সোমবার ২৫ মে ২০২০
Online Edition

চট্টগ্রামে আ’লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামের লালখানবাজারে আওয়ামী লীগের দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে শুক্রবার দিবাগত গভীর রাত থেকে গতকাল শনিবার বিকাল পর্যন্ত থেমে থেমে ৪/৫ দফা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ,সংঘর্ষ,গোলাগুলি হয়েছে।এতে প্রায় ১৫ জন  আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ একজনসহ চারজনকে ভর্তি করা হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
 সংঘর্ষ চলাকালে  ব্যাপক ভাংগচুর হয়।বিপুল সংখ্যক পুলিশ এসে রাবার বুলেট ছুঁড়ে ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়নএনে আনে।এ ঘটনায় লালখান বাজার এলাকায় সাধারন মানুষ আতংকে রয়েছে। ওই এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন ।স্থানীয় বলছেন, এই দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রায় সংঘর্ষ হয়।
খুলশী থানার ওসি প্রণব চৌধুরী জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রের খবর, লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুম ও যুবলীগ নেতা আবুল হাসনাত বেলালের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গত শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বেলাল গ্রুপের যুবলীগ কর্মী সাইদুল ইসলামসহ তিনজনের ওপর আকস্মিক হামলা পরে সংঘষের সূত্রপাত। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন সাইদুল।এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে লালখান বাজার মোড়ে কর্ণার হোটেলের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে বেলালের অনুসারীরা।  মানববন্ধনে মিছিল নিয়ে আসার সময় তাদের ওপর ইটের টুকরো নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দও শোনা যায়। তখন মানববন্ধন ভ-ুল হয়ে যায়। দুই গ্রুপ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে।ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। পুলিশ লাঠিচাজের এক পর্যায়ে ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। এতে দুইপক্ষ ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। প্রায় ১৫ মিনিট পর তারা আবারও সংঘবদ্ধ হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু করলে পুলিশ মাসুমের অনুসারীদের লাঠিচার্জ করে বাঘঘোনার দিকে নিয়ে যায়।অন্যদিকে বেলালের অনুসারীরা দিদারুল আলম মাসুমের ব্যক্তিগত অফিসের সামনে জড়ো হয়ে ইট-পাথর নিক্ষেপ করে। মাসুমের অফিসের সামনে রাখা মোটর সাইকেলও তারা ভাঙচুর করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক মো. হামিদ জানান,লালখান বাজারের সংঘর্ষে আহতরা হলেন- মনির হোসেন (৪০), মো. সোহেল (২৩), মো. সুমন (১৮) ও ইমন হোসেন (১৭)।তৎমধ্যে মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (বায়েজিদ বোস্তামী জোন) পরিত্রাণ তালুকদার   বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলী ছুঁড়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ