সোমবার ২৫ মে ২০২০
Online Edition

প্রধানমন্ত্রীর হুশিয়ারীতেও সুদের হার কমেনি

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনতে শর্তানুযায়ী বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়েছে সরকার। ব্যাংক মালিকরা সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কথা রাখেননি ব্যাংক মালিকরা। অধিকাংশ ব্যাংকের সুদ হার দুই অংকের ঘরে। সুদ হার কমাতে সরকারের সব পদক্ষেপ ব্যর্থ। অর্থমন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভয়ভীতিরও কোনো তোয়াক্কা নেই। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর হুশিয়ারীতেও সুদের হার কমায়নি ব্যাংক মালিকরা। তবে এ অবস্থার জন্য তারল্য সংকটকে দায়ী করেছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট চলছে। এমনকি বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংকগুলোতেও এখন নগদ টাকার সংকট। নিয়ম মানতে গিয়ে ছোট ব্যাংকগুলোও পারছে না ঋণ বিতরণ করতে। এমন সংকটে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো উচ্চসুদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে বিশেষ রেপোতে অর্থ ধার নিচ্ছে। ফলে কলমানি ও আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে সুদহার বেড়েছে। আবার উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণেও ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এমতাবস্থায় ব্যাংক খাত ঠিক করতে বিভিন্ন সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে আইএমএফ।
জানা গেছে, দেশের বিনিয়োগে চলছে স্থবিরতা। কমেছে ঋণের প্রবৃদ্ধি। এ জন্য ঋণের উচ্চ সুদহারকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ী, বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা। তাই অর্থনীতির গতিধারা ঠিক রাখতে সুদহার এক অঙ্কে নামানোর নির্দেশনা দিয়েছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কঠোর হুঁশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী। কিন্তু কারও নির্দেশনাই আমলে নিচ্ছে না ব্যাংকগুলো।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে চলছে ব্যাংকের তারল্য সঙ্কট। ঋণের চাহিদাও বেড়েছে। এ ছাড়া খেলাপি বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে নগদ টাকার সঙ্কটে রয়েছে ব্যাংকগুলো। সুদহার কমাতে সরকারি উদ্যোগ ও ব্যাংকারদের নানামুখী তৎপরতায়ও কাজে আসছে না হু হু করে বেড়েই চলছে সুদহার। এটি বিনিয়োগের জন্য শুভকর নয়। এ প্রবণতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগে।
ব্যাংকিং খাত নিয়ে নানা আলোচনার পর গত বছরের ১৪ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করে বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তা-মালিকরা অঙ্গীকার করেছিলেন, ব্যাংক ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও ব্যাংকই সেই অঙ্গীকার পূরণ করেনি। সরকারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপের পরও ব্যাংক ঋণের সুদের হার কেন কমছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এজন্য ব্যাংক মালিকদের সমালোচনা করেছেন।
বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের চাপে সরকারি তহবিলের ৫০ ভাগ অর্থ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার নির্দেশনা দেয় সরকার। আগে এ হার ছিল ২৫ ভাগ। অর্থাৎ সরকারি তহবিলের অর্থ ৭৫ ভাগ থাকতো সরকারি ব্যাংকে এবং বাকি ২৫ ভাগ রাখা যেত বেসরকারি ব্যাংকে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকে রাখা ব্যাংকগুলোর নগদ জমা সংরক্ষণ (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও বা সিআরআর) এক শতাংশ কমিয়ে সাড়ে পাঁচ শতাংশ করা এবং এডিআর সমন্বয়ের সময়সীমা বাড়িয়ে ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বর্ধিত করা হয়েছে। তারপরও ঋণের সুদহার কমছে না।
গত ১৪ জুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ব্যাংকের যে সমস্যাটা, আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি যেন সিঙ্গেল ডিজিটে থাকে। আর এ সিঙ্গেল ডিজিটে রাখার জন্য আমরা কতকগুলো সুবিধাও দিলাম। কিন্তু অনেক বেসরকারি ব্যাংক সেটা মানেনি। এবারের বাজেটে সেটা বলাই আছে, নির্দেশনাও আছে। এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের এ নিয়মটা মেনে চলতে হবে যেন ঋণটা সিঙ্গেল ডিজিটে হয়। কোনোমতেই যেন ডাবল ডিজিটে না যায়।
এর আগে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার নিয়ে শিল্পমন্ত্রণালয়ের একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আমরা চেষ্টা করেছি। একবার উদ্যোগ নিলাম সঙ্গে সঙ্গে কথাও বললাম। বেশ কিছু সুযোগ সুবিধাও করে দিলাম। যেমন আগে আমাদের সরকারি প্রতিষ্ঠানের ৭০ ভাগ অর্থ সরকারি ব্যাংকে আর ৩০ ভাগ বেসরকারি ব্যাংকে রাখা হত। ব্যাংকের মালিকরা বললেন এটা যদি ফিফটি ফিফটি করে দেওয়া হয় তাহলে আমরা (সুদের হার) সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনব। সেটাও কিন্তু করে দিলাম। কিন্তু তারা সুদ হার কমাল না।
এদিকে তারল্য ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপকে কেন্দ্র করে সুদহার বাড়তে থাকায় তা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ৩০ মে এক নির্দেশনায় বলা হয়, ব্যাংকগুলো বিভিন্ন প্রকার ঋণের সুদহার ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি করছে। ঋণের সুদহার অযৌক্তিক মাত্রায় বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। তাই সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করতে ভোক্তা ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে স্প্রেড ৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। আগে যা ৫ শতাংশ ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৫৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে গত মে শেষে ৩১ ব্যাংকের ঋণের সুদহার দুই অঙ্ক ছাড়িয়েছে। বাকি অধিকাংশ ব্যাংকেই দুই অঙ্ক ছুঁই ছুঁই। তবে একক ঋণ হিসেবে ক্ষেত্রবিশেষ কোনো কোনো ব্যাংকের সুদহার সর্বোচ্চ ১৬ থেকে ১৭ শতাংশে পৌঁছে গেছে।
সর্বশেষ গত ২০ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ একটি সার্কলার জারি করে। এতে বলা হয়, যেসব ব্যাংক ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে পারবে না; ওই সব ব্যাংকের সরকারি আমানত রাখা হবে না। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীও একাধিকবার সুদহার কমিয়ে আনতে বলেছেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে ব্যর্থ ব্যাংকগুলো সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর আমানত পাবে না। যেসব ব্যাংক এরই মধ্যে ৯ শতাংশে ঋণ দিচ্ছে, তারাই পাবে এ আমানত। তবে আমানতের সুদের হার হতে পারবে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংক খাতে আমানতের সর্বোচ্চ সুদ ১০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ঋণের সুদ ২০ দশমিক ৫ শতাংশ।
এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, আমানত সঙ্কটের কারণে সুদহার কাঙ্খিত পর্যায়ে নামানো যাচ্ছে না। সিঙ্গেল ডিজিটে সুদহার নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। অনেক ক্ষেত্রে কমানোও হয়েছে। তবে বাস্তবিক কারণে পুরোপুরি কমানো যায়নি। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে আমানতের সঙ্কট। এছাড়া খেলাপি ঋণ বাড়ায় প্রভিশন রাখতে গিয়ে অর্থ সঙ্কটে পড়ছে। সব মিলিয়ে সুদহার কমাতে সমস্যা হচ্ছে। তবে চেষ্টা চলছে তারল্য সঙ্কট কমলে সুদহার কমে যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ মে মাসের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঋণের সুদহার দুই অঙ্কে রয়েছে ৩১ ব্যাংকের। এর মধ্যে বিদেশি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের ঋণের সুদহার ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন ১০ দশমিক ১১ শতাংশ এবং ব্যাংক আল ফালাহ ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ।
বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সিটি ব্যাংকের ১০ দশমিক ৯৮ শতাংশ, আইএফআইসি ১১ দশমিক ৮৭ শতাংশ, ইস্টার্নে ১০ দশমিক ৯৫ শতাংশ, এনসিসির ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংক ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ, সাউথ ইস্ট ১০ দশমিক ০৬ শতাংশ, ঢাকা ব্যাংকের ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ, স্যোসাল ইসলামী ব্যাংকের ১০ দশমিক ৫১ শতাংশ, ডাচ্-বাংলায় ১০ দশমিক ৩২ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ডে ১১ দশমিক ০৪ শতাংশ, ওয়ান ব্যাংক ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ, এক্সিমের ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ, প্রিমিয়ারে ১১ দশমিক ২৭ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের ১১ দশমিক ৫৫ শতাংশ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ১০ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যমুনা ব্যাংকের ১১ দশমিক ১৩ শতাংশ, ব্র্যাক ব্যাংক ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ, এনআরবি কমাশিয়াল ব্যাংক ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ, মেঘনা ১১ দশমিক ৬ শতাংশ, মিডল্যান্ড ব্যাংক ১২ দশমিক ২৭ শতাংশ, পদ্ম ব্যাংক (সাবেক ফামার্স ব্যাংক) ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ, ইউনিয়ন ব্যাংক ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ, এনআরবি ব্যাংক ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ, এরআরবি গ্লোবাল ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ ও মধুমতি ব্যাংক ১২ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মিশন প্রধান ডাইসাকু কিহারা বলেন, উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তাই এ খাত ঠিক করতে বিভিন্ন সংস্কারের প্রয়োজন। এশিয়া এবং প্যাসিফিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাইসাকু কিহারার নেতৃত্বে আইএমএফের আর্টিকেল-৪ এর ছয় সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দল ১৬-২৭ জুন পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে।
তিনি বলেন, উচ্চ মধ্যম আয়ের অবস্থানে পৌঁছাতে বাংলাদেশের উচ্চাকাঙ্খা আছে। এ ক্ষেত্রে টেকসই এবং স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা প্রধান চ্যালেঞ্জ। দেশের ব্যাংকিং খাতে ধস অব্যাহত রয়েছে। ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করছে। এছাড়া রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা দেশের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ। ব্যাংকের নাজুক অবস্থায় কাঙ্খিত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। এটি কমিয়ে আনতে হবে। খাতটির দুর্বলতা দূর করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার করতে হবে।
ডাইসাকু বলেন, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে। খেলাপি ঋণ কমাতে ‘টাইম-বাউন্ড’ কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। ব্যাংকিং সুপারভিশন বাড়াতে হবে, খেলাপিদের আইনি সহায়তা বন্ধ করতে হবে। খেলাপিদের পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন নীতিমালা আরও কঠোর করা দরকার। সর্বক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি ব্যাংকসহ সব ব্যাংকগুলোতে সংস্কারের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বাড়াতে হবে।
বিভিন্ন ব্যাংকের এমডিদের মতে, ব্যাংক খাতে এখন সবচেয়ে খারাপ সময় যাচ্ছে। একদিকে আমানত সংগ্রহে বেশি সুদ গুনতে হচ্ছে, অন্যদিকে ঋণ আদায়ও বাড়ানো যাচ্ছে না। এতে তারল্য সংকট বাড়ছে, ফলে কমছে বিনিয়োগযোগ্য তহবিল। এ অবস্থায় ব্যাংকগুলো মুদ্রাবাজার থেকে তাদের ধার করার প্রবণতা বাড়িয়ে দিয়েছে। বাড়ছে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে সুদের হার যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এদিকে ঋণখেলাপিদের নানা সুযোগ দেয়ার ঘোষণায় ঋণ পরিশোধে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ছেন কিছু উদ্যোক্তা। যারা এত দিন নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করতেন তাদের অনেকেই হঠাৎ করে ঋণ পরিশোধ বন্ধ করে দিয়েছেন। সবমিলে ব্যাংকে নগদ আদায়ের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ব্যাংকের নগদ আদায় কমে যাওয়ায় মহাবিপাকে পড়েছে কিছু ব্যাংক। যারা অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে (ওবিইউ) বৈদেশিক মুদ্রায় বেশি বিনিয়োগ করেছেন ওই সব ব্যাংক মেয়াদ শেষে বৈদেশিক মুদ্রায় দায় পরিশোধ করতে বেকায়দায় পড়ে গেছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় দুঃসময় যাচ্ছে। ধীরে ধীরে তা আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। কিছুদিন আগেও দেশের অন্যান্য খাতের তুলনায় ব্যাংক খাত ছিল অপেক্ষাকৃত সুশৃঙ্খল। কিন্তু এই খাতে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে ব্যাংক খাত চাপের মুখে পড়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ