সোমবার ২৫ মে ২০২০
Online Edition

জিয়াউর রহমানের কবর সরানোর বক্তব্য রাজনৈতিক দেউলিয়াপনারই বহিঃপ্রকাশ

স্টাফ রিপোর্টার: কারাবন্দী দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ‘প্যাকেজ কর্মসূচি’ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। গতকাল শনিবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এরকম কথাই জানান। তিনি বলেন, এই সভা অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্যে চলমান আন্দোলনকে আরো বেগবান করার জন্যে এবং অন্যান্য আইনত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
কবে নাগাদ আন্দোলনের কর্মসূচি আসবে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এ্ ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। আগামী চার সাপ্তাহের মধ্যেই এই কর্মসূচিগুলো আসবে।
খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন বেগবান করতে বিএনপি বিভাগীয় পর্য়ায়ে কর্মসূচি দেবে বলে সর্বশেষ ২২ জুন স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়। গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে বিকালে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির এই বৈঠক হয়। বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বরগুনায় রিফাত হত্যাকান্ড, ছাত্র দলের চনমান সংকটসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। লন্ডন থেকে স্কাইপেতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই বৈঠকে যুক্ত ছিলেন।
এই বৈঠকে মহাসচিব ছাড়াও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু  উপস্থিত ছিলেন।
বয়সসীমা তুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের আন্দোলনে সৃষ্ট সংকট সমাধানে কি হয়েছে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, এগুলোর বিষয়ে যাদের দায়িত্ব রয়েছে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। ছাত্রদলের ব্যাপারে যাদের দায়িত্ব আছে তারাই পরবর্তিতে আপনাদেরকে জানাবেন।
মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, উনি এই ধরনের কথা প্রায়ই বলেন, এই ধরনের কথা আগেও বলেছেন। আমরা মনে করি যে, তাদের যে রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা এসব তারই বর্হিপ্রকাশ। আমি মনে করি, এই ধরনের চিন্তা করাও রাজনৈতিক কোনো চিন্তা বলে মনে হয় না।
সংবাদ ব্রিফিং বিএনপি মহাসচিব বরগুনা রিফাত হত্যাকান্ডের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, সভায় রিফাত হত্যাকান্ডের নিন্দা জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিককালে এই ধরনের হত্যাকান্ড আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা সরকারের ব্যর্থতা ও উদাসিনতার পরিচয় দিচ্ছে বলে সভা মনে করে। যেহেতু এই সরকার জনগনের দ্বারা নির্বাচিত নয়, ফলে কোনো জবাবদিহিতা নেই। সেজন্য রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে বিগত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন সন্ত্রাস ও অস্ত্রেরমুখে জনগনের অধিকার হরণ করেছে সেহেতু রাষ্ট্রের প্রতি জনগনের আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে চলেছে এবং একটা চরম অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও  সমাজিক সংকট বিরাজ করছে দেশে। সভা মনে করে, এই সংকট নিরসনের একমাত্র উপায় হচ্ছে, যিনি সারা জীবন গণতন্ত্রের লড়াই করেছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ রাজনৈতিক কারনে যে সমস্ত নেতা-কর্মীদের বন্দি করে রাখা হয়েছে তাদের মুক্তি এবং অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সংসদ গঠন করা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ