মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০
Online Edition

প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির আলোকে শিক্ষা পরিকল্পনা ১০০% বাস্তবায়ন করতে হবে  -আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন   

বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় জেনারেল সেক্রেটারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য অধ্যাপক এ.বি.এম ফজলুল করিম ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ নিয়ে এক বিবৃতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ২০১৯-২০ অর্থ বছরের শিক্ষা বাজেট মোট ৮৭ হাজার ৫২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যা মোট বাজেট বরাদ্দের ১৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ, এটা জিডিপির ৩ দশমিক ০.৪ শতাংশ। অধ্যাপক ফজলুল করীম উক্ত বাজেট ১০০% বাস্তবায়ন করার জন্য সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নিকট উদাত্ত আহবান জানান। এটি এখন পর্যন্ত বাজেট শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ। গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিল ৫৩ হাজার ৫৪ কোটি টাকা। তিনে বলেন, বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেখে আশাবাদী হওয়ার মতন কিছু নাই। এতে শিক্ষা জাতীয় করণের কোন প্রস্তাব নাই বরং শিক্ষক আমদানির ঘোষণা দিয়ে শিক্ষকদের মাঝে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এ প্রস্তাবের তীব্র বিরোধী করে বলেছেন, দেশেই যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষক রয়েছে। সুতরাং সরকারের উচিত যে শিক্ষকদের সুযোগ বৃদ্ধি করা।

২০১৯-২০ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত শিক্ষা বাজেটে উপযুক্ত শিক্ষক বাছাই ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে মাথায় রেখে শ্রেণি কক্ষে “মডেল শিক্ষা” বাস্তবায়ন করার বিষয়েও জোর দেয়া হয়েছে। তিনি বলে আমরা আশা করি ১০০% শিক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। ন্যানো টেকনোলোজি, রোবটিক্স, ব্লক চেইন ম্যানেজমেন্ট, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিষয়ে জোর দেয়ার কথাও জানানো হয়েছে। সেই লক্ষ্যে “ডিজিটাল প্রাথমিক শিক্ষা” নামে একটি পাইলট প্রকল্পের কথা জানানো হয়েছে। এতে ৫০৩টি মডেল বিদ্যালয়ে ইন্টার‌্যাক্টিভ ক্লাসরুম তৈরি ১০০% বাস্তবায়ন করার প্রস্তুতি নেয়ার প্রতিও অধ্যাপক ফজলুল করিম আহ্বান জানান।

অধ্যাপক এ.বি.এম ফজলুল করিম আরোও বলেন, শিক্ষা খাতে যতটুকু প্রাপ্তি হয়েছে এটি সময় উপযোগী না হলেও এর যাতে যথাযথ বাস্তবায়ন হয় তার প্রতি জোর দিতে হবে। তিনি বলেন আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলোতে শিক্ষা খাতে যেমন বেশি বরাদ্দ দেয়া হয় তেমনি এর বাস্তবায়নও করা হয় দ্রুত। শিক্ষা খাতে বাজেটে যেন কোন ধরনের দুর্নীতি না হয় তার জন্য সরকারকে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে। নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত এমপিওভুক্ত করতে হবে। স্বতন্ত্র এফতেদায়ী মাদরাসাগুলোকে জাতীয় করণসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকারি করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শিক্ষা উপকরণ এর দাম কমাতে হবে। শিক্ষকদের মান বৃদ্ধির জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি পদ্দোন্নতির বৈষম্য দূর করতে হবে। শিক্ষকদের জন্য গ্রাচুইটি, সংস্কৃতি ছুটি ও প্রাইভেট মান আরো বাড়াতে হবে। চাকুরির শেষে যাতে সহজে আর্থিক বিষয় উত্তোলন করা যায় তার জন্য বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সর্বপরি তিনি বলেন শিক্ষা খাতে যতটুক বাজেট প্রত্যাশা ছিল প্রাপ্তি ততটুক না হলেও বরাদ্দ যা হয়েছে তার যেন যথাযথ ১০০% বাস্তবায়ন করা হয়। সেই জন্যে সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে শুরু থেকে যথাযথ উদ্যেগ নেয়ার জন্য অধ্যাপক এ.বি.এম ফজলুল করিম উদাত্ত আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ