একটি নেন শাদাব খান। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ