রবিবার ১১ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

রাজধানীর ফুটওভারব্রিজ

নিরাপদে সড়ক পার হওয়ার জন্য রাজধানীতে নির্মিত ফুটওভারব্রিজগুলো যাদের ব্যবহার করার কথা সেই সাধারণ মানুষেরা খুব কমই এগুলো দিয়ে যাতায়াত করেন। অধিকাংশ নারী-পুরুষ বরং ফুটওভারব্রিজের ধারেকাছেও যান না। তারা যথারীতি ব্যস্ত এবং বেপরোয়া যানবাহনের কারণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দিয়েই একপাশ থেকে অন্যপাশে যাতায়াত করেন। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে যখন-তখন। বহু মানুষ আহত হন, অনেকে প্রাণও হারান। 

গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত রিপোর্টে এমন অবস্থার কারণ জানাতে গিয়ে বলা হয়েছে, রাজধানীর প্রায় সব ফুটওভারব্রিজই মাদকাসক্ত ও সন্ত্রাসী-দুর্বৃত্তদের দখলে চলে গেছে। ভাসমান পতিতারাও এগুলোকে নিজেদের আখড়ায় পরিণত করেছে। প্রতিটি ফুটওভারব্রিজেই তৎপর রয়েছে তারা। সব মিলিয়ে অবস্থা এমন হয়ে পড়েছে যে, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কোনো সময়ই সাধারণ মানুষে পক্ষে নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে কোনো ফুটওভারব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করা সম্ভব হয় না। কারণ, তাদের ওপর হামলা হয়, তাদের টাকা-পয়সা ছিনতাই করা হয়। বিশেষ করে নারীদের শুধু উত্ত্যক্তই করা হয় না, শারীরিকভাবেও লাঞ্ছিত করা হয়। এক কথায়, নারীরা ভীষণ বিপন্ন হয়ে পড়েন। 

উল্লেখিত দৈনিকটির রিপোর্টে জানানো হয়েছে, রাজধানীতে উত্তর ও দক্ষিণÑ এই দুই সিটি করপোরেশনের নির্মিত ফুটওভারব্রিজের সংখ্যা ৮৪। তথ্যাভিজ্ঞরা জানিয়েছেন, দুর্বৃত্ত ও ভাসমান পতিতাসহ অপরাধীদের দখল ও তৎপরতার পাশাপাশি ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার না করার অন্য একটি প্রধান কারণ হলো, এমন সব স্থানেই এগুলো নির্মিত হয়েছে, যেসবস্থান পথচারীদের জন্য সুবিধাজনক নয়। অর্থাৎ এসব ফুটওভারব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করলে তাদের গন্তব্যে পৌঁছানো সহজ হয় না। সময়ও অনেক বেশি লেগে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের সামনের ব্রিজের পাশাপাশি আজিমপুর গার্লস কলেজ, কলাবাগান বাস স্টপেজ, মিরপুর ১৩ নম্বরের ন্যাম গার্ডেন, মিরপুর রোডে টেকনিক্যালের মোড় এবং উত্তরাসহ বেশ কয়েকটির নাম উল্লেখ করে রিপোর্টে জানানো হয়েছে, দিনের বেলায় হকার, মাদকাসক্ত ও ভিক্ষুকরা এবং রাতের বেলায় পতিতারা দখল করে রাখে বলে ছিনতাইসহ নিরাপত্তাহীনতার ভয়ে সাধারণ মানুষ এসব ব্রিজের ধারেকাছেও যান না।

ব্রিজগুলোর নির্মাণেও অনেক ত্রুটির কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে লোহার সিঁড়িগুলোর প্রতিটি ধাপ এত বেশি উঁচু যে, বয়স্কদের পক্ষে ওঠানামা করা মোটেই সম্ভব নয়। তাছাড়াও সিঁড়িতে রয়েছে অনেক গর্ত ও ফাঁক। এসব গর্ত ও ফাঁকে পা আটকে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে অনেকেই আহত হয়েছেন। অনেকের কাপড় ছিড়ে গেছে। এ ধরনের বিভিন্ন কারণেও পথচারীরা সহজে ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করেন না।

দৈনিকটির রিপোর্টে অন্য একটি তথ্যেরও উল্লেখ রয়েছে। সে তথ্যটি হলো, হকার, মাদকাসক্ত, ভাসমান পতিতা ও দুর্বৃত্তসহ যে অপরাধীরা ফুটওভারব্রিজগুলোকে দখল করে নিয়েছে পুলিশ এবং ক্ষমতাসীন দলের গুন্ডা-মাস্তানরা নাকি তাদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে। কেউ সাপ্তাহিক ভিত্তিতে, কেউ আবার মাসিক বা পাক্ষিক ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণে টাকা দিয়ে থাকে। মূলত সে কারণেই কোনো একটি ফুটওভারব্রিজকেই সাধারণ মানুষের জন্য যাতায়াতের উপযোগী করে তোলা সম্ভব হচ্ছে না।

আমরা এমন অবস্থার অবসান ঘটানোর জন্য দুই সিটি করপোরেশনসহ সরবকারের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানাই। সিটি করপোরেশন এবং সরকারের উচিত পতিতা ও দুর্বৃত্তসহ সকল দখলদারকে উচ্ছেদ করা, চাঁদাবাজ পুলিশ ও দলীয় ক্যাডারদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া এবং নিয়মিত নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে রাজধানীর ফুটওভারব্রিজগুলোকে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদে চলাচলের উপযোগী করে তোলা। বিষয়টির প্রতি জরুরিভিত্তিতে দৃষ্টি দেয়া হবে বলে আমরা আশা করতে চাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ