বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বাজেটে কালো টাকা ঋণখেলাপি ও ব্যাংক চার্জের বর্ধিত মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ 

স্টাফ রিপোর্টার: জনগণের মধ্যে করপ্রদানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জাগ্রত করুন শিরোনামে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা বলেছেন, দেশে বর্তমানে চলমান টাকা পাচার, কালো টাকা, ঋণখেলাপি ও ব্যাংক চার্জের বর্ধিত মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এসব সংকট মোকাবেলায় তারা আর্থিক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অগ্রাধিকার ভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। অভিযোগ গ্রহন নীতিমালা, সিটিজেন চার্টার ও সরকারী কর্মকর্তাদের আচরণবিধি গ্রহিতা পর্যায়ের জনগণের সামনে প্রকাশ করার মাধ্যমে সরকারের মৌলিক সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের জবাবদিহিতা বৃদ্ধির দাবিও জানান বক্তারা। তৃণমূল পর্যায়ে গণশুনানি এবং সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ততার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, এতে কর প্রদানে জনগণের রাজনৈতিক সদিচ্ছা সৃষ্টি হবে পাশাপাশি সেবা প্রদান পর্যায়ে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। এভাবেই করভিত্তিক রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে এবং তা শেষ পর্যন্ত সরকারের রূপকল্প ২০২১ এবং২০৪১ বাস্তবায়ন তরান্বিত করবে।

গতকাল সোমবারন ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক সমাজ, শ্রমিক ও কৃষক সংগঠনসমূহের নেটওয়ার্ক সংগঠন ইক্যুইটিবিডি’র উদ্যোগে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ক্তারা এইসব কথা বলেন।  ২০১৯-২০ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় আওতা বাড়ালেই কর আদায় নিশ্চিত হবেনা: জনগণের মধ্যে করপ্রদানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জাগ্রত করুন শিরোনামে একটি সাংবাদিক সম্মেলন আয়োজন করে।

সাংবাদিক সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কোস্টের উপ-পরিচালক আহসানুল করিম এবং সঞ্চালনা করেন ইক্যুইটিবিডি চিফ মডারেটর জনাব রেজাউল করিম চৌধুরী। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইক্যুইটিবিডি-র সৈয়দ আমিনুল হক, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ইউনিটি-র সালাহউদ্দিন বাবলু এবং বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের বদরুল আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক মোস্তফা কামাল আকন্দ।

মূল বক্তব্য উপস্থাপনের সময় জনাব আহসানুল করিম জনগণের প্রতি সরকারী সেবার জবাবদিহিতা ও জনগণের করপ্রদানের রাজনৈতিক সদিচ্ছা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যেসব দাবি উত্থাপন করেন তার মধ্যে রয়েছে (১) সকল পর্যায়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সকল মৌলিক সেবার জবাবদিহিতা ব্যবস্থার পর্যালোচনা করতে হবে ও তা বৃদ্ধি করতে হবে। (২) ইউনেস্কো ও ডব্লিউএইচও-র মানদন্ডের তুলনায় বাংলাদেশের বর্তমান বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ এখনও অনেক কম, তা মানসম্পন্ন পর্যায়ে উন্নীত করতে হবে। (৩) ব্যাংকের ফি পদ্ধতি পর্যালোচনা করতে হবে এবং সুদের হার এক অঙ্কের ঘরেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। (৪) বাংলাদেশ এখনও অবৈধ অর্থ পাচারের শীর্ষে রয়েছে, যেখানে ভারত সম্প্রতি তা অনেক হ্রাস করেছে। এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ইক্যুইটিবিডি-র সৈয়দ আমিনুল হক তার বক্তব্যে বলেন, জাতীয় সংসদে বাজেট বাস্তবায়নে প্রতি তিনমাসে একবার পর্যালোচনা করতে হবে। তিনি প্রস্তাব করেন, সংসদ সদস্যগণ তার এলাকায় জনগণের করপ্রদানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা বৃদ্ধিতে উম্মুক্ত গণশুনানি আয়োজন করতে পারেন। জনগণের করপ্রদানে অনীহার কারণগুলোও সেখানে তারা শুনতে পাবেন। 

সাংবাদিক সালাহউদ্দিন বাবলু বলেন, আমাদের দেশে বাজেট প্রস্তুতিতে সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহন নেই বললেই চলে। কিন্তু, জনপ্রতিনিধি হিসেবে বাজেটে তাদের ভূমিকা থাকতে হবে। তিনি বলেন, ভ্যাট একটি পরোক্ষ কর যা আদায় করা সহজ কিন্তু জনগণের জন্য তা নিবর্তনমূলক। উন্নত দেশে প্রত্যক্ষ কর অর্থাৎ আয়কর ও সম্পদ কর আদায়ে বেশি জোর দেয়া হয়। তিনি বলেন, বাজেট ঘাটতির ভার শেষ পর্যন্ত জনগণকেই বহন করতে হবে।

রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চারটি মূলনীতির একটি হচ্ছে সমাজতন্ত্র যা আমাদের জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল। সাম্যতার নীতি, ন্যায্যতাভিত্তিক পুনর্বণ্টন এবং সামাজিক কল্যানই ছিল সেই মূলনীতির মূল ভিত্তি। জনগণের কাছে সর্বোচ্ছ জবাবদিহিতাই এর মূল চেতনা, বাংলাদেশের বাজেট প্রস্তুতিতে যার উপস্থিতি খুবই কম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ