শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বাংলাদেশের দুরন্ত জয়

ওয়েস্ট ইন্ডিজ-৩২১/৮ (৫০ ওভার)

বাংলাদেশ- ৩২২/৩ (৪১.৩ ওভার)

বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী

রফিকুল ইসলাম মিঞা : বিশ্বকাপে টিকে থাকার ম্যাচে ঠিকই জ্বলে উঠল বাংলাদেশ। গতকাল রেকর্ড গড়েই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছে টাইগাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেয়া ৩২২ রানের বিশাল টার্গেট পেয়েও ম্যাচ জিতলো সহজ করে। এবারের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বাংলাদেশ পেয়েছিল প্রথম জয়। গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দ্বিতীয় জয় পেল টাইগাররা। গতকাল টাইগারদের সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশাল টার্গেট দিয়েও ম্যাচ জিততে পারেনি। সাকিবের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। আগে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ উইকেটে করেছিল ৩২১ রান। জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে টার্গেট ছিল ৩২২ রান। এই কঠিন টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে সাকিবের সেঞ্চুরিসহ ১২৪ রান  আর লিটন দাসের অপরাজিত ৯৪ রানের উপর ভর করে  বাংলাদেশ ৪১.৩ ওভারে মাত্র ৩ উইকেটে ৩২২ রান করে ম্যাচ জিতে নেয় ৭ উইকেটে। ওয়ানডে ক্রিকেটে এতদিন সর্বোচ্চ ৩১৮ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ছিল বাংলাদেশের। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এসেছিল সে জয়। গতকাল নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩২১ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড করলো টাইগাররা। ম্যাচে অলরাউন্ডার পারফরমেন্স করে সাকিব আল হাসান ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন।  এই জয়ে বিশ্বকাপের সেমিতে উঠার দৌড়ে টিকে রইল বাংলাদেশ। কারণ ৫ ম্যাচ শেষে ৫ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে অস্ট্রেলিয়া,নিউজিল্যান্ড, ভারত আর ইংল্যান্ডের পরেই বাংলাদেশের স্থান। 

জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে ৩২২ রানের টার্গেটটা কঠিনই ছিল। তবে ব্যাট করতে নেমে এই কঠিন কাজটা সহজ করে ফেলে টাইগাররা। ওপেনিং জুটি ভাংগার আগেই দলকে ৫২ রানে নিয়ে যায় তামিম-সৌম্য জুটি। রাসেল এর বলে গেইলকে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে সৌম্য করেন ২৯ রান। ২৩ বলে ২ চার আর ২ ছক্কায় সাজানো ছিল সৌম্য সরকারের ইনিংসটি। ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে নেমে সাকিব আল হাসান ওপেনার তামিমের সাথে জুটি করে দলকে এগিয়ে নেন টার্গেট রানের দিকে। তামিমের বিদায়ে দলীয় ১২১ রানে ভাংগে এই জুটি। রান আউট হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে তামিম ৫৩ বলে ৬ বাউন্ডারিতে করেন ৪৮ রান। মাত্র দুই রানের জন্য হাফসেঞ্চুরি করতে পারেননি তামিম। ব্যাট করতে নেমে মোটেও ভালো করেননি মুশফিকুর রহিম। মাত্র এক রান করে থমাসের বলে আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন। তবে ব্যাট করতে নেমে সাকিবের সাথে জুটি করে লিটন দাস দলকে টার্গেটের পথেই রাখেন। তামিম ২ রানের জন্য হাফসেঞ্চুরি করতে না পারলেও সেঞ্চুরি করে দলকে ঠিকই এগিয়ে নিয়েছেন সাকিব। মাত্র ৮৩ বলে ১৩ চার আর ৪ ছক্কায় সেঞ্চুরি করে এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। ফলে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে দেশের পক্ষে বিশ্বকাপে ‘ব্যাক টু ব্যাক’ সেঞ্চুরি করলেন সাকিব আল হাসান। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ২০১৫ বিশ্বকাপে ‘ব্যাক টু ব্যাক’ সেঞ্চুরি করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২১ রানের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পেলেন বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ওশান টমাসকে চার মেরে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৯ম সেঞ্চুরি করেন সাকিব। এই ম্যাচ দিয়ে আবার বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান করার তালিকাতেও সবার উপরে ওঠে এসেছেন সাকিব। সাকিব এবার এবার পেছনে ফেলেছেন অ্যারন ফিঞ্চকে। আর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৬ হাজার রান স্পর্শ করেন সাকিব। এই মাইলফলক থেকে ২৩ রান দূরে থেকে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। গতকাল ওশানে থমাসের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ৬ হাজারী ক্লাবে পৌছান সাকিব। সাকিবের আগে একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে এই কীর্তিটি ছিল তামিমের। এই জুটি ভাংগার আগেই বাংলাদেশ ৩ উইকেটে টার্গেট ৩২২ রান করে ম্যাচটা নিজেদের করে নেয়। জয়ের জন্য বাংলাদেশকে খেলতে হয়নি পুরো ৫০ ওভার ওভার। মাত্র ৪১.৩ ওভারেই টার্গেট রানে পৌছে গেছে বাংলাদেশ। সাকিব ৯৯ বলে ১৬ চারে সেঞ্চুরিসহ ১২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। লিটন দাস ৬৯ বলে ৮ বাউন্ডারি আর ৪ ছক্কায় ৯৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। মাত্র ৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি করতে পারেননি লিটন। তবে দলের জয়ের পথে বড় অবদান রাখেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে রাসেল আর থমাস নেন একটি করে উইকেট। এরআগে, প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে  ৮ উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করে ৩২১ রান। টস হেরে আগে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে শুরুটা কিন্তু ভালো হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। শুরুতেই দলের সেরা ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইলকে শুন্য রানে আউট করে চমক দেয় বাংলাদেশ। কিন্তু ক্রিস গেইলকে দ্রুত আউট করার পরও এত বড় স্কোর গড়বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তা কেউ ভাবেনি। দলীয় ৬ মাত্র রানে সাইফউদ্দিনের বলে গেইলকে ফিরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে কম রানে আটকে রাখার চেস্টা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি বাংলাদেশের। কারণ গেইল আউট হলেও শাই হোপ, লুইস, হেটমায়ার, হোল্ডার আর পুরানের ব্যাটিং তান্ডবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ঠিকই স্কোরটা নিয়ে গেছে তিনশত রানের উপরে। দলীয় ৬ রানে গেইল আউট হলেও এভিল লুইস আর শাই হোপ মিলে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দলকে নিয়ে গেছে ১২২ রানে। দলীয় ১২২ রানে লুইসকে ফিরিয়ে এই জুটির ভাংগন ধরান সাকিব আল হাসান। আউট হওয়ার আগে লুইস করেন ৭০ রান। ৬৭ বলে ৬ চার আর ২ ছক্কায় সাজানো ছিল লুইস এর ইনিংসটি। ব্যাট করতে নেমে পুরানও চেস্টা করেছেন দলকে এগিয়ে নিতে। কিন্তু দলীয় ১৫৯ রানে পুরানকে ফিরতে হয় সাকিবের বলে সৌম্য সরকারকে ক্যাচ দিয়ে। আউট হওয়ার আগে পুরান ৩০ বলে করেন ২৫ রান। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ব্যাট করতে নেমে হেটমায়ার শুরু করেন ঝড়ো ব্যাটিং। শাই হোপের সাথে জুটি করে দলকে বড় স্কোরের পথে এগিয়ে দেয় এই জুটি। এই জুটি ভাংগার আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ পৌছে যায় ২৪২ রানে। এই জুটির সংগ্রহ ৮৩ রান। ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলা হেটমায়ারকে বিদায় করে ভয়ংকর হয়ে উঠা এই জুটির পতন ঘটান মোস্তাফিজুর রহমান। তবে আউট হওয়ার আগেই মাত্র ২৬ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় ৫০ রান করে বিদায় হন হেটমায়ার। ব্যাট করতে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই মোস্তাফিজের দ্বিতীয় শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন আন্দ্রে রাসেল। ফলে ২৪৩ রানে দলটি হারায় ৫ উইকেট। শুন্য রানে রাসেল আউট হলেও ব্যাট করকে নেমে ব্যাটিং তান্ডব চালান হোল্ডার। সাইফউদ্দিনের বলে আউট হওয়ার আগে মাত্র ১৫ বল খেলে চার বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় করেন ৩৩ রান। টিতে থেকে ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে নামা শাই হোপ সেঞ্চুরির পথেই হাটছিলেন। কিন্ত মোস্তাফিজ শেষ পর্যন্ত তাকে সেঞ্চুরির আশা পূরন করতে দেননি। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৪ রান দুরে থাকতে বিদায় নিতে হয় হোপকে। আউট হওয়ার আগে হোপ ১২১ বলে চার বাউন্ডারি আর এক ছক্কায় করেন ৯৬ রান। হোপ সেঞ্চুরি করতে না পারলেও দলকে টিকই বড় স্কোরে নিয়ে গেছেন। ব্যাট করতে নেমে কম যাননি ব্র্যাভোও। মাত্র ১৫ বলে ১৯ রান করে সাইফউদ্দিনের বলে বোল্ড হওয়ার আগে দলকে নিয়ে গেছেন তিনশত রান পেরিয়ে ৩২১ রানে। শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ উইকেটে করে ৩২১ রান। থমাস ৬ রানের অপরাজিত ছিলেন।  বাংলাদেশের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও  মোস্তাফিজুর রহমান। দুটি নেন সাকিব আল হাসান।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ